সাতকানিয়া চন্দনাইশের বালুর মহাল থেকে সরকার ফি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে

এম এম রাজা মিয়া রাজু, ৩০ জানুয়ারি ২০১৭, সোমবার: সাতকানিয়া ও চন্দনাইশে কতিপয় ভূমি দস্যু শঙ্খ নদী ও ডলু খাল থেকে ড্রেজার মেশিন ও শত শত শ্রমিক দিয়ে দিন রাত সমান তালে ব্যাপক হারে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। জানা যায়, প্রতি ট্রাক বালু চাহিদা ভেদে ১হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করে। এসব ভূমিদস্যুরা প্রতিদিন প্রতিযোগিতা মূলক ট্রাক দিয়ে লক্ষ টাকার বালু বিক্রি করে। যে টাকা সরকার পাওয়ার কথা। কিন্তু তাদের কারণে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হতে চলেছে। সূত্রমতে এসব ভূমিদস্যুরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উপরি পাওনা দিয়ে শঙ্খনদী ও ডলু খাল থেকে বালু উত্তোলন করে। এতে চট্টগ্রাম কক্্রবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া চন্দনাইশের মধ্যবর্তী শঙ্খনদীর ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। অনুরুপ অবস্থা বিরাজ করছে সাতকানিয়া বাশঁখালী সড়কের ডলুব্রীজ এলাকায়। এছাড়া নদী ও খালের কুলবর্তী বাসিন্দারা প্রতি বছর বর্ষাকালে ভাংগনের কবলে পড়ে তাদের বাপ দাদা’র বসত ভিটা হারিয়ে মাথা গোজার ঠাঁই পাচ্ছে না। ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া বালু উত্তোলনের ফলে তারা ঘর বাড়ী হারার মত দৈন্যদশায় পতিত হচ্ছে। যেন মরা উপর খাড়ার ঘাঁ। অথচ সাতকানিয়া চন্দনাইশের অন্যান্য ছোট খাটো নদী খাল ইজারা দেয়া হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ চট্টগ্রামের খ্যাত শঙ্খনদী ও ডলু খাল রহস্যজনক কারণে ইজারা দেয়া হয়নি। এতে যেমন নিশ্চুপ সংশ্লিষ্ট বিভাগ তেমন মাথা ঘামান না জনপ্রতিনিধিরাও। ফলে পোয়া বারো হয়েছে ভূমিদস্যুদের। এদিকে উক্ত ব্রীজ ধসে পড়লে দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা পুরো দেশের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়বে। এরকম ২টি গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজ নিয়ে ভূমিদস্যুরা ছিনিমিনি খেলছে। তবে ব্রীজ ধসে কিংবা ভেঙ্গে পড়লে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্ছা যাওয়ার পাশাপাশি দেশের মানুষের অর্থনীতির উপর মন্দাভাব দেখা দিবে। সূত্রেপ্রকাশ ডলু খালের যেস্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে সেস্থানে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরপর ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাছাড়া শঙ্খনদীর ব্রীজের নীচ থেকে যেসব ভূমিদস্যুরা বালু উত্তোলন করছে এজন্য তারা প্রতি ঘাটে ঘাটে টাকা দেয় বলে সূত্রেপ্রকাশ। তাদের কোন পেশা নেই। সরকারী নদী খাল থেকে বালু উত্তোলন করাই তাদের ব্যবসা। তারা প্রতিদিন অবৈধ ভাবে বালু বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা গুনছে। বিনা পুজিঁ ও পরিশ্রমে তাদের পরিবার ভালই চলছে। তারা লাল শালু কাপড় পড়ে মনের আনন্দে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। এসময় সুযোগ পেলে নেতার কাতারে বসে দুই হাত এদিক সেদিক নাড়ে। তাদের ভাবভঙ্গিমা দেখে লোকজনের ধারণা হয় তারা তো নেতা। তবে গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল। উপায় নেই ! তাদের অর্থ ও বিদ্যা না থাকলেও আছে মানুষ মারার অস্ত্র। কাজেই এলাকার জনসাধারণ ক্ষতির শিকার হলে ও প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রশি টানাটানি করে যাচ্ছেন। দুই জনের মধ্যে একজনে বলছেন ইহা চন্দনাইশের অংশ। আরেক জন বলছেন সাতকানিয়ার অংশ। এসুযোগে ভূমিদস্যুরা পাহারা বসিয়ে বেনসন সিগেরেট ফুকিঁয়ে মক্কেল থেকে টাকা গুনে। লোকজনের অভিমত সাতকানিয়া কিংবা চন্দনাইশের হোক তাতে কি আসে যায়। এই ভূÑসম্পদ তো সরকারী। এই সম্পদ রক্ষা করা উচিৎ দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের। বিপুল রাজস্ব আয়ের দুই প্রধান উৎস নিয়ে কারা কলকাটি ঘোরাচ্ছে সে প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। সরকারী সম্পদ লুন্ঠনকারী এসব অপরাধীদের খুজেঁ বের করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করার অবতীর্ণ হতে হবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। সূত্রমতে যদি তদের হাত থেকে এই বালুর মহাল রক্ষা করে ইজারা দেয়া হয়, তাহলে সরকারের কোষাগারে লক্ষ লক্ষ টাকা জমা হবে বলে জানা গেছে। কিন্তু তদারকি বিভাগ সে ব্যবস্থা নিতে নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এলাকার কতিপয় চিহ্নিত বখাটে ভূমিদস্যু ও ভূমিখেকো সরকারী নদী খালকে পৈত্রিক সম্পদ হিসেবে লুটেপুটে খাচ্ছে। ফলে কালক্ষেপন না করে এসব ভূমি দস্যুদের দমন করার জন্য এলাকার লোকজন দাবি জানিয়েছেন। তাদের কারণে লোকজনের বসত ভিটা ও ব্রীজ নদী গর্ভে অচিরে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*