সাতকানিয়া বাজালিয়া স্কুলে বর্তমানে ৩ জন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে

দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮ ইংরেজী, সোমবার: সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে তিনজন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন ফেরদৌসী আকতার নুরুল আমিন হোসাইনী ও অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজিত কারণ। অজিত কারণ উক্ত বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করার পর সম্প্রতি অবসরে যান। তিনি অবসরে যাওয়ার পর আবারো এই বিদ্যালয়ে চাকুরীর মেয়াদ বৃদ্ধি করার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি বিদ্যালয় নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। এমন কি তিনি বিদ্যালয়ের আলমারির চাবি হস্তান্তর করেনি বলে সূত্রেপ্রকাশ। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় সই করেন। এছাড়া তিনি বিদ্যালয়ের কর্মকান্ড নিয়ে কলকাঠি নাড়েন। তার এই অবৈধ কর্মকান্ডের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দেয়া হয়। তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট দায়িত্ব দেন। তিনি তদন্তকালে অজিত কারণের অবৈধ কর্মকান্ডের প্রমাণ পান। বিদ্যালয়ে সকলের উপস্থিতিতে হাজিরা খাতায় তার দস্তখত কেটে দেয়। জানা যায় অজিত শিক্ষা ম্যানুয়্যাল অমান্য করে আর্থিক লেনদেন করেন। তিনি বিদ্যালয়ের মোটা অংকের টাকা তছরুপ করেন। তার অনিয়মের কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বেতন বন্ধ রাখেন। উল্লেখ্য তিনি বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তি করার মামলায় জেল খেটেছেন। এদিকে অজিতের চাকুরীর মেয়াদ বৃদ্ধি না হওয়ার পর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সিনিয়র ভিত্তিক নূরুল আমিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু একটি মহল তাকে দায়িত্ব পালন করতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তার স্থলে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী শিক্ষিকা ফেরদৌসী আকতার। যা নিয়মবহির্ভূত। দায়িত্ব নিয়ে কাড়াকাড়ি করায় স্কুলে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। একটি স্কুলে তিনজন হেড মাষ্টার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া স্কুলে ছাত্র ছাত্রীদের পাশ Ñফেল নিয়ে কারচুপি করা হয় বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করা হয়। তিনি খাতা পূনঃ পরীক্ষা করার পর তিনজন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা ফরম পূরণের সুযোগ থেকে এখনো বঞ্চিত রয়েছে। কারণ ফরম পূরণের সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। তবে শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে তারা ফরম পূরণ করার সুযোগ পাবে। তাদের দলাদলিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন বিপন্ন হতে চলেছে। ঐতিহ্যবাহী স্কুলের ঐতিহ্য কুচক্রী মহলের কারণে বিলীন হতে যাচ্ছে। অপরদিকে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক দায়িত্ব প্রাপ্ত নূরুল আমিন সৃষ্ট ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিকট অভিযোগ করেন। এক্ষেত্রে অভিভাবক ও এলাকাবাসী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করার সুষ্টু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য শিক্ষা বোর্ডসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: