সুষ্ঠু পরিকল্পনায় যথাসময়ে করে ফেললে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যাবে

কাজী ইব্রাহিম সেলিম, ০৪ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার: চউক ও চসিক এর সুষ্ঠু পরিকল্পনায়, তীক্ষè মেধায় কাজ করা হলে এবং যে কাজ যে সময় করার দরকার হয় সেই যথাসময়ে করে ফেললে নগর থেকে জলাবদ্ধতা ও যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। সেজন্য, জনগণ থেকে আদায়কৃত অর্থ যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। পূরো নগরীতে অপরিকল্পিতভাবে যেই কাজ হচ্ছে সেরকম একটি কাজের কথা উল্লেখ করছি। যেমন, মুরাদপুর মোড়ের রাস্তার দক্ষিণ পূর্ব পাশে মানুষের দোকান পাট ভেঙে জায়গা নেওয়া হয়েছে। আষাঢ়ের বৃষ্টি বাদলের ফলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ডুবে গেছে। সোমবার সকাল থেকে প্রায় সারাদিনই পানি ছিল। এতে সড়কে যানবাহন আটকা পড়েছে। ঘরবাড়ি নীচ তলায় পানি উঠেছে। মানুষ স্কুল কলেজ, অফিস আদালতে যেতে পারেনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা না হলে নগরবাসীর জন্য চরম দুঃস্বপ্ন বয়ে আনবে। মুরাদপুর মোড়ের রাস্তার দক্ষিণ পূর্ব পাশে মানুষের দোকান পাট ভেঙে জায়গা নেওয়া হয়েছে। এতে কিছু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও বেকারগ্রস্ত হলেও আগের ছোট নালাটা বড় করে করা হবে তা নগরবাসী ভেবেছিল। কিন্তু সেটিতে যেই ৬ ফিট ফুটপাত করা হয়েছে সেই জায়গাটিতেও নালা করা হলে নালাটি বড় হতো। তা করতে হলে দরকার ছিল নালার পাশে ও উপরের অংশটি ঢালাই দিয়ে ফুটপাত নির্মাণ করা। জনবহুল বাংলাদেশ, ছোট্ট এ দেশটিতে ভুমির তুলনায় মানুষের সংখ্যা বেশি। কর্মসংস্থানেরও অনেকটা অভাব। সেজন্য, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় মতো, মানুষের কর্মসংস্থানেও যাতে ব্যাঘাত না ঘটে এবং নালাও যাতে বড় হয় সেভাবে ফুটপাতের নীচে ইন্দুরের গর্তের মতো খুঁড়ে ফেলা হোক শুলকবহরের বড় নালা পর্যন্ত। সেটিকে পশ্চিম দিকে নিয়ে গিয়ে ২ নং গেইটের বিশাল নালাটির সাথে সংযোগ করে দিলে নগরীর বৃষ্টিপাতের পানি প্রাথমিকভাবে নালাই ধারণের ক্ষমতা হবে। জানা যায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় কাজ গুলো করতে আট হাজার কোটি টাকা খরচ হবে বিধায় সম্ভব হচ্ছেনা। সেজন্য আমাদের পরামর্শ হল, অল্প খরচে নগরবাসী অধিক উপকারে আসবে ও জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যাবে যদি পুরো নগরীর নালার পাশে ও উপরে ঢালাই দিয়ে ফুটপাত নির্মাণ করা হয়। তবে ফুটপাত গুলো একটা নিয়মমাপিত উঁচু করে নির্মাণ করা দরকার। জনসাধারণ নালার উপর ব্যবহারের জন্য অপরিকল্পিতভাবে যেই ব্রিজ নির্মাণ করেছেন তা বর্জন করে যেন ফুটপাত থেকে উঁচু নিচু না হয় মত নির্মাণ করেন। গ্যাস লাইন, পানির লাইন ব্রিজ সমান উঁচু স্থানে সংস্কার করার সুষ্ঠু নিয়ম গুলো সম্পর্কে নগরবাসীর মাথায় পরিকল্পিতভাবে কাজ করার মেধা ঢুকাই দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। যাতে করে ব্রিজ উঁচু নিচুর কারণে তা ব্যবহারে ও হাটা চলায় মানুষের অসুবিধা না হয়, আর পাইপের সাথে ময়লা আবর্জনা আটকে নালার পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। প্রতিবছর বর্ষার মৌসুম আসার পূর্বেই ভাল করে নালার তলা পরিস্কার করতে হবে। প্রতিবার ভারী বর্ষণের পর পাহাড়ি বালি এসে নালা নর্দমা ভরাট হয়ে যায় সেগুলো দ্রুত পরিস্কার করতে হবে। নালা খালি থাকলেই তো বৃষ্টির পানি গিয়ে নালাই পড়বে। নালা ভর্তি হয়ে থাকলে পানি যাবে কোথাই? রাস্তাঘাটে, ঘরবাড়ি, দোকান পাটে উঠে। সেজন্য, নগরীর এই অল্প ভুমি গুলোকে তীক্ষè মেধায় বেশি কাজে আসে মতো পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে না পারলে নগরবাসীর চরম দুর্দশা অপেক্ষা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*