সাতকাহন ইভেন্টের বয়স মাত্র এক বছর

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ মে ২০১৭, সোমবার: নারীর জয়গান নিয়ে গঠিত সাতকাহন ইভেন্টের বয়স মাত্র এক বছর। এরই মধ্যে তারা রাজধানীতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে ১২টি মেলার আয়োজন করেছে। আরো তিনটির আয়োজনের কাজ চলছে। সাতকাহন ইভেন্টের মত অন্তত ২০টি সংগঠন আছে যারা কাজ করছে উদ্যোক্তাদের সংগঠিত করে মেলার আয়োজন করতে। রাজধানীতে নারীদের এরকম ছোট মেলার আয়োজন এখন খুব জনপ্রিয়। এসব আয়োজনের ক্রেতা বিক্রেতা এবং আয়োজকদের বেশিরভাগই নারী।
সাকতাহন ইভেন্টের সংগঠক তামান্না ইসলাম অলি জানালেন, শুধু রাজধানী নয় তারা এই আয়োজন ছড়িয়ে দিতে চান সারা দেশে। এরই মধ্যে তারা চট্টগ্রাম এবং সিলেটে মেলা আয়োজনের চিন্তা করছেন। যদিও বিভাগীয় শহরগুলোতে নানাভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মেলা হয় কিন্তু তারা শুধু আলাদা করে নারী উদ্যোক্তাদের কথা ভাবছেন।
নূপূর জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। লেখা পড়া করতে করতেই চার বছর একটি সেল ফোন কোম্পনিতে চাকরি করেছেন। এখন চাইছেন নিজের মত করে কিছু করতে। এরই মধ্যে সাতকাহনসহ কয়েকটি মেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তার প্রতিষ্ঠান নিত্য নিমিত্ত। তিনি বললেন, এখন কাজ করেন সপ্তাহে তিন দিন। বাকি সময় দেন পরিবারে। তার জন্যে এটা খুব দরকার ছিল। সাত কাহন ইভেন্টের আর এক সংগঠক আবিদা সুলতানা। পাশাপাশি নিজেও একটি বুটিক হাউসও চালান। তিনি ব্যবসায় আছেন ৮ বছরেরও বেশি। তার দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নারীদের এই ছোট ছোট মেলায় অংশ নেন তিন শ্রেণির নারী। প্রথমত যারা বাচ্চা ও সংসারে সময় দিতে গিয়ে নিযমিত চাকরি করতে পারেন না।কিন্তু সংসারে কিছু বাড়তি টাকার দরকার হয়।
পাশাপাশি ঘরে বসে শতভাগ গৃহবধূ হতে যারা নারাজ তারা। এই ভাগটি সবচেয়ে সংখ্যাগুরু। ক্ষুদ্র নারী ব্যবসায়ীদের আরেকটি অংশ হচ্ছে যাদের ছেলে মেয়ে বড় হয়ে গেছে। এখন আর চাকরি করার বয়স নেই। সন্তানরা কাছে থাকে অথবা থাকে না। কিন্তু তাদেরকে আর নিয়মিত সময় দিতে হয় না। এখন বয়স হচ্ছে বলেই ছেলে মেয়েদের উপর ভর করতে হবে এমনটাও মানতে পারেন না। তাই শেষ বয়সে নিজের পায়ে সচল থাকতে ব্যবসা করেন। এই শ্রেণির সংখ্যাও মোট সংখ্যার মাঝামাঝি। আর তৃতীয় শ্রেণিটি হচ্ছে অ্যামেচার। লেখাপড়া শেষ। ছোট বেলা থেকেই ভেবেছিল স্বাধীন ব্যবসা করবে। তাই লেখাপড়া শেষ হতেই চোখে সফল ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নেমে পড়ে মাঠে। কিন্তু বড় দোকান নেয়ার পুঁজি নেই। অগত্যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নাম লেখান। তবে এই শ্রেণির সংখ্যা সব চেয়ে কম। কারণ এদের স্বপ্ন বেশি দিন থাকে না। একটা ভালো চাকরি পেলে অথবা বিয়ের পর চলে যায়। তামান্না অলি সাতকাহন গড়ার আগে পাট পণ্য নিয়ে কাজ করেছেন কিছু দিন। এখনো করেন। সাথে বুটিকসও যোগ হয়েছে। তবে এখন তার মনোযোগ নিজে স্টল দেয়ার চেয়ে মেলা আয়োজনের দিকে বেশি। তার মতে, কাজ করতে এত সমস্যা না থাকলে মেয়েরা এই খাতে অনেক ভালো করতো। সমস্যাগুলোর মধ্যে তিনি যেটা প্রধান মনে করেন সেটা হচ্ছে তাদের কোন সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। যে কারণে তাদের সমস্যাগুলো যারটা তাকে সমাধান করতে হয়। সম্মিলিতভাবে করতে পারলে, এই সমস্যাগুলো নীতি নির্ধারক পর্যায়ে পৌঁছানো যেতো। তামান্না অলির সঙ্গে একমত হন আরেক জন আয়োজক যাত্রা ডট কম এর আলমগীর হোসেন। তিনি আরেকটু যোগ করে বলেন, শুধু তাদের মেলা আয়োজনের নির্ধারিত কোন যায়গা নেই। ঢাকা শহরের ২০ থেকে ২৫টি ভ্যেনুতে মেলা হয়। ওইসব জায়গায় বিয়ে,  সেমিনার, সভার মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ভাড়া নিয়ে। এক্ষেত্রে ভেন্যু মালিকরা ঘণ্টার অজুহাতে অন্যান্য অনুষ্ঠানের চেয়ে তাদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া হাঁকেন। এতে দু’টো সমস্যা হয়। মেলার যারা আয়োজক তারা বেশি দামে ভাড়া নিয়ে স্টল মালিকদের কাছে সেই হারে ভাড়া নেয়। যে কারণে চাইলেও পণ্যের দাম কম রাখতে পারেন না স্টল মালিকরা। আর দ্বিতীয়ত, দিন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত হন ভোক্তা অথবা সাধারণ মানুষ। অথচ খরচ কম রাখতে পারলে বড় বড় শোরুমের চেয়ে তারা পণ্যের দাম কম রাখতে পারতেন। তিনি কোন কোন ভেন্যুতে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তোলেন। এসব ক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য চেয়ে বেশিরভাগ সময় ব্যর্থ হতে হয়। এত কিছুর পরেও হতাশ নন সাত কাহন ইভেন্টের দুই উদ্যোক্তা। তারা চেষ্টা করছেন নারীদের একত্র করার।
অনেকেই আছেন যারা অর্থনৈতিকভাবে চূড়ান্ত দুর্বল। অনেক সময় স্টলের ভাড়া দিতে পারেন না। অবস্থা বিবেচনায় দুর্বলদের নানাভাবে সুযোগ দিতে চায় সাত কাহন ইভেন্ট। একজন শিক্ষার্থী আছেন তাঁকে তাদের প্রতিটি ইভেন্টে কোন রকম ভাড়া ছাড়াই ব্যবসা করার সুযোগ দিয়েছেন। বলে দিয়েছেন তাকে, ব্যবসা করে লাভের টাকায় সে খাবে, পরবে। আর ভাড়ার টাকা না দিয়ে ওই টাকায় চালিয়ে নেবে লেখাপড়ার খরচ। তারা মনে করেন তাদের শত শত সমস্যা আছে ঠিক। কিন্তু এর কোন কোনটিই সমাধান অযোগ্য নয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: