সিলেট জেলা মুসলিম লীগের নেতা আবু আহমদ আব্দুল হাফিজের দ্বিতীয় ছেলে আবুল মাল আবদুল মুহিত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০২ জুন ২০১৭, শুক্রবার: সব মিলিয়ে ১১টি বাজেট পেশ করেছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার চেয়ে বেশি বাজেট বাংলাদেশে একজনই দিয়েছেন। তিনি হলেন বিএনপির অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। তিনি দিয়েছেন ১২টি বাজেট। আগামী অর্থবছরের বাজেট মুহিত দিলেই এই রেকর্ডে ভাগ বসাবেন তিনিও।
গত নয় বছর ধরে টাকা বাজেট দিয়ে আসছেন মুহিত। সর্বোচ্চ সংখ্যক বাজেটের রেকর্ড সাইফুরের থাকলেও টানা বাজেট দেয়ার রেকর্ড কিন্তু মুহিতেরই। মুহিত অন্য রেকর্ডটিও নিজের করে নিতে পারবেন কি না, নিদেনপক্ষে ছুঁতে পারবেন কি না, এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ অর্থমন্ত্রীর জন্মদিনের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা অর্থমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করি। আশা করি তিনি হবেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বাজেট পেশকারী অর্থমন্ত্রী।’
তবে মুহিত সর্বোচ্চ বাজেট পেশকারী হতে চান না। নিজের একাদশ বাজেট দেওয়ার আগে সচিবালয়ে গণমাধ্যম সম্পাদক ও বেসরকারি চ্যানেলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নিজের দ্বাদশ বাজেট দিয়ে ‘ছুটি’ নিতে চাইছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন সম্পাদক তার কাছে জানতে চান, এটা তার শেষ বাজেট কি না?তখন মুহিত বলেন, ‘এটি নয় এর পরেরটা হবে আমার শেষ বাজেট। এটি আমার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এ বছরে গেলে আমার ১১ বার বাজেট পাস হবে। ১২ করে বিদায়। নিশ্চিত মনে হয়, আমার যিনি সিদ্ধান্ত দেবেন তিনি দিয়েছেন ছুটি।’
এর আগে বিদেশি গণমাধ্যম এবং দেশেও সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেছেন, এই বয়সে এত কাজ করতে ক্লান্তি লাগে। তাই তিনি অবসর চান।
মুহিত এর আগে জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন এই সরকারের পর আর মন্ত্রী হবেন না তিনি। আর একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীও হতে চান না তিনি।
মুহিত প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন ১৯৮২ সালে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালে। পরের বছরও তিনিই ঘোষণা করেন সরকারের বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসাব।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর টানা নয় বছর বাজেট ঘোষণা করেন মুহিত।
জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৮০ ও ১৯৮১ সালের বাজেট ঘোষণা করেছিলেন বিএনপির প্রয়াত নেতা সাইফুর রহমান। এরপর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত টানা পাঁচটি এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আবারও টানা পাঁচটি বাজেট ঘোষণা করেন তিনি। চলতি বছর জানুয়ারিতে ৮৪ বছরে পা রাখেন মুহিত।
সিলেট জেলা মুসলিম লীগের নেতা আবু আহমদ আব্দুল হাফিজের দ্বিতীয় ছেলে মুহিত ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স করার পর অক্সফোর্ড ও হার্ভার্ডে উচ্চ শিক্ষা নেন। ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।
১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার পর তখনকার পাকিস্তান এবং পরে স্বাধীন বাংলাদেশে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেন মুহিত।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেয়ার কারণে কারাভোগ করা মুহিত ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় ছিলেন পাকিস্তানের ওয়াশিংটন দূতাবাসে কূটনৈতিক দায়িত্বে। জুন মাসে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৭২ সালে পরিকল্পনা সচিবের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭৭ সালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বহিঃসম্পদ বিভাগে সচিবের হন মুহিত। ১৯৮১ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে গিয়ে ‘অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে কাজ শুরু করেন ফোর্ড ফাউন্ডেশন ও আইএফএডি-তে।
দীর্ঘদিন বিশ্ব ব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করার পর দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন মুহিত। মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ইতিহাস, জনপ্রশাসন রাজনীতি এবং স্মৃতিকথা নিয়ে ২৩টি বই ইতোমধ্যে লিখেছেন মুহিত।

Leave a Reply

%d bloggers like this: