সুসানকে ভালবেসে ফ্রেডরিখ হেগেল দার্শনিক হন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ইংরেজী, বুধবার: দুনিয়া গোলকধাঁধা। জন্ম মানেই মানুষের কারাগার জীবন। মৃত্যুতে মুক্তি ঘটে। এরমধ্যে যা কিছু ঘটে সবই আপনার ভাবপ্রসূত। সুসানকে ভালবেসে বলেছিলাম, চলো আমরা হাওয়া হই। সুসান নামে এক তরুণীর প্রেমে প্রত্যাখাত হয়ে দার্শনিক হন ফ্রেডরিখ হেগেল। হেগেল বলেছেন, ‘চিন্তা করবেন? চিন্তা করতে হলে চিন্তা করার পদ্ধতি জানতে হয়।’ কীভাবে? তিনি বলেন, ‘বস্তÍু নয়, ভাবই আসল। যা কিছু জ্ঞেয় বা দৃশ্যমান সবই হচ্ছে ভাবের প্রকাশ ও বিকাশ। আপনি যা যেভাবে দেখছেন অন্যজন সেটি সেভাবে নাও দেখতে পারে’। ১৭৭০ সালে ২৭ আগস্ট জার্মানীর স্টুটগার্ডে জন্ম।
তিনি দ্য থট ম্যাগাজিনে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘দুনিয়া গোলকধাঁধা। জন্ম মানেই মানুষের কারাগার জীবন। মৃত্যুতে মুক্তি ঘটে। এরমধ্যে যা কিছু ঘটে সবই আপনার ভাবপ্রসূত। সুসানকে ভালবেসে বলেছিলাম, চলো আমরা হাওয়া হই। মানে কেউ আমাদের দেখবে না। ইনভিজিবল। কিন্তু আমাদের অস্তিত্ব সবাই টের পাবে। হবে? সুসান মেধাবি ছিল। কিন্তু আমাকে উদ্ভট ভেবেছিল। ফলে আমি প্রেমের প্রস্তাব দিলে সে রাজী হয়নি। এতে অবসাদে ভুগে আমি বই পড়া শুরু করি। পার্কে বই পড়তাম। রেস্তোরাতেও পড়েছি। সারাক্ষণ বই আমাকে সঙ্গ দিতো’। দু’বার সুসানের সাথে দেখা হয়েছিল। প্রথমবার ভিয়েনায়। সুসান বলেন, ‘তুমি তো এখন বিশ^সেরা। প্রেমে পড়ো’?
হেগেল বলেন, ‘কসমিক প্রেমে মজে আছি। তরুণীর দরকার নেই’। দ্বিতীয়বার দেখা বক্সিং স্টেডিয়ামে। সুসান বলেন, ‘বক্সিং দেখতে এসেছো? অবাক তো! হেগেল বলেন,‘ বক্সিং দেখতে আসিনি। যে হারবে তাকে একটা গল্প শোনাতে এসেছি’। সুসান জানতে চাইলে বলেন, ‘ মানুষকে আছাড় মারতে হলে ওপরে তুলতে হয় প্রথমে। পরে আছাড় মারা হয়। সেই গল্প’।
ফেনোমেনোলজি বইতে তিনি লেখেন, ‘ধরা যাক দুজন স্বাধীন মানুষ রয়েছে। একজন প্রভু। অন্যজন দাস। দুজনই দুজনকে প্রতিদ্বন্দী ভাবছেন। কাজেই পরিস্থিতিটি টেকসই নয়। একটা লড়াই শুরু হয়, একজন আরেকজনকে পরাস্ত ও দাসত্ব শৃঙ্খলে আবদ্ধ করতে ব্যস্ত। তবে এ প্রভু আর দাসের সম্পর্কটিও কিন্তু টিকবে না। প্রাকৃতিক জগতের কাছে নিজের প্রকৃতির ও চেতনার এ দাবির মাধ্যমে দাসটি সন্তুষ্টি ও আত্মসচেতনতা লাভ করে, অন্যদিকে প্রভু সেই দাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে দুটো স্বাধীন সত্তার মধ্যেকার সংঘাত দূর হতে বাধ্য’। ১৮৩১ সালে তার মৃত্যু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*