সু-স্বাস্থ্যই সুখ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৫ জুলাই ২০১৭, সোমবার: আলম বাবু মাসে ৩০ দিনে ২০ দিনই অসুস্থ সুস্থ থাকেন। তাই আমরা তার নাম দিয়েছি ১২ মাসিক রোগী। অনেকেই অনেক কথা বলে, যার কারনে আলম বাবু একেবারেই সুখি নয়। হবেই বা কেমন করে, তিনি যে তার সুস্থতা নিয়ে একেবারেই ভাবেন না।
আপনার জীবন কতটা আনন্দময় হবে তা নির্ভর করে আপনার শারীরিক সুস্থতার উপর। সুস্থ্যতা শব্দটি আপনার জন্য তখনই সহজ হবে যখন আপনি নিয়মিত জীবনযাপন করবেন। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে , “সু-সাস্থই সকল সুখের মুল”। এই কথাটি আমরা কম বেশি সবায় জানি। কিন্তু কয়জন পারেন নিজেকে সুস্থ্য রাখতে? আদিকাল থেকে মানুষ সুস্থ থাকার জন্য কতো কিছু করে আসছেন। কিন্তু কিছু কিছু মুল বিষয় আছে, যা মেনে চললে আমরা সহজেই সুস্থ থাকতে পারি। চলুন এমন কিছু সু-স্বাস্থ্য বটিকা নিয়ে আলোচনা করা যাক।
ঘুম: প্রতিদিন আমাদের নন্যূতম ৬ ঘন্টা ঘুমানোর অভ্যাস করার প্রয়োজন। কারণ ৬ ঘন্টা ঘুমানো একজন সাধারণ মানুষের শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য জরুরী। বেশি রাত করে না ঘুমিয়ে রাতের খাবারের ২ ঘন্টা পর ঘুমিয়ে পরুন এবং ভোরে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। প্রথমে একটু কষ্ট হলেও পরে এটাকে ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত করবার চেষ্টা করুন।
শারীরিক ব্যায়াম: প্রতিদিন কমপক্ষে আধাঘণ্টা শারীরিক ব্যায়াম করুন। আর ব্যায়াম করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে সকাল বেলা। তবে বিশেষ কারণে প্রতিদিন সকালে শরীরচর্চা সম্ভব না হলে প্রতিদিন বিকেলে হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। আজকাল স্বাস্থ্যসচেতন অনেক নারী-পুরুষকে জীমে যেতে দেখা যায়। তবে জীমের যন্ত্রপাতি ব্যবহারে প্রশিক্ষকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। শারীরিক ব্যায়াম আপনাকে নিচের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সাহায্য করবে:
১। ভালোভাবে ঘুমাতে পারবেন।
২। সচল থাকবেন।
৩। মজবুত হাড় এবং শক্তিশালী পেশি গড়ে তুলতে পারবেন।
৪। ওজন ঠিক রাখতে অথবা ওজন সঠিক মাত্রায় নিয়ে আসতে পারবেন।
৫। বিষন্নতা রোগের ঝুঁকি কমাতে পারবেন।
৬। অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে পারবেন।
খাবারঃ সকালের খাবারের তালিকায় রাখুন রুটি এবং সবজি। তবে সঙ্গে ফল থাকলেও সমস্যা নেই। শাকসবজি ও ফলমূল বেশি পরিমানে খাবেন। সব ধরনের ফাস্টফুড ও তৈলাক্ত খাবার থেকে বিরত থাকতে চেষ্টা করুন। কারণ, এগুলো আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াবে। শর্করাজাতীয় খাবার কখনো বেশি পরিমাণে না খাওয়া ভাল। সপ্তাহে দুদিনের বেশি গোশত না খাওয়াটাই স্বাস্থ্যসম্মত। অনেকে কোমল পানীয় পান করতে খুব পছন্দ করেন। এতে প্রচুর ফ্যাট থাকে। তাই কোমল পানীয় বেশি খাওয়া উচিত নয়।
খাবার পানিঃ পানির অপর নাম জীবন। আর তাই এই ব্যপারে সচেতন হওয়া আমাদের একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ রাখুন যাতে পানীয় জল ও খাবার বাসনপত্র ধোয়ার অথবা রান্না করার পানি নিরাপদ উৎস থেকে আসে। কোনো কারণে যদি জল দূষিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে সেই পানি ব্যবহার করার আগে ফুটিয়ে নিন কিংবা ফিল্টার পদ্ধতির মাধ্যমে পানি পরিশোধন করে নিন। পানির ফিল্টার এর ক্ষেত্রে গুণগত ও মানসম্পন্ন পানির ফিলটার ব্যবহার করুন।
ধূমপান পরিহারঃ উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হলেও ধূমপান হৃদরোগের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। ধূমপান বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগের কারণ। এর মধ্যে ফুসফুস জনিত রোগ, মস্তিস্ক জনিত রোগ অন্যতম। তাই ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন।

মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যই হচ্ছে সকল সুখের মূল। আর সেই সুখটাকে ধরে রাখতে হলে অবশ্যই আপনার নিজের স্বাস্থ্যের যতেœর ব্যাপরে সচেতন হতে হবে। আপনার স্বাস্থ্যের যতœ আপনাকেই নিতে হবে। আপনার স্বাস্থ্য এমন বিষয়গুলো দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে যার উপর আপনার হাত নেই। কিন্তু পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন উপরিউক্ত পরার্মশগুলোর মধ্যে কিছু পরার্মশ আপনি কাজে লাগিয়ে আপনি নিজেকে অনেকটাই সুস্থ রাখতে পারেন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*