সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ শিপ ব্যবসায়ী কুসুম অপহৃত নাকি আত্মগোপনে

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আলোচিত অপহৃত শিপব্রেকিং ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন কুসুমের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় ৪২টি গ্রেফতারি পরোয়ানাs এসেছে। বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও ব্যক্তি উচ্চ আদালতে তাদের পাওনা টাকার জন্য মামলা করলে আদালত প্রথমে সমন জারি করেন। পরে তার বিরুদ্ধে এসব গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।
গত ৩ জুলাই দুপুরে ঢাকার উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর সড়ক থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন চট্টগ্রামের তরুণ এ শিপব্রেকিং ব্যবসায়ী। তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলার উত্তর সলিমপুর ফৌজদারহাট তুলাতলী এলাকার আতাহার মঞ্জিলের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত মোহাম্মদ মিয়া। তিনি শাহ আমানত আইরন মার্ট ও তানহা স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিক।
নিখোঁজের দুই দিন পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে ৫ জুলাই ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি এবং সন্দেহভাজন তিনজনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা করেন তার বড় ভাই জসিম উদ্দিন। জসিম উদ্দিন জানান, ৩ জুলাই নিখোঁজ হওয়ার পর ৫ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি। এ ছাড়া সন্দেহভাজন তিনজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এখন পর্যন্ত মামলার কোনো অগ্রগতি নেই।
শিপব্রেকিং ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন কুসুম আদৌ অপহৃত হয়েছেন, নাকি আত্মগোপন করেছেনথ এ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ধূম্রজাল সৃষ্টির পেছনে রয়েছে তার বিরুদ্ধে ৪২টি গ্রেফতারি পরোয়ানা। তার কাছে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ব্যাংকের প্রায় ৬০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। ঈদের আগে টাকা পরিশোধের সময় দিয়ে যেসব চেক দিয়েছিলেন, তার মধ্যে অধিকাংশ চেকই ডিজঅনার হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। ওই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় অপহরণ নাটক সাজানো হয়েছে কি-না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি ইফতেখার হাসান বলেন, ব্যবসায়ী কুসুম নিখোঁজ হয়েছেন কি-না তার জানা নেই। ওসি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে সীতাকুণ্ড থানায়। তার কাছে ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রায় ৬০০ কোটি টাকা পাবেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: