সিএমপি’র ইভটিজিং প্রতিরোধ সমাবেশ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : নিপীড়নের শিকার হলে পায়ের জুতা খুলে বখাটেদের পেটানোর জন্য স্কুলছাত্রীদের পরামর্শ দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল জলিল মন্ডল। program_2রোববার বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চ বিদ্যালয়ে ইভটিজিং প্রতিরোধে আয়োজিত সমাবেশে ছাত্রীদের তিনি এ পরামর্শ দেন। পুলিশ কমিশনার ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘রাস্তাঘাটে তোমাদের চেয়ে বয়সে বড় অনেক আংকেল তোমাদের বিরক্ত করে। তাদের দেখলে বলবে, আংকেল অনেক তো বয়স হয়েছে, এখন ভাল হয়ে যান। না হলে পুলিশ দিয়ে কিভাবে শায়েস্তা করতে হয় সেটা আমরা জেনেprogram_3গেছি।’ তিনি বলেন, ‘বখাটেরা যদি তোমাদের দেখলে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে, খারাপ ইঙ্গিত করে তাহলে আস্তে করে পায়ে জুতা, স্যান্ডেল যা থাকে সেটা খুলে নেবে। রাস্কেলদের গায়ে, মুখে যেভাবে পারবে সেভাবে পেটাবে। আমি তোমাদের পুরস্কৃত করব।’ তিনি ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘অনেকের পারিবারিক কিংবা সামাজিক সমস্যা থাকতে পারে। ব্যক্তিগত অসুবিধাও থাকতে পারে। কিন্তু যারা শারীরিকভাবে সক্ষম তারা বখাটেদের দেখলেই জুতাপেটা করবে। তার জন্য যা যা সাপোর্ট লাগে আমি দেব।’ তিনি ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘পুলিশ তোমাদের পাশে আছে। ভয়ের কোন কারণ নেই। সাহস করে নিজের অপমানের প্রতিবাদ করবে।’ সমাবেশে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার ইভটিজারদের প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দেন স্কুলের কয়েক’শ ছাত্রীর কাছে। বনজ কুমার মজুমদার একটি মোবাইল নম্বর (০১৮৪১৩৭৩২৩৭) দিয়ে ছাত্রীদের জানান, নিপীড়নের শিকার কোন ছাত্রী মোবাইল নম্বরে ৩৭৩ লিখে একটি এসএমএস দিলে হবে। ওই ছাত্রীর নম্বরে নগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একজন ফোন দিয়ে তার অভিযোগ লিপিবদ্ধ করবেন। পরে অভিযুক্ত বখাটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। বনজ মজুমদার ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যদি নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা আমাদের খুলে বলেন তাহলে আমি কথা দিচ্ছি আপনি যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন, সে রাস্তার ছেলে হোক, স্কুলের শিক্ষক হোক, বন্ধু হোক কিংবা ঘরে-পাড়ায় অন্য কেউ হোক, সেই নিপীড়নকারী কোনদিন জানবে না তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী কে। ‘যদি আপনি না চান, তাহলে আপনার স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাও কোনদিন বিষয়টি জানবেন না। আপনার সম্মতি ছাড়া আপনার বাবা-মাকেও বিষয়টি জানানো হবে না।’ এভাবেই ছাত্রীদের বুঝিয়ে দেন বনজ কুমার মজুমদার। সমাবেশে নগর পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) কামরুল আমীন, অতিরিক্ত programউপ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং সহকারি কমিশনার (কোতয়ালি জোন) শাহ মো. আব্দুর রউফও উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা আনোয়ারা বেগম এবং দশম শ্রেণীর দুই ছাত্রী সালমা জাবিন নুসাবা ও কারিশমা কবির ঐশি বক্তব্য রাখেন। এর আগে গত ৬ মে ডা. খাস্তগীর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ইভটিজিংবিরোধী সমাবেশের মধ্য দিয়ে স্কুলে স্কুলে এ কর্মসূচী শুরু করেছে নগর পুলিশ। বনজ কুমার মজুমদার জানান, পুলিশ নগরীর প্রত্যেক হাইস্কুলে গিয়ে ইভ টিজিংবিরোধী সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র : শীর্ষ নিউজ

Leave a Reply

%d bloggers like this: