সীতাকুণ্ডের মানুষ ইয়াছিন বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ ডিসেম্বর: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আলী নগরের ইয়াছিন বাহিনীর দুর্বৃত্তায়নের করণে এলাকাবাসি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।sitakund-yasin-arreset-pic--340x525 সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ইয়াছিন উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় বিশাল এক বাহিনী গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে সে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত আলি আক্কাছের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তার বাহিনী অবৈধভাবে সরকারি পাহাড়ি ভূমি দখল করে আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে পাহাড় কেটে প্লট তৈরি ও বিক্রি করে আসছিলেন। জঙ্গল ছলিমপুরের আলোচিত এই ভূমিদসে্যুর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলার রয়েছে। ইয়াছিন অবশেষে গত ২১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। ইয়াছিন নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার কেশারপাড়া এলাকার মৃত শামশুল হকের পুত্র। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীতাকুন্ডের জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় আলিনগর গ্রামে বসবাস করছেন। থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ইয়াছিন উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুর এলাকায় বিশাল এক বাহিনী গড়ে তুলে এবং তার বাহিনী অবৈধভাবে সরকারি পাহাড়ি ভূমি দখল করে আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে পাহাড় কেটে প্লট তৈরি ও বিক্রি করে আসছিলেন।শুধু তাই নয় ২০১২ সালে ভূমিহীন মানুষের সন্তানদের শিক্ষার জন্য মানবাধিকার সংগঠন ট্রাস্ট হিউম্যান রাইটস এর উদ্যোগে টিএইচআরবি নামে যে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়েছিল সেটি ২০১৪ সালে এই ইয়াছিন ও তার বাহিনী বিদ্যালয়টি বন্ধ করে দিয়ে জায়গাটি দখল করে নেয়। এ ব্যাপারে হাটহাজারী থানা মামলা হয় যা বর্তমানে বিচারাধীন। তার তান্ডবে এলাকায় মানুষজন শান্তিতে থাকতে পারছিল না। এসব অবৈধ কর্মকান্ড করে অল্প দিনেই তিনি কোটিপতি বনে যান। সীতাকুন্ড থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জঙ্গল ছলিমপুরে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ভূমিদস্যু হচ্ছেন এই ইয়াছিন। তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, পুলিশের কাজে বাধাসহ ৭টি মামলা আছে। সে পাহাড় ও সরকারি ভূমি দখল করে বিক্রি করে সেখানে অন্তত ১ হাজার একর জমির মালিক বনে গেছে। এলাকার ভুক্তভোগী কিছু মানুষ জানান ইয়াছিন গ্র“পের কিছু বিপদগামী সদস্য তাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দুমকি দিচ্ছে। ইয়াছিনকে হাজত থেকে ছাড়িয়ে নিতে তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীর ব্যাপরোয়া ভাবে চাদাঁবাজি দকল বাজি শুরু করেছে। এতে ইয়াছিন গ্র“পের কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে আবুল কাশেমের পুত্র ছগির আহম্মদ বাদশা, আবু তাহের মনির, আবুল মোতালেবের পুত্র মো. তোফায়েল, মৃত আবদুল খালেকের পুত্র আবুল কাশেম, জব্বর আলীর পুত্র মো. হারুন, আবুল হাওলাদারের পুত্র শাহীন হাওলাদার, মৃত জালাল আহম্মদের পুত্র সালাউদ্দিন, আদুল মজিদের পুত্র মো. আলী, আবুল হাশেমের পুত্র মো হেলাল উদ্দিন, মৃত ফকির আহম্মদের পুত্র মো. মাহবুব আলম, মৃত-শামসুল হকের পুত্র মো.ইয়াছিন, করম আলীর পুত্র মো. হাছান, মো. আবদুল কাদেরের পুত্র ম্াে. বেলাল। ভুক্তভোগীরা জানান, ভূমিদস্যু ইয়াছিন এর অবৈধ অনেক অস্ত্র রয়েছে। এই সব অস্ত্র দিয়ে এলাকায় প্রায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রের মহড়া দেয়। এখন তার অবর্তমানে উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিরা ইয়াসিনের অস্ত্র দিয়ে মহড়া ও দখল চাদাবাজি শুরু করে দিয়েছে এতে করে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন সে যদি কোনভাবে জেল থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে এলাকার অনেক নীরহ মানুষ এ দানবের হাত থেকে রেহায় পাবে না। শুধু মাত্র ভুক্তভোগীরা নয় সাধারণ এলাকাবাসীও এ সন্ত্রাসী ইয়াছিনের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করছেন। প্রশাসন যেন এ সন্ত্রাসী দানবকে কোন ভাবে মুক্তি না দেয়। 

Leave a Reply

%d bloggers like this: