সাতকানিয়ায় চাষাবাদের জমি সাগরে পরিণত হতে চলেছে

এম এম রাজা মিয়া রাজু, ২২ জানুয়ারী ২০১৭, রবিবার: সাতকানিয়ার কতিপয় ইটভাটার মালিকের ইন্ধনে প্রতিদিন স্কেভেটর দিয়ে ধানী জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে চাষাবাদের জমি সাগরে পরিণত হতে চলেছে। জানা যায় এখানে ৬০টির মত ইটভাটা রয়েছে। অধিকাংশ ইটভাটার লাইসেন্স নেই। কলেজ রোড কেওঁচিয়ার মাদারবাড়ীর ইটভাটায় ইট বানানো হয় ধানী জমির মাটি ও সরকারী বনাঞ্চলের কচিকাচাঁ গাছ দিয়ে। অপরদিকে এওচিয়া চূড়ামনি এবং ছদাহার ধইল্ল্যার বিল এলাকায় অবস্থিত ইটভাটায় পোড়ানো হয় পাহাড়েরর মাটি ও গাছ। তারা খনিজ মন্ত্রণালয়ের প্রণীত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করে দেশের সম্পদ ও পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতি করে নিজের পকেট ভারী করে যাচ্ছে। অথচ সরকার এসব দেখভাল করার জন্য রেখেছে বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর। এছাড়া রয়েছে প্রশাসন। এসব বিভাগের লোকজনের চোখ ফাকিঁ দিয়ে তারা কিভাবে অপকর্ম করে যাচ্ছে তা জনমনে প্রশ্ন হয়ে দাড়িঁয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগে নিয়োগকৃত কর্মচারী কর্মকর্তার বেতন ভাতা বাবদ সরকারের প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ ব্যয় হচ্ছে। তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। জানা যায় এলাকার কতিপয় বখাটে রার্নিং পার্টির নাম ভাঙ্গিয়ে দিনরাত সমান তালে ধানী জমি ও পাহাড় থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটছে। এসব বখাটেরা বিনিময়ে পাচ্ছে ইটভাটার মালিক থেকে মোটা অংকের টাকা। এতে যেমন ইটভাটার মালিকেরা ধনাঢ্য ব্যক্তি বনছে তেমনি বখাটেরা। তারা গাড়ী বাড়ীর মালিক হলে ও ধ্বংস হচ্ছে এলাকা তথা দেশের সম্পদ। যেসব ইটভাটার মালিক নিয়মকানুনের ধার না ধারে তাদের ইটভাটায় ধানী জমি ও পাহাড়ের মাটি এবং কাঠ পোড়ানো হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে কলেজ রোডের ফোর বিএম জিলানী ফাইভ বিএম জিবিএম মাদারবাড়ীর এন এইচ বি মিঠার দোকান ডিএনসি এম আর বি চিববাড়ীর মক্কা ব্রিকস মির্জাখীল দরবার ব্রীকস গারাংগিয়া রোডে বিবিএম ছদাহা ধইল্ল্যার বিলে শাহ আলম ব্রীকস ও মন্নান ব্রীকস। সূত্রমতে সম্প্রতি ফোর বিএমকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। ঢেমশার ধানী জমি থেকে মাটি বহনের একটি গাড়ী জব্দ করা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার কার্যালয়ে না পৌছার আগেই পুনরায় মাটি খেকো’রা মাটি কাটা শুরু করে। এলাকার লোকজনের প্রশ্ন এসব অপকর্মকারীদের খুটিঁর জোর কোথায়? তারা কি আইনের উর্ধ্বে? তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ হয় না কেন? তাদের জন্য মানুষ পরিবেশ বিচ্ছিন্ন হতে পারে না! তাদের কারণে সাতকানিয়ার মানুষ অচিরে ভূÑ সম্পদ হারার আশংকা দেখা দিয়েছে। সূত্রেপ্রকাশ মালিকেরা ইটভাটা টিকিয়ে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে মোটা অংকের টাকা উপরি পাওনা প্রদান করে। ফলে তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। ইটভাটার প্রণীত আইন প্রয়োগ করার জন্য এলাকার লোকজন সংশ্লিষ্ট বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*