সুস্থ থাকা চাই

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২০ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার: কেন বলছি শুধুই আলসে মানুষদের জন্য এসব টিপস? কারণ এই কাজগুলো করে সুস্থ থাকতে আপনার মোটেই জিমে যাওয়া লাগবে না, ডায়েট করা লাগবে না, সকাল সকাল ঘুম থেকেও উঠতে হবে না। এই ফিচারে আছে এমন কিছু টিপস, সবচাইতে আলসে মানুষটাও এগুলো মেনে চলবেন নিতান্তই খুশিমনে। তবে এটা ঠিক যে নিয়মিত শরীরচর্চা করা বন্ধুটির মতো আপনার স্বাস্থ্য অতটা ফিটফাট থাকবে না। তবে ইচ্ছে থাকলে আলসেমি করেও যে সুস্থ থাকাই যায় তা আপনি বুঝতে পারবেন নিশ্চিত।
একজন মানুষ আলসে হোক আর খুব চটপটে, সুস্থ যে থাকতে চান তা নিশ্চিত। আমরা চাই ওজনটা খুব বেশি হবে না, খুব কমও হবে না। আমাদের ক্লান্তি থাকবে কম, পোশাক আশাক চমৎকার মানিয়ে যাবে শরীরে আর হ্যাঁ, আমরা বেশ লম্বা একটা আয়ুও চাই বটে। আলসে মানুষ বলে কি এসব থেকে যাবে আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে? মোটেই না। দেখে নিন আলসে মানুষের সুস্থ থাকার ট্রিকগুলো।
১) ঘুমান বেশি বেশি
আলসে মানুষের একটি বিশেষত্ব হলো বেশি ঘুমানো এবং যখন তখন ঘুমানো। আপনি জেনে খুশি হবেন, কম ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। বরং প্রতি রাত্রে কমপক্ষে সাত ঘণ্টা ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য খুবই দরকারি। আর ঘুম ঠিকমতো হলে অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছেটাও কমে ফলে ওজন অতিরিক্ত বাড়ার ভয় থাকে না, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ারও সম্ভাবনা কমে। কারণ যথেষ্ট ঘুমালে শরীরে গ্রেলিন হরমোন (ক্ষুধার হরমোন) নিয়ন্ত্রণে থাকে। দিনের বেলাতেও সময় পেলে একটু ঘুমিয়ে নিন।
২) স্বাস্থ্য সচেতন বন্ধুটির সাথে সময় কাটান
বাসার মানুষ আলসে বলে বকে দিলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডাবাজি করা, বন্ধুর বাসায় গিয়ে শুয়ে বসে সময় কাটানোটা খুব স্বাভাবিক। এমন একটা বন্ধু আমাদের সবারই আছে যে কিনা সবসময়ে আমাদেরকে ভালো খেতে বলে, আড্ডা দেবার আগে জিম থেকে ঢুঁ মেরে আসে। এমন বন্ধুটির সাথে সময় কাটান। এতে তার ভালো অভ্যাসগুলো আপনার মাঝেও সংক্রমিত হবে। তার সাথে থাকলে আপনার অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলোও চলে যাবে।
৩) বেশি খান
কি, শুনতে খুব অদ্ভুত লাগছে? আপনি যদি এমন মানুষ হয়ে থাকেন যে কিনা সকালে ব্রেকফাস্ট বাদ দিয়ে দুপুরে দুটো পিজ্জা মেরে দিলেন, আবার বিকেলে না খেয়ে রাত্রে এক বাটি আইসক্রিম নিয়ে বসলেন- তবে আপনার দরকার বেশি খাওয়া। তবে একটু সময় ঠিক রেখে। ব্রেকফাস্ট খন সময় করে। লাঞ্চ করুন, বিকেলে একটা স্ন্যাক্স খান, রাত্রে ডিনার এবং তার পর একটা ছোট্ট স্ন্যাক্স। অনেকেই মনে করছেন এতোবার খেলে তো মোটা হয়ে যাব! কিন্তু না, দিনে বেশ কয়েকবার খাওয়া দাওয়া করলে বরং আপনার অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগবে না, আজেবাজে খাবার খেতেও ইচ্ছে করবে না। আর এভাবে বারবার খেলে আপনার ব্লাড সুগারটাও থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
৪) খান চকলেট
এটা হয়তো অনেকেই শুনেছেন যে চকলেট আসলে আমাদের স্বাস্থ্যের কিছু উপকার করে থাকে। তবে অবশ্যই একেবারে চিনিতে ভরপুর ক্যান্ডিগুলো নয়, এবং অতিরিক্ত নয়। নিজের জন্য একটা ডার্ক চকলেটের বার কিনে রাখুন। লাঞ্চের পর অল্প করে খান। এতে অতিরিক্ত চকলেট-ক্যান্ডি এটাসেটা খাওয়ার ইচ্ছে কমে যাবে।আর ইইঈ বলে চকলেট কমায় আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি। সুতরাং স্বাস্থ্যটাও রক্ষা হবে এই দিক দিয়ে।
৫) চা পান করুন
অনেক দিন ধরেই চা পানের সাথে ওজন কমানোর একটা যোগসুত্রের কথা শোনা যাচ্ছে। গ্রিন টি আমাদের মেটাবলিজম বাড়ায়, পুদিনা বা মিন্ট টি আমাদের ক্ষুধা কমায়। আর অনেক সময়ে আমাদের তৃষ্ণা লাগলেও মনে হয় ক্ষুধা লেগেছে। এসব সময়ে একটু চা বানিয়ে নিন নিজের জন্য। চা পানের পর দেখা যাবে আপনার হয়তো ক্ষুধা গায়েব হয়ে গেছে।
৬) পানি পান করুন
সুস্থ থাকার জন্য পানি পান করাটাও খুব দরকারি। যেখানেই শরীর এলিয়ে দিয়ে বসুন না কেন, এক বোতল পানি কাছে রাখুন। এতে বারবার উঠে ফিল্টারের কাছে যেতে হবে না। আলসেমিও হলো, সুস্থ থাকাও হলো!
৭) পিঠ সোজা করে বসুন
সুস্বাস্থ্যের অন্যতম একটা লক্ষণ হলো সুগঠিত অ্যাবস। আপনি ব্যায়াম আর ডায়েট ছাড়া হয়তো সেলেব্রিটিদের মতো দারুণ অ্যাবস পাবেন না। কিন্তু একেবারে তানপুরার মতো ভুঁড়ির হাত থেকেও  যদি বেঁচে থাকতে চান তাহলে পিঠ সোজা করে বসুন। এতে আমাদের পেট এবং পিঠ শক্তিশালী হবে, হজম হবে ঠিকমতো আর বাই বাই জানাতে পারবেন মাফিন টপ এবং বেলি ফ্যাটকে।
৮) স্ট্রেচ করুন
শুয়ে বসে সারাদিন থাকলে আপনার মেরুদণ্ড একেবারে শক্ত হয়ে ব্যাথা করতে থাকবে। এই জড়তা দূর করতে স্ট্রেচ করে নিন। খুব সহজেই করে ফেলতে পারবেন ঐবধষঃয এর এই স্ট্রেচগুলো।
৯) দৈনিক এক মিনিট ব্যায়াম করুন
সত্যি সত্যি, মাত্র এক মিনিট। সল্টলেক সিটির উটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সম্প্রতি আমেরিকান জার্নাল অফ হেলথ প্রোমোশনে প্রকাশ করেছেন যে, এক মিনিটের ব্যায়ামেও শরীরের অনেকটাই উপকার হয়। কত আজেবাজে কাজেই এক মিনিট ব্যয় করে থাকি আমরা! ব্যায়াম কেন করবো না- এই অজুহাত দিতে দিতেই তো ব্যয় হয়ে যায় পুরো একটা মিনিট। কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটা মিনিট ব্যায়ামের সুযোগ তো পাওয়াই যায়। সেই সুযোগটিকে কাজে লাগান। অফিসের যাবার পথে বাস একটুর জন্য ফেল করেছেন? বাসটি দূরে চলেযাবার আগেই তার পেছন পেছন দৌড়ে তাকে ধরে ফেলুন! অফিসের কাজে ভবনের অন্য কোনও তলায় যেতে হচ্ছে? লিফটের চিন্তা বাদ দিয়ে সিঁড়ি ভাঙ্গুন। এইটুকু ব্যায়ামে আপনার কাজে তো কোনও অসুবিধে হবেই না বরং কিছু পরিমাণ ক্যালোরি ক্ষয় হওয়ার ফলে কতটা যে উপকার হবে তা আপনি কিছুদিন পরেই টের পাবেন! আর যদি প্রতি ঘণ্টাতেই এমন একটা করে মিনিট ব্যায়াম করতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই।

Leave a Reply

%d bloggers like this: