সিটি নির্বাচন ৫ জানুয়ারির প্রহসনকেও হার মানিয়েছে: মহানগর জামায়াত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই, এজেন্টদেরকে বের করে দেওয়া ও জালভোটের মহোৎসবের এই সিটি নির্বাচন ৫ জানুয়ারির প্রহসনকেও হার মানিয়েছে বjamatলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার সিটি নির্বাচনকে ঘিরে ৫ জানুয়ারির মত আরো একটি প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের ভোট দিতে দেয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়া হচ্ছে। সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন কেন্দ্রে বিরোধী এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। জালভোট ও এজেন্টদের উপর হামলার ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোটারদের নিরাপদে ভোট প্রদান নিশ্চিত করার পরিবর্তে সরকারি দলের প্রার্থীদের নির্দেশ পালনে বেশি তৎপরতা প্রদর্শন করছে। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তরের ১৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী এডভোকেট এনায়েত হোসেনের কাটাচামুচ প্রতিকের এজেন্টদের কসমোপলিটন কিন্ডারগার্টেন ও নলেজ হেভেন থেকে বের করে দেয় আওয়ামী প্রার্থীর কর্মীরা। এছাড়া এনায়েত হোসেনের নির্বাচনী কর্মীদের মধ্য থেকে ৩ জন মহিলাসহ ৩০ জন এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৩নং ওয়ার্ডের প্রার্থী আশরাফুল আলমের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সকাল ১০টায় তিনি সেনপাড়া পর্বতা প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে তার উপর হামলা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা। সেখান থেকে তার টিফিন ক্যারিয়ার প্রতিকের ৫ জন এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঐ ওয়ার্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পল্টন থেকে আনজুমান আরা রবের ৫ জন এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দক্ষিণ গোড়ানে আলী আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়, গোল্ড হেভেন উচ্চ বিদ্যালয়, গোড়ান উচ্চ বিদ্যালয়, পল্টন বধির স্কুল, পল্টন গার্লস কলেজ, জুরাইন আশরাফ মাস্টার স্কুলে জামায়াতসহ বিরোধী প্রার্থীদের এজেন্টদের উপর হামলা করে তাদের বের করে দেয়া হয়। মুরাদপুর মাদ্রাসা কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। সরকারি দলের নির্দেশে এস আই গোলাম ফারুকের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই কেন্দ্র তালাবদ্ধ করে দেয়। জামায়াত নেতা আরো অভিযোগ করেন, ৫২ এবং ৫৩ নং ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে সরকারদলীয় কর্মীরা। ৩৯ নং ওয়ার্ডের শেরে বাংলা সেন্টার দখল করে নিয়েছে সরকার সমর্থকরা। শাহজাহানপুর এলাকার দীপশিখা স্কুল, ডায়নামিক স্কুল, রিয়াল আইডিয়াল একাডেমি, আব্দুল গফুর শিক্ষাশিবির কেন্দ্র দখল করেছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এছাড়া অন্যান্য জায়গা থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে গণহারে জালভোট দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। তেজগাঁও বালক উচ্চ বিদ্যালয়, খিলগাঁও মডেল কলেজ, শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, পল্টনের বধির স্কুল, উত্তর কাফরুল প্রাইমারি স্কুলে সরকার সমর্থকদের জালভোট দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, রাজধানীর অধিকাংশ কেন্দ্রেই সাংবাদিকদের ঢুকতেই দেয়া হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে ঢুকতে দেয়া হলেও তাদের ক্যামেরা নিতে দেয়া হয়নি। পল্টন বধির স্কুলে জালভোট দেয়ার ছবি উঠাতে গেলে সাংবাদিকদের মারধর করে এবং তাদের ক্যামেরা ভাংচুর করে সরকার সমর্থকরা। পল্টনে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ৭ জন মহিলাসহ ২৭ জন এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৩৯ নং ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল ওমেন্স কলেজে শেরেবাংলা থানা পুলিশ সাংবাদিকদের ক্যামরা নিয়ে ঢুকতে দেয়নি এবং কোন প্রকার ইন্টারভিউ না নেয়ার নির্দেশ দেয়। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জালভোট, এজেন্টদের উপর হামলা, গ্রেফতারের মাধ্যমে এই নির্বাচন ৫ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনকেও হার মানিয়েছে। ইতোপূর্বে সরকারদলীয় মন্ত্রী এমপিরা বলছিলেন কিভাবে নির্বাচনে জিততে হয় তা তাদের জানা আছে। এই নির্বাচনে তাদের এই ষড়যন্ত্র আর কূটকৌশলের বাস্তব প্রতিফলনের সাক্ষী হলো মহানগরবাসী। সরকার বারবার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার কথা বললেও কারচুপি আর জালভোটের মাধ্যমে একদলীয় প্রহসনের নির্বাচনের আরো একটি নাটক মঞ্চস্থ করলো। সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

%d bloggers like this: