সিটি কর্পোরেশনগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান : মেয়র

23.12.14-ccc-khulna mayarনিউজগার্ডেন ডেস্ক : নগর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় শহর হতে শহরে অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসাবে খুলনা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর, কর্মকর্তা, কমিউনিটি প্রতিনিধি ও প্রজেক্ট স্টাফদের মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম বলেন, সিটি কর্পোরেশনগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। এ সবই সরকারের প্রতিষ্ঠান। দলমত নির্বিশেষে বৈষম্যহীনভাবে সেবা দেয়াই জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে বিগত ৪ বছরে নগরীর ৩৫টি ওয়ার্ডে অবকাঠামো উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ৩৫ কোটি ৭৩ লক্ষ ১১ হাজার ২ শত ৩১ টাকা ব্যয়িত হয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে নগর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় গভীর/ অগভীর নলকূপ স্থাপন, স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন, ফুটপাত নির্মাণ, ওয়াটার রিজার্ভার, ড্রেন স্ল্যাব, সিঁড়ি ও সড়ক বাতি নির্মাণসহ অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়াও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তহবিলের অধীনে দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের সম্পদ, আয় ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষানবীশ, থোক বরাদ্দের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি, শিক্ষা সহায়তা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম, নগর খাদ্য উৎপাদন, চিকিৎসা সেবা, পথবাসীদের সেবাসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করে আসছে। সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম মতবিনিময়ে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিচ্ছন্নতা, উন্নয়ন ও সড়কবাতি ইত্যাদি কাজে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সেবা অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের চেয়ে বিরল। তিনি বলেন, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৭০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। মেয়র বলেন, বিগত ৪ বছরে ৯০০ কোটি টাকার উন্নয়নের পাশাপাশি খাল খনন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। সিটি মেয়র আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের আমদানি ও রফতানি পরিচালিত হয়। দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম বন্দর। তিনি বন্দর নগরীতে এক্সচেঞ্জ ভিজিটে আসার জন্য খুলনার মেয়র, প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর, ইউপিপিআর এর কর্মকর্তা ও ক্লাস্টারদের অভিনন্দন জানান। তিনি আরো বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বসবাসরতদের পুনর্বাসনের লক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলছে। তিনি এ বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ইতোমধ্যে ঝুঁকিতে বসবাসরত ১ হাজার পরিবার পুনর্বাসনের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের নিকট আবেদন করা হয়েছে। মতবিনিময়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে গেছে। এই নগরীকে জাতীয় অর্থনীতির চালিকা শক্তি হিসাবে আখ্যায়িত করে খুলনার সিটি মেয়র বলেন, সুপ্রাচীন কাল থেকে চট্টগ্রাম ও খুলনার ঐতিহ্য রয়েছে। উভয় নগরী প্রাকৃতিক দুর্যোগের কেন্দ্রস্থল। বাধা-বিপত্তি ও দুর্যোগ মোকাবেলা করে উভয় সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর প্রত্যাশিত আকাঙ্খা পূরণের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলম, প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলরগণ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলরদের ক্রেস্ট ও ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিনন্দিত করেন এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলমকে তাদের কর্পোরেশনের মনোগ্রাম খচিত ক্রেস্ট উপহার দেন। শহর থেকে শহরে অভিজ্ঞতা বিনিময় সংক্রান্ত্র এই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ মো.আনিসুর রহমান বিশ্বাস ও প্যানেল মেয়র-২ রুমা খাতুন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ লায়ন মোহাম্মদ হোসেন, প্যানেল মেয়র-২ মিসেস জোবাইরা নার্গিস খান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম, টচচজ চট্টগ্রামের সদস্য সচিব নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল হুদা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*