সীতাকুণ্ড সড়ক দূর্ঘটনায় সাতদিনের ব্যবধানে ১২ জন নিহত

সীতাকুণ্ডে সংবাদদাতা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে সরকার সিএনজি অটোরিক্সা বন্ধ করলেও দুর্ঘটনা থেমে নেই। মহাসড়কের সীতাকুন্ডে অংশে গত সাতদিনের ব্যবধানে ১২ জন নিহত হয়েছে। আর এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক লোক। দূর্ঘটনা বেড়েpic-1-co-Copy যাওয়ায় সাধারণ মানুষ উদ্বেগ ও নিরাপত্তায় ভুগছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে কর্মসূচি পালন করলেও সড়কগুলো আরো বেশি অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের রের্কডে দেখা গেছে, গত ৩০ অক্টোবর সীতাকুন্ডে কুমিরা এলাকায় যাত্রীবাহি বাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখী সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে কাভার্ডভ্যান চালকসহ বাসের প্রায় অর্ধশত যাত্রী। দূর্ঘটনায় নিহত যাত্রীর নাম নুরুল ইসলাম। গত ২৯ অক্টোবর সীতাকুন্ডে পৌরসদরের শেখপাড়া ও ভাটিয়ারী উত্তর বাজার এলাকায় পৃথক ২টি সড়ক দূর্ঘটনায় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতাসহ ৩ জন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরো ৩০ জন যাত্রী। দূর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটিরখীল এলাকার মৃত সোলতান আহম্মদের পুত্র ও ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মো.ইসমাইল হোসেন (৫০), একই এলাকার মৃত আতাউল হকের পুত্র আনোয়ার হোসেন (৪৫) ও সন্দ্বীপ উপজেলার হারামিয়া এলাকার মোজাম্মেল হোসেনের পুত্র মো.শাখাওয়াত (২৬)। গত ২৭ অক্টোবর সীতাকুন্ডে কর আনোয়ারা গেট ও মাদামবিবির হাট এলাকায় পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছে। গত সোমবার রাত ১০টায় উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম ইকবাল হোসেন (১৮) ও চাপায় রেশমী আক্তার (১৯)। দুঘটনায় আহত হয় আরো ১০জন যাত্রী। গত ২৫ অক্টোবর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ডে পস্থিছিলা ও বার আউলিয়া এলাকায় পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছে। আহতরা হলেন, জয়নাল আবেদিন (১৮) ও মো. আব্দুল খালেক (৫২)। আহত হয়েছে আরো ৭জন। এসব দূর্ঘটনায় মানুষ শুধু প্রিয়জনকে হারায়নি, যারা বেঁচে আছে তারা অনেকেই শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হারিয়ে বিছানায় শুয়ে দিন যাপন করছে। এই সড়ক র্দূঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ উদ্বেগ ও নিরাপত্তায় ভুগছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে কর্মসূচি পালন করলেও সড়কগুলো আরো বেশি অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। তবে পুলিশের রেকর্ডে দেখা গেছে, বেপরোয়া ও অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানো, মাত্রাতিরিক্ত গতি ও বহনক্ষমতার চেযে বেশি ওজন বহন করা, চালকদের অবসাদগ্রস্ততা কিংবা মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, যানবাহনের যান্ত্রিক ক্রটি এবং ট্রাফিক আইন না জানা ও যথাযথ অনুসরন না করাই এসব দূর্ঘটনার কারণ।’ সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বেপরোয়া ও অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানো, মাত্রাতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকের প্রতিযোগিতা, চালকদের অবসাদগ্রস্ততা কিংবা মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, যানবাহনের যান্ত্রিক ক্রটি এবং চালকদের অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও অনভিজ্ঞতা এবং ট্রফিক আইন না জানা ও যথাযথ অনুসরন না করাই এসব দূর্ঘটনার কারণ হলেও প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষ দূর্ঘটনা রোধে কোনো প্রদক্ষেপ নিচ্ছে না। দেখা গেছে, সিএনজি চালিত সেইপ লাইপ নামে কয়েকটি গাড়ি ইতিমধ্যে সিএনজি অটোরিক্সার পরিবর্তে মহাসড়কে চলাচল করতে শুরু করেছে। এসব গাড়ির ড্রাইভাররা বেশির ভাগই আনাড়ি। স্থানীয় রিক্সা চালকরাই অভিজ্ঞতা ছাড়াই এগুলো চালাচ্ছে। যার ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়তই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা এবং সীতাকুন্ডে পৌরসদরে দুইটি বাইপাস সড়ক অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ হওয়ায় যানবাহন চলাচলে যাত্রীদের সার্বক্ষণিক আতংকে থাকতে হচ্ছে। এছাড়া মহাসড়ক থেকে সিএনজি উঠে যাওয়ায় সড়কে গাড়ির চাপ অনেকটা কমে গেছে। যার ফলে অন্যান্য গাড়ির চালকরা বেপরোয়া অনিয়ন্ত্রিভাবে গাড়ি চালাতে থাকে। ফলে ওভারটেক করতে যেয়ে দুঘর্টনায় পতিত হচ্ছে। বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল্লা বলেন, ‘বেশিরভাগ গাড়ীর চালকরা দ্রুতগতিতে চালানো এবং ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে দূঘটনায় পতিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুর্ঘটনা রোধে বিশেষ অভিযানে কয়েকটি গাড়ীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: