‘সিটি হল’ এগিয়ে নেবে বাণিজ্যিক রাজধানীকে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৭ নভেম্বর: ইট-পাথরের খাঁচা আর বহুতল ভবনগুলোর আকাশ ছোঁয়ার প্রতিযোগিতায় একচিলতে সবুজের জন্য যেখানে মনটা ব্যাকুল সেখানে বিয়েশাদি, মেজবানের মতো বড় আয়োজনের জায়গা কই। তাই তো নগর থেকে শহরতলি, উপজেলা সদর থেকে গ্রামেও গড়ে উঠছে কমিউনিটি সেন্টার। কিন্তু ‘অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে মানুষের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে সেগুলো। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বড় আয়োজনের জন্য নগরবাসী স্বপ্ন দেখছিলেন একটি কেন্দ্রের, যেখানে চোখের ইশারায় হাজির হবে বিশ্বমানের সব সেবা। city Hall
ধোঁয়া ওঠা গরু বা খাসির মাংস দিয়ে এক ব্যাচেই এক হাজার অতিথি মেজবান খাচ্ছেন-এমন দৃশ্য নগরীতে দেখতে হলে সিটি হল কনভেনশন সেন্টারে যেতে হবে। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র আগ্রাবাদের অ্যাক্সেস রোডের ছোটপুল এলাকায় সর্বাধুনিক এ কনভেনশন সেন্টারটির গ্রান্ড দরবার হলটি চালু হয়েছে সম্প্রতি।
এরপরই সিটি হলের কয়েকটি জমকালো অনুষ্ঠানে নজর কেড়েছে নগরবাসীর, মুখে মুখে ফিরছে হলটির সুনাম। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীকম গ্রুপের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সিটি হল কনভেনশন সেন্টার। ৪০ হাজার বর্গফুটের বেশি জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত এ কমপ্লেক্সে উদ্যোক্তারা স্বপ্ন দেখছেন বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধাসহ আরও তিনটি হল তৈরির। যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছে-দ্যা মুঘলস, তাজ পয়েন্ট এবং দ্যা ইমপেরিয়াল। যেখানে প্রয়োজন বুঝে ছোট-বড় সব আয়োজন করতে পারবেন চট্টগ্রামবাসী।
জানা গেছে, সোয়া একর জমির ওপর সিটি হলের ডিজাইন করেছে স্টিল ব্রেসিং কান্টিলিভার কোম্পানি। দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য নকশা করেছেন স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্ট লিমিটেড। স্থপতি মিজানুর রহমান ও জাবেদ আকরাম রোমেলের নকশায় ২০১৩ সালে শুরু হয়েছিল নির্মাণ কাজ। প্রায় তিন বছর পর চলতি মাসে অনুষ্ঠান আয়োজনের উপযোগী হলো নিচতলার গ্রান্ড দরবার। উদ্যোক্তারা বিশ্বজুড়ে সবুজ বিপ্লব বা পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন আন্দোলনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সাজিয়েছেন, সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। রুচির সঙ্গে আভিজাত্যের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে রাজকীয় আমেজ। যেখানে রূপের পেখম খোলে আলোর খেলায় রঙের ছটায়।
সিটি হলের জেনারেল ম্যানেজার জুবায়ের চৌধুরী জানান, গ্রাহকের প্রয়োজন ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিটি হলে এইচডি প্রজেক্টর, আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট, ১৭ ফুট উচ্চতায় সিলিং, সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশন, ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা, ৬ মিটার পরপর সার্ভিস পিটস, ইন হাউস ফাইভ স্টার ব্যাংকুয়েটিং সার্ভিস, আইপি সিকিউরিটি ক্যামেরা সার্ভিল্যান্স সিস্টেম, লাইভ অনলাইন টেলিকাস্ট ফ্যাসিলিটি থ্রো ইন্টারনেট ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছি।
তিনি জানান, সিটি হলে বিয়েশাদি, আকদ, মেজবান, বৌভাত, ওয়ালিমা, গায়েহলুদ, জন্মদিন, বার্ষিকী, কনভেনশন, কনফারেন্স, টেলি কনফারেন্স, ব্যবসায়িক সভা, এজিএম, ট্রেনিং, প্রমোশন, প্রেজেন্টেশন, এক্সিবিশন, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, মেলাসহ সব ধরনের অনুষ্ঠান করা যাবে।
সিটি হলের ব্যবস্থাপক মাসুদ হাসান পিংকী জানান, এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রামে সিটি হলই সবচেয়ে বড় কনভেনশন হল। যেখানে এক সঙ্গে এক হাজার অতিথি এক ব্যাচে মেজবান খেতে পারবেন। বিয়ের অনুষ্ঠান হলে বর কনের স্টেজের জায়গা ছেড়ে দিলে হয়তো ৯০০ অতিথি একসঙ্গে খেতে পারবেন।
তিনি বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রাম। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, মিরসরাই ও আনোয়ারায় স্পেশাল ইকোনমিক জোন, আরএমজি শিল্পজোনসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা এগিয়ে নিতে সিটি হলের মতো একটি কনভেনশন সেন্টারের অভাব ছিল। যেখানে বিশ্বমানের অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাচ্ছে সহজলভ্য প্যাকেজে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতত আমরা নিচতলার গ্রান্ড দরবার হলটি চালু করেছি। পর্যায়ক্রমে দোতলার বাকি তিনটি হলও চালু করা হবে। এসব হলের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাজানোর উপকরণগুলো এসে পৌঁছেছে। আশাকরি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা পরিপূর্ণ সেবা দিতে পারবো। অনলাইনেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: