সার্চ কমিটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখবে বিএনপি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: ২৮ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার: নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও অপাতত সার্চ কমিটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখবে বিএনপি। নতুন ইসি গঠনে কোন প্রক্রিয়ায় এ কমিটি এগোচ্ছে, কাদের তারা বাছাই করছে, সরকারের ইচ্ছার কী ধরনের প্রতিফলন তাদের মাধ্যমে ঘটছে, তা সূক্ষ্মভাবে দলের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল নেতারা নজরে রাখবেন বলে জানা গেছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সিনিয়র নেতাদের সাথে আলাপকালে এখনই কোনো করণীয় নির্ধারণ না করে ইসি গঠন পর্যন্ত গতিবিধি সতর্কভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে সার্চ কমিটি নিয়ে ইতোমধ্যে যে ‘নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া’ তৈরি হয়েছে, তা আরো জোরালো করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সার্চ কমিটি গঠনের পর বিএনপি প্রধান দলের আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক না ডাকলেও সিনিয়র নেতাদের সাথে এ নিয়ে তার কার্যালয়ে প্রতিদিনই কথা বলছেন। খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ এক নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে সরকারের মোটিভ বিএনপির কাছে স্পষ্ট। খালেদা জিয়াও মনে করছেন, ইসি গঠনে তাদের কোনো সুপারিশ আমলে না নিয়ে সরকার নিজেদের এজেন্ডা পূরণের পথেই হাঁটছে। তবে তিনি পরবর্তী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে সতর্কভাবে ‘সময়মতো’ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষে রয়েছেন।
বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, নতুন নির্বাচন কমিশন কেমন হয়, তা মূল্যায়ন করে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। নতুন ইসি ‘বিতর্কিত’ বা কোনো ‘সুনির্দিষ্ট ঘরানার’ হলে, তারা এ ইস্যুটি ছেড়ে দেবেন না। পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ টিকে টেনে নিয়ে যাবেন। তখন অন্যান্য ইস্যুর সাথে আন্দোলনও গড়ে উঠবে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ ধরনের সার্চ কমিটি সরকারের পরিকল্পিত। সরকার যদি এ কমিটিতে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের আনতেন তাহলে জনগণের মনে আশা জাগত। কিন্তু এমন সার্চ কমিটি গঠনের ফলে আমার মনে হয় আবারো সব কিছু থেমে গেল। এ কমিটিতে সঙ্কট কাটল না। এর ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বাড়ল। আর এর দায়দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।
দলের এক নেতা জানিয়েছেন, কেবল নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনই বিএনপির দাবি নয়। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছে তারা। আগামী মাস দু’য়েকের মধ্যে সহায়ক সরকারের রূপরেখা তারা তুলে ধরবেন। আর এ দুটো দাবিকে একত্রে মিলিয়ে আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা পর্যালোচনা করেই সেই আন্দোলনের ধরন নির্ধারণ করা হবে।
গত ১৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন গঠন ও শক্তিশালী করতে খালেদা জিয়া ১৩ দফা প্রস্তাব তুলে ধরার পাশাপাশি সহায়ক সরকারের কথাও বলেছিলেন। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে বিএনপির প্রতিটি পদক্ষেপ বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রভাবশালী কূটনীতিকদেরও জানানো হচ্ছে। খালেদা জিয়া ইসি নিয়ে যে ১৩ দফা প্রস্তাব ও অন্যান্য সুপারিশ তুলে ধরেছিলেন, তা বিএনপি প্রধানের একটি চিঠিসহ কূটনীতিকদের দেয়া হয়েছিল। সার্চ কমিটি গঠনের পর অনানুষ্ঠানিকভাবে সরকারের নেয়া এ পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে তাদের। রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ কমিটি কাদের দিয়ে গঠন করা হয়েছে, তাও বিস্তারিত অবহিত করা হচ্ছে।
জানা গেছে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ বেশ কয়েকজন কূটনীতিক ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্্রপতির সাথে দেখা করার আবেদন করেছেন। কিন্তু সে আবেদন এখনো পর্যন্ত বিবেচনায় নেয়া হয়নি। জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক (ইউএনআরসি) রবার্ট ওয়াটকিনসও বলেছেন, তারা রাষ্ট্রপতির সাথে নির্বাচনের সার্বিক প্রক্রিয়া নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে চান। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছেÑ এসব নিয়ে আলাপ করতে চান। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগে সুপারিশ করার জন্য নবগঠিত সার্চ কমিটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে আমরা জানতে চাই।
জানা গেছে, কূটনীতিকেরা নিজ উদ্যোগেও ইসি গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথে নানা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে কূটনীতিকদের দেখা হচ্ছে। বিএনপি নেতারাও প্রতিটি পদক্ষেপ তাদের অবহিত করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*