‘সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৫ জুলাই: ভারত-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সম্মেলন-২০১৬-এ বক্তারা বলেছেন, সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বিপথগামী থেকে Literature Conference News-25.07.16রক্ষা করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সাহিত্য-সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সকল কবি সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ভারত বাংলাদেশের অনেক বড় বড় ইতিহাস সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মীদের গড়া অর্জন। আমাদেরকে অতীত গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। বাংলা সাহিত্যের হারিয়ে যাওয়া গান, নাটক, কবি গান, পুঁথি গান, জারি, সারিগান, মারফতি, লোকগান, ভাটিয়ালী গান, সুফীতত্ত্ব, ধর্মতত্ত্ব গানগুলোকে চর্চার মাধ্যমে সাহিত্য প্রেম সৃষ্টি করতে হবে। মরণ ছোবল মাদক থেকে রক্ষা, জঙ্গিবাদ থেকে রক্ষা করতে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঘটনায় নিহতদের স্মরণ করে বলেন, এই মরণ আমাদের কাম্য নয়। আসুন জঙ্গিবাদকে প্রতিরোধ করে নিজেদের ছেলেমেয়েদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক-সাহিত্য চর্চায় এগিয়ে আসি। সন্তানদেরকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নিজেই শিক্ষক ও বন্ধুত্বের ভূমিকা পালন করতে হবে পিতামাতাদেরকে। অস্ত্র নয়, কবিতা ও গান হোক আমাদের জয়যাত্রার হাতিয়ার। সাহিত্য-সাংস্কৃতিক মাধ্যমে মনন শক্তি বিকাশ ও ছেলেমেয়েদের সুভদ্র ও নীতিবান করে মাতৃভাষা চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে। ২৩ জুলাই ২০১৬ পশ্চিমবঙ্গ ভারতের কলকাতা ধর অডিটরিয়ামের সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র “সাম্পান” আয়োজিত ভারত-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সম্মেলনে বিজ্ঞ বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। খ্যাতিমান সাংস্কৃতিক সংগঠক ও “সাম্পান” এর সভাপতি কবি ও কথাশিল্পী অনিন্দিতা মিত্র পাইক’র সভাপতিত্বে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি, শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান (সিআইপি), প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সিএইচআরসি’র সভাপতি সোহেল মো. ফখরুদ-দীন। প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি ও সাহিত্যিক রীনা গিরি, সঞ্জারিনী ব্যানার্জী, গীতাশ্রী মিত্র, সংকর্ষন মুখার্জী, আবৃত্তিশিল্পী সঞ্চিতা কবিরাজ, অনন্যা ঘোষ, শুভাশীষ ঘোষ ঠাকুর, আত্রেয়ী ঘোষ, অনুপম ঘোষ, প্রিয়াঙ্কা সেনগুপ্ত, শ্র“তি নাট্যকর্মী ইলা পাল, ছড়াশিল্পী সম্বিত ঘোষ, রিনা গিরি, সুদীপ্ত মণ্ডল। সম্মেলন সংগীত পরিবেশন করেন অন্বেষণ। সম্মেলনে বাংলাদেশের তিন অতিথি মুজিবুর রহমান (সিআইপি), ইতিহাস গবেষক ও কবি সোহেল মো. ফখরুদ-দীন, প্রাবন্ধিক অধ্যাপক মাসুম চৌধুরীকে সম্মেলনে স্মারক সম্মাননা, ক্রেস্ট, উত্তরীয়, মানপত্র প্রদানের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*