সুরে সুরে উন্মাতাল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ নভেম্বর: হেমন্তের আকাশে চাঁদের উঁকিঝুঁকি। সন্ধ্যা কেটে যাওয়ার পরে জোছনার আলো ছড়িয়ে পড়েছে রাতের আকাশে। জোছনামাখা খোলা আকাশের নিচেই binaবসেছে উচ্চাঙ্গসংগীতের চতুর্থ আসর। শনিবার ছিল এই আসরের দ্বিতীয় দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দর্শকের উপস্থিতি কম থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শক সংখ্যা। আসরের শুরুতেই ধ্রুপদ গেয়ে শোনান বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ কুণ্ডু। তিনি এরাগ ভূপালি পরিবেশন করেন। এ সময় তাকে পাখওয়াজে সঙ্গ দেন প্রতাপ আওয়াদ। এ শিল্পীকে উৎসবস্মারক তুলে দেন পরম্পরা সংগীতালয়ের পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকর।
সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মঞ্চে আসেন এ সময়ের গুণী বীণা শিল্পী ড. জয়ন্তি কুমারেশ। ইতিমধ্যে দর্শকে পুরো প্যান্ডেল প্রায় ভরে উঠেছে। স্বভাবসূলভ হাসিমাখা অভিব্যক্তি নিয়ে শুরুতেই এ উৎসবের প্রশংসা করেন জয়ন্তি। প্রথমে তিনি আদি তালে স্বামী ত্যাগ রাজের একটি কম্পোজিশন বাজিয়ে শোনান। তারপর দক্ষিণ ভারতীয় ধারার কাফি ও বেহাগ পরিবেশন কbina.1রেন তিনি। উপস্থিত দশক তার বীনার সুর মনোমুগ্ধ হয়ে শোনেন। তার পরিবেশনার শুরু থেকে শেষ পযন্ত দশকের কড়তালিতে মুখরিত ছিল।
ভারতীয় এ নারীর হাত ধরে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে প্রথমবারের মতো সরস্বতী বীণা পরিবেশিত হলো। এ সময় শিল্পীকে পাখওয়াজে সহযোগিতা করেন আর শংকরানারায়ণন এবং ঘটমে এস কৃষ্ণস্বামী। খুব অদ্ভুত লেগেছে যখন শুধু পাখওয়াজ ও খুবঘটম বাঁজছিল, মনে হলো এ দুটি বাদ্যযন্ত্র পরস্পরের সঙ্গে গভীর ভাবের আদান প্রদান করছে। পরস্পরের সঙ্গে কথা বলছে। সত্যি এ সময়টুকুতে বীণা, পাখওয়াজ ও ঘটমের সুরে-তালে পুরো স্টেডিয়াম উন্মাতাল হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সময় জয়ন্তি দশক মাতিয়ে রাখেন বীণার সুরে। পরিবেশনা শেষে তাদের হাতে উৎসব স্মারক তুলে দেন মহুয়া খায়ের।
জয়ন্তি মঞ্চ ছাড়ার পর কিছুটা বিরতি চলে বাদ্যযন্ত্র ঠিক করার জন্য। বাদ্যযন্দ্র ঠিকঠাক হলে মঞ্চে আসেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের খেয়াল শিক্ষার্থী সুস্মিতা দেবনাথ। এ সময় তিনি বেহাগ রাগে খেয়াল ও তারানা পরিবেশন করেন। সুস্মিতা দেবনাথকে তবলায় সহযোগিতা করেন ইফতেখার আলম প্রধান এবং হারমোনিয়ামে বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী।bina.2
এরপর মঞ্চে আসেন পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকর। তিনি পরিবেশন করেন ধ্রুপদ সংগীত। তিনি রাগ ইমন ও আড়ানায় ধ্রুপদ পরিবেশন করেন। তাকে পাখওয়াজে সঙ্গ দেন প্রতাপ আওয়াদ। পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকারকে উৎসব স্মারক তুলে দেন স্কয়ার টয়লেট্রিজের ভাইস চেয়ারম্যান রতœা পাত্র।
এরপর একে একে পরিবেশিত হয় পণ্ডিত সুরেশ তালওয়ালকারের (একক তবলা), ড. বালমুরালী কৃষ্ণর (কর্ণাটকী সংগীত) পরিবেশনা। তার সঙ্গে বাঁশিতে ছিলেন পণ্ডিত রণু মজুমদার। তারপর পরিবেশিত হয় শুভায়ূ সেন মজুমদারের (এস্রাজ) এবং পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর (খেয়াল) পরিবেশনা।
রোববার তৃতীয় দিনের উৎসব শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। চলবে পরদিন ভোর ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত। তৃতীয় দিনের উৎসবে অংশ নেবেন ওয়ার্দা রিহাব ও তার দল (মনিপুরি নৃত্য), ওস্তাদ ওয়াসিফ ডাগর (ধ্রুপদ), ইউসুফ খান (সরোদ), ড. এন রাজম (বেহালা), বিদুষী শ্রুতি সাদেলিকর (খেয়াল), গুরু কড়াইকুডি মানি (মৃদঙ্গ) ও বিদুষী শুভা মুডগাল (খেয়াল)।
গত তিন বছর ধরে বেঙ্গল আয়োজিত উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে শিল্পী ও দর্শকদের অংশগ্রহণের নিরিখে ইতিমধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বিশ্বের সর্বাধিক বড় পরিসরের উচ্চাঙ্গসংগীতের আসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এবারের এ আয়োজনে প্রায় দুই শতাধিক সংগীত ও নৃত্যশিল্পী অংশ নিচ্ছেন। এবারের উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীকে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: