সারাদেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ নভেম্বর: সারাদেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকালও দেশের বিভিন্ন জেলায় চালানো হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে ৭ শতাধিক লোককে।g
সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ধরপাকড় হয়েছে জামালপুর, খুলনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মেহেরপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও নীলফামারীতে। এর মধ্যে জামালপুরে ১৪৯, খুলনায় ১১৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৮৮, মেহেরপুরে ৫৬, সাতক্ষীরায় ৪৪, বাগেরহাটে ৩২, নীলফামারীতে ২৯, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৭, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৫, লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ১৭, গাজীপুরে ১২, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ১০, ঝিনাইদহে ৯, কুড়িগ্রামে ৬, রাবিতে ৪, জাবিতে ২ ও নোয়াখালীর সেনবাগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন খুলনা মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান রিপন, রূপসা থানা বিএনপির সহসভাপতি মোল্যা সাইফুর রহমান, মেহেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি খন্দকার রাশেদুল আলম, মানিকগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আসলাম হোসেন সাদি, আশুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি ফাইজুর রহমান, সেনবাগ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম রুবেল, সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সাধু, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আবদুল হান্নান ও গোদাগাড়ী পৌর জামায়াতের আমির মেজবাহ-উল হক, শরণখোলা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাকসুদুর রহমান ও সরিষাবাড়ী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাসুদ রানা দুলাল প্রমুখ।
এদিকে নাশকতার মামলায় হাজিরা দিতে গেলে কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার দুই কাউন্সিলরসহ বিএনপির ১২ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। তারা হলেন বিএনপি নেতা ও পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সহিদুজ্জামান সরকার, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামাল হোসেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাইয়ূম খান, পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুনুর রশিদ, বিএনপি নেতা সফিকুল ইসলাম, যুবদল নেতা আবু তাহের টিটু, জাহাঙ্গীর আলম, সহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা হারুনুর রশিদ ও দেলোয়ার হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের মুক্তি দাবি ছাত্রদলের
এদিকে সংগঠনের গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান গতকাল এক বিবৃতিতে ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদ আলম লাবু, সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন রাজেস, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ জাকারিয়া উৎপল, সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এবং দাউদকান্দি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নোমান খন্দকারকে গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
খুলনা : খুলনা মহানগর ও জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান রিপন, ১৪নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির মোস্তাফিজুর রহমানসহ ১১৫ জন।এর মধ্যে কেএমপি ৪৮ ও জেলা পুলিশ ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করে।
সোমবার রাতভর মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) বিশেষ শাখার এডিসি মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, খুলনা সদর থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সহ-আবদুস সালাম ও ফকিরহাট থানা জামায়াতে ইসলামীর রোকন খান মোজাফ্ফর হোসেনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে থানা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম হিরাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। লবণচরা থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আজাদ, ৩১নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রিয়াজ ও যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। হরিণটানা থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপি কর্মী ইউনুচ আলী শেখ ও জামায়াতকর্মী সিদ্দিকুর রহমানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
খালিশপুর থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান রিপনসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
দৌলতপুর থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. মিন্টুসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আড়ংঘাটা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৪নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে। খানজাহান আলী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, বিএনপিকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এ ছাড়া জামায়াত নেতাদের কাছ থেকে বেশ কিছু বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে খুলনা জেলা পুলিশের ওসি ওয়াস আবদুর রশীদ জানান, সোমবার রাতে পাইকগাছা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জামায়াত নেতা এস এম গোলদার, ছাত্রশিবির নেতা সাদ্দাম হোসেন ও কৃষক দল নেতা জবেদ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে। কয়রা থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত নেতা তাইজুর রহমান, সাজুল ইসলাম ও আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে।
রূপসা থানা পুলিশ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপির থানা সহসভাপতি মোল্যা সাইফুর রহমান, বিএনপিকর্মী হুমায়ুন কবীর ও মো. ইউনুচ শেখকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া জেলার নয়টি থানার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে উপরোল্লিখিত বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নয়জনসহ ৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জামালপুর : জামালপুর সদরসহ পাঁচ উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে জেলার ৬ উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের ১৯ ও বিএনপির ১০ জন রয়েছেন। বাকি ৪৪ জন বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নাশকতার পরিকল্পনা করায় জেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ২৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
মেহেরপুর : মেহেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ফারুক হোসেনসহ বিএনপি-জামায়াতের ৫৬ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে জেলার তিনটি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এদের আটক করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে সদর থানায় ২৬, মুজিবনগর থানায় ১৭ এবং গাংনী থানায় ১৩ বিএনপি-জামায়াত কর্মীকে আটক করা হয়।
মেহেরপুর পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, নাশকতা প্রতিরোধের অভিযানের অংশ হিসেবে গতরাতে জেলার তিনটি থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় জামায়াত-বিএনপির ৫৬ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে পূর্বের নাশকতা মামলার কয়েকজন আসামি রয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের ৩৩ কর্মীসহ ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত জেলার আটটি থানায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বিএনপির ৫, জামায়াত-শিবিরের ২৮ ও নিয়মিত মামলার ১১ আসামি রয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই এনামুল হক জানান, রাতে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ১১, কলারোয়া থানা থেকে ৭, তালা থানা থেকে ৩, কালীগঞ্জ ৮, আশাশুনি ১, দেবহাটা ১০ ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বাগেরহাটে জামায়াতের সেক্রেটারিসহ আটক ৩২
বাগেরহাট : বাগেরহাটে বিশেষ অভিযানে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের ৩০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে শরণখোলা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাকসুদুর রহমান রয়েছেন। আটক বিএনপি-জামায়াতের ৩০ নেতাকর্মীকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নীলফামারী : ১২ ঘণ্টার অভিযানে যৌথবাহিনী বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ২৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে অভিযান শুরু করে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।
জেলা সদরে ১১, ডোমার উপজেলায় ৩, ডিমলায় ১১, জলঢাকায় ২, সৈয়দপুরে ১ ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চাঁপাই নবাবগঞ্জে গ্রেপ্তার ২৭
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের ৩ কর্মীসহ ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলার পাঁচ উপজেলায় সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালিয়ে নাশকতার আশঙ্কায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জামায়াতের ২ জন এবং শিবিরের একজন কর্মী রয়েছেন। অন্যদের মধ্যে ৬ জন নিয়মিত মামলা এবং ১৮ জন ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয় বলে পুলিশ কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় গত সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। এদের মধ্যে ১১ বিএনপি নেতাকর্মী ও পাঁচ জামায়াত-শিবিরকর্মী। অন্য পাঁচজন মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কসবা থানা উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদেরও গতকাল দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিচারিক হাকিমের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠান।
লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানা পুলিশের রাতভর চিরুনি অভিযান। পাটগ্রাম পৌরসভাসহ চার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিএনপি-জামায়াত, শিবিরের ১৭ নেতাকর্মী সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করেছেন থানা পুলিশ।
পাটগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বিভিন্ন মামলায় ১৭ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের লালমনিরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আশুগঞ্জ : র‌্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি ফাইজুর রহমানসহ ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করেছে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন জানান, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে উপজেলা যুবদলের সভাপতি ফাইজুর রহমানসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ থানায় নাশতকার পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
জামালপুর: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাসুদ রানা দুলাল ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান যুবদল সদস্য মিজানুর রহমান সাধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে আরামনগর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই নেতাকে সরিষাবাড়ী থানায় নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তাদের গতকাল আদালতে সোপর্দ করে।
দিনাজপুর: বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জামায়াত-বিএনপির ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘোড়াঘাট থানার সহকারী পরিদর্শক দুলাল জানান, সহকারী পুলিশ সুপার ফুলবাড়ী সার্কেল ও ঘোড়াঘাট থানা অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের চার উপজেলায় যৌথ অভিযানে জামায়াত-শিবিরের ৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে হরিণাকুণ্ডু থানায় ৫, শৈলকুপায় ২, কোটচাঁদপুরে ১ ও মহেশপুরে ১ জনকে আটক করা হয়েছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহর আলী শেখ জানান, নাশকতা প্রতিরোধে রাতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ৪ উপজেলা থেকে ৯ জনকে আটক করা হয়।
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ৬ জামায়াত-শিবিরকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। গতকাল গভীর রাতে উপজেলার গজেরকুটি এলাকা থেকে তাদের পুলিশ আটক করে। ফুলবাড়ী থানার ওসি এ বি এম রেজাউল ইসলাম জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে ১৫১ ধারায় মামলা করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
জাবি: বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের পর দুই ছাত্রদলকর্মীকে সন্দেহবশত ধরে নিয়ে পেটায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। পরে তাদের দুজনকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। গতকাল দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। মিছিলটি ব্যাচেলর কোয়ার্টারে গিয়ে শেষ হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে শহীদ রফিক জব্বার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নওশাদ আলম অনিকের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪১তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রদল কর্মী রফিকুল ইসলাম পাপ্পু ও মো. সাদ্দাম হোসেনকে নিজ বিভাগ থেকে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন চত্বরে আনা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলের উপস্থিতে ওই দুই ছাত্রদল কর্মীকে মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের আশুলিয়া থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
রাজশাহী: রাজশাহী মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আবদুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গেয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। গতকাল দুপুর ২টার দিকে রাজশাহীর নওদাপাড়া ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার সুশান্ত চন্দ্র রায় জানান, মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে জামায়াত নেতা আব্দুল হান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নগরীর রাজপাড়া থানার মোল্লাপাড়া লিলি সিনেমা হলের সামনে ট্রাকে আগুন ও হেলপারকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে থানায় সোপর্দ করা হবে।
ওদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর জামায়াতের আমির মেজবাহ-উল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে পৌর এলাকার মাধবপুর মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ জানান, জামায়াত নেতা মেজবাহ-উল হকের বিরুদ্ধে দুটি নাশকতার মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্র: শীর্ষ নিউজ

Leave a Reply

%d bloggers like this: