সিজ়েরিয়ান ডেলিভারি অনেক নিরাপদ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ২৮ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার: আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগেও মহিলারা সাধারণ বা নর্মাল পদ্ধতিতে শিশুর জন্ম দিতেন। কিন্তু গত তিন দশকে চিত্রটা আগাগোড়া পালটেছে। শিশুর জন্ম দেওয়ার সময় বেশিরভাগ মহিলাই এখন সিজ়ার পদ্ধতিতে প্রসব করান। মানে তলপেট কেট বাচ্চাকে বের করে আনা হয়। কিন্তু কেন? হঠাৎ এই ভোলবদলের কারণ কী?
ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড মহিলারা বেশি বয়েসে মা হওয়ার পক্ষপাতি। বেশি বয়সের প্রেগনেন্সিতে ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়। মা আর সন্তান, দু’জনেরই প্রাণের সংশয় থাকে। সেই বিপদ থেকে বাঁচতেই সিজ়ারিয়ান পদ্ধতিতে ডেলিভারি করান বেশিরভাগ মহিলা। অ্যানাস্থেশিয়া করিয়ে পেট কেটে বাচ্চা বেরিয়ে আসবে, কোনও যন্ত্রণা ছাড়াই, নো লেবার পেইন। অনেক সময় হাইপ্রেসার বা ডায়াবিটিজ় থাকলেও চিকিৎসকরা সিজ়ার করতে বলেন।
মা-দাদীদের আমলে নর্মাল ডেলিভারিতে বাচ্চার জন্ম হত। যোনি থেকে বেরিয়ে আসত বাচ্চা। সে এক কষ্টকর অনুভূতি। অথচ যুগযুগ ধরে সেভাবেই স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বাচ্চার জন্ম হয়েছে। তাই জন্যই যোনিকে বলা হয় জন্মের উৎসস্থল। ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা লেবার পেইনের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে তারপর বাচ্চার জন্ম হত। তা ছাড়াও, কষ্টকর নর্মাল ডেলিভারিতে বাচ্চাদের প্রাণ সংশয় হত। অনেক মাও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। সেইসব কারণেই সিজ়েরিয়ান পদ্ধতিকে বেছে নিয়েছেন আজকের আধুনিকারা। অনেক সময় তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী দিনক্ষণ মিলিয়ে ডেলিভারির ব্যবস্থা করা হয়।
বর্তমান চিকিৎসা শাস্ত্রে সিজ়েরিয়ান ডেলিভারি অনেক নিরাপদ। অ্যানাস্থেশিয়ার প্রক্রিয়া অনেক উন্নত। লেবার পেইন সহ্য করতে হয় না। মা, বাচ্চার প্রাণের সংশয়ও কম থাকে। এতশত বিচার করেই সিজ়ারের দিকে ঝুঁকছেন আধুনিকরা। কিন্তু তা বলে কি সমস্যা একেবারেই নেই?
আছে, এখানেও সমস্যা আছে। ডেলিভারির পর মায়েদের তলপেটে বড়সড় ক্ষত তৈরি হয়। ফলে সংক্রমণের ভয়ও থাকে। একবার সিজ়ার করানোর পর, বারবার প্রেগনেন্সি নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা চলে আসে। খুব বেশি হলে দু’বার প্রেগনেন্সি নেওয়া যায়।
এ তো গেল মায়ের সমস্যা। সিজ়েরিয়ান বাচ্চাদেরও সমস্যা প্রচুর। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়। বারবার অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।
সিজ়ারিয়ান ডেলিভারি যখন ট্রেন্ড, তখন উচিত ডাক্তারের পরামর্শ মতো চলা। এই ডেলিভারি আদতেও শরীরে সুট করবে কিনা, সেটা নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা মাস্ট!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*