সাতকানিয়ায় দিনরাত সমানতালে চলছে কেনা কাটা

এম এম রাজামিয়া রাজু, ১৯ জুন ২০১৭, সোমবার: ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে কেনাকাটা ততই বেড়ে চলেছে। ঈদের বাকী আর ৬/৭ দিন। কাজেই ঈদ বাজারে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড়। মার্কেটের অলি গলিতে তিল পরিমাণ ঠাই নেই। বৃষ্টি বাদল উপক্ষো করে আদরের ছোট্ট মনিদের জন্য অভিভাবকরা কেনা কাটা করে যাচ্ছেন। সাতকানিয়ার কেরানীহাট নিউমার্কেট হক টাওয়ার পৌরসভা সদরের মকবুল সিরাজিয়া মার্কেট দেওয়ানহাট দেওদীঘি বাজার কাঞ্চনা ফুলতলা খোদারহাট বাজালিয়ার বোমাংহাট সহ অন্যান্য ঈদ বাজারে দিনরাত সমানতালে বিকিকিনি হচ্ছে। এছাড়া চন্দনাইশের হাজারী শপিং হাজারী টাওয়ার সামশুদ্দিন মার্কেট সালাম প্লাজা খান প্লাজা খানহাট বাগিচাহাট রৌশন হাট ও বৈলতলীর ইউনুচ মার্কেটে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। তবে দোকানীরা কাপড়চোপড় বিক্রিতে বাধ সেজেছে। তারা ঈদকে পুজি রেখে দাম হাকাঁয় নাভিশ্বাস। পণ্যের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ৩/৪ গুণ বেশি দাম হাকায়। তাদের ভাবভঙ্গি ও দামশুনে ক্রেতারা হতভম্ব হয়ে পড়ে। যেসব গ্রাহক তাদের চালবাজী টের পায় তারা ঠকে না। আর যারা তাদের ভঙ্গিতে বিচলিত হয়ে পড়ে তারা দারুণভাবে ঠকছে বলে জানা গেছে। এদিকে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় ঊৎসব ঈদকে ঘিরে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বাহারী পণ্যে সাজিয়ে তুলে। এসব চাকচিক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে দোকানে হরেক রকম বৈদ্যুতিক বাতি লাগিয়ে আলোকসজ্জা করা হয়। আলোর ঝিলিমিলিতে গ্রাহকরা তাদের পছন্দীয় কাপড় চোপড় নির্ধারণ করতে পারে না। ঈদ বাজারে অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী রয়েছে। তারা ঈদ উপলক্ষে দোকান খুলে গ্রাহকদের পয়সা হাতিয়ে নেয়। এসব দোকানের কর্মচারী গ্রাহক পেলে ছলচাতুরী শুরু করে। তাদের হাতে মহিলারা বেশীভাগ ঠকে। কালের পরিবর্তনের সাথে গ্রাহকের ও পরিবর্তন ঘটেছে। এখন ঈদ বাজারে পুরুষের চেয়ে মহিলারাই কেনাকাটা বেশী করে। ঈদ বাজার ঘুরে দেখা যায় শিশু থেকে ৬০ বছরের বুড়ি পর্যন্ত কেনাকাটা করেন। মার্কেটের চিপা গলির ভিতর ভীড়ের মধ্যে মহিলাদের ধম বের হয়ে যাওয়ার ভাব। ঠেলাঠেলির মধ্যে অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাছাড়া ঈদ বাজারে পকেটমার ও বখাটেদের উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। তারা সুযোগ পেলে মহিলা ভ্যানিটি ব্যাগ ও পুরুষদের পকেট মেরে চম্পট দেয়। তাদের খপ্পড়ে পড়ে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে পড়ে। অতি কষ্টের জমানো টাকা হারিয়ে আদরের ছেলেমেয়েদের জন্য কাপড় কিনতে ব্যর্থ হয়ে ভারী মন নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। আর সন্তানেরা পিতামাতার বিমর্ষ মুখ দেখে নির্বাক হয়ে পড়ে। ফ্যাল ফ্যাল বলে আব্বু কি হয়েছে আমাদের নতুন কাপড় কই! বাবার জবাব নেই। তাদের বন্ধুবান্ধবরা নতুন কাপড় পড়ে ঈদগাহে কোলাকুলি করবে। এই বাড়ি থেকে ওই বাড়িতে ঘুরে বেড়াবে। আর হাসিমুখে সেমাই ফিরনি পোলা ও খাবে। আর পকেটমার তাদের আনন্দ নিরাশ করে দিল। কিন্তু সাধ থাকলে ও কাপড় কেনার পিতার সাধ্য নেই। ঈদগাহে ধনী গরিব সবাই নতুন কাপড় পড়ে  সমানভাবে আনন্দ  উপভোগ করে ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: