সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াতে দেয়া যাবে না: সিটি মেয়র

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১২ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার: অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে কেউ যেন সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন।

তিনি বলেন, আপনারা এই দেশের মানুষ, এই দেশের সন্তান। এই মাটি আপনারদের। এখানে আমার আপনার বলে আলাদা কিছু নেই। সবক্ষেত্রে আপনারা সমান অধিকার ভোগ করবেন এটাই বর্তমান সরকার চাই। মহান মুক্তিযুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। শহীদের রক্ত তো কোনো বাধা মানেনি। কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে খ্রিস্টান, কে বৌদ্ধ সেটা দেখেনি। সেই রক্ত একাকার হয়ে গেছে। লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কাজেই এই স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প যেন ছড়াতে না পারে, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় প্রতিটি মানুষ যেন তার নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে এবং যার যার অধিকার যেন সবাই ভোগ করতে পারে সরকার সেই ব্যবস্থাটাই করছে। আজ ১২ জুলাই১৯ইং নন্দনকানন শ্রীশ্রী রাধামাধব মন্দির ও গৌর নিতাই আশ্রম সম্মুখে ডি.সি. হিল প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) চট্টগ্রাম আয়োজিত বিশাল ২২তম কেন্দ্রিয় উল্টো রথযাত্রার ধর্মীয় মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন উপরোক্ত মন্তব্য করেন। রথযাত্রায় মহান আশির্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসকনের হেডকোয়ার্টার ভারতের মায়াপুর হতে আগত ইস্কনের অন্যতম সন্যাসী শ্রীমৎ অমিয় বিলাস স্বামী মহারাজ, বাংলাদেশ ইস্কনের সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রীমৎ ভক্তিপ্রিয়ম গদাধর গোস্বামী মহারাজ। নন্দনকানন ইস্কন মন্দিরের অধ্যক্ষ পন্ডিত গদাধর দাস ব্রহ্মচারী’র সভাপতিত্বে ও সুমন চৌধুরী’র সঞ্চালনায় উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম বিপিএম। চট্টগ্রাম ইস্কনের বিভাগীয় রিজিওন্যাল সেক্রেটারি শ্রীপাদ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পটিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ডা: তিমির বরণ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি এড. চন্দন তালুকদার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দে, চট্টগ্রাম মহানগর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, কেন্দ্রীয় জন্মষ্টমী পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. তপন কান্তি দাশ, বাংলাদেশ হিন্দু ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দুলাল মজুমদার, কোতোয়ালী থানার ওসি মো: মহসীন, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, মহিলা কাউন্সিলর নিলু নাগ, কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমীর শ্রী শচীনন্দন গোস্বামী, প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি অরবিন্দ পাল অরুণ, মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইস্কন মোহরা মন্দিরের অধ্যক্ষ সর্বমঙ্গল গৌর দাস ব্রহ্মচারী, নন্দনকানন ইস্কন মন্দিরের অকিঞ্চন গৌর দাস ব্রহ্মচারী, সাধারণ সম্পাদক তারণ নিত্যানন্দ দাস ব্রহ্মচারী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন যুগ্ম সম্পাদক মুকুন্দ ভক্তি দাস ব্রহ্মচারী, বলরাম করুনা দাস, সুবল সখা দাস ব্রহ্মচারী, শেষরুপ দাস ব্রহ্মচারী, অপূর্ব মনোহর দাস ব্রহ্মচারী, বলরাম শ্যাম দাস, কিশোর সরকার প্রমুখ। ধর্মীয় মহাসম্মেলনে হিন্দু নেতারা অভিযোগ করে বলেন, দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি রাষ্ট্রীয় অবজ্ঞা, অবহেলা আজও সুস্পষ্ট। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বাজেটে পূর্বেকার মত ধর্মীয় বৈষম্য অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, লোক গণনা পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিলে প্রকল্পভেদে ধর্মীয় সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ ১১ থেকে ১২ টাকা আর সংখ্যালঘুর মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৩ টাকা। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তীর্থ ভ্রমণ, কেন্দ্রীয় উপাসনালয় পরিচালনা, পুরোহিত, সেবায়েত, দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে, মডেল মন্দির স্থাপনে চলিত অর্থ বছরেও বাজেটে কোন বরাদ্দ রাখা হয় নাই। হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুরোহিত ও সেবায়েতদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে বিগত অর্থবছর পর্যন্ত বরাদ্দ থাকলেও এবারের অর্থবছরে অনুরূপ কোন বরাদ্দ নেই। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঘোষিত ২০০ কোটি টাকার অনতিবিলম্বে ছাড়, কল্যাণ ট্রাস্ট সমূহকে বাতিল করে ফাউন্ডেশনে রূপান্তর, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবী জানান। মহাশোভাযাত্রা নন্দনকাননস্থ শ্রীশ্রী গৌর নিতাই আশ্রম সম্মুখে ডিসি হিল প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নন্দনকানন রাধামাধব মন্দিরে এসে শেষ হয়। মহাশোভাযাত্রায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার নরনারীসহ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দ ব্যানার, প্লে-কার্ড, ফেস্টুন, পৌরাণিক সাজ ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে যোগদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*