সাতকানিয়ায় খালি স্ট্যাম্প উদ্ধারে আদালতে মামলা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৯ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ছরওয়ার কামাল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্প ও কার্টিজ পেপারে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঐ খালি স্ট্যাম্প উদ্ধারে আদালতে মামলা করার পরও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না বাদী ছরওয়ার কামাল।
সূত্র জানায়, গত ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ সন্ধ্যা অনুমান সাড়ে ৬ টায় সাতকানিয়া থানার কেরানীহাটের পূর্বের পাশে বিলে নিয়ে জোরপূর্বক ৬টি খালি স্ট্যাম্প ও ১টি কার্টিজ পেপারে স্বাক্ষর নেয়। এরপর ছরওয়ার কামাল তার কাছ থেকে নেয়া অলিখিত স্ট্যাম্প গুলো ফেরত চাহিলে ফেরত দেয়ার আশ^াস দিয়ে গত ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর বিকাল অনুমান ৪ টায় সাতকানিয়া থানার রাস্তার মাথার নিউ সাজানো ডেকোরেটার্সের সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে আবারও জোরপূর্বক ৬টি খালি স্ট্যাম্প ও ১টি কার্টিজ পেপারেও স্বাক্ষর নেয়। এ ব্যাপারে আদালতে একটি জিডি করেন ছরওয়ার কামাল। তারই ধারাবাহিকতায় একের পর এক ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার জের ধরে অভিযুক্ত আমির হোসেনের পুত্র মো. আলমগীর ছরওয়ার কামালের কাছ থেকে শ্বশুর বাড়ীতে যাওয়ার পথে বাড়ীঘাটা নামক স্থানে গত ১৮ মে দুপুর ১ টায় জিম্মি করে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে ছরওয়ার কামাল জানান।
এ ঘটনায় ছরওয়ার কামাল বাদী হয়ে সাতকানিয়ার ব্যবসায়ী পাড়ার জনার কেউচিয়ার আবুল হোসেন, লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা সিকদার পাড়ার নুরুল ইসলাম সিকদারে পুত্র মঈন উদ্দিন সিকদার, ডিবি পুলিশ পরিচয়কারী মোঃ রফিক ও সাতকানিয়া কেওচিয়ার আমির হোসেনের পুত্র মো. আলমগীরসহ ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিছ মামলা নং-৬২৬/১৯ইং (সাতকানিয়া) দায়ের করেন।
মামলা করার পর ছরওয়ার কামালের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে। এবং মামলাগুলো তুলে নেয়ারও হুমকি প্রদান করে। সে এব্যাপারে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে তার কাছ থেকে নেওয়া ১২টি খালি স্টাম্প ও ২টি কার্টুজ উদ্ধারের আবেদন করলে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। পিবিআইয়ের এস আই কামাল আব্বাছ উদ্ধারের চেষ্টা করে গত ২০১৯ সালের ২৫ জুন ৬টি স্ট্যাম্প ও ১টি কার্টিজ জব্ধ করে। জাল দলিল সৃজন করা স্ট্যাম্প জব্ধের দিনে তদন্ত কর্মকর্তার সামনেই আসামীগণ ছরওয়ার কামালকে মারধর ও তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। তদন্ত কর্মকর্তা বাদী ছরওয়ার কামালকে আসামীদের হাত থেকে রক্ষা করলেও পরবর্তীতে জব্ধ করা স্ট্যাম্পের ফটোকপি দিয়ে যোগসাজশকারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা, সন্ত্রাসী নেজাম উদ্দিন চেয়ারম্যান ও ডাকাত বশিরের সহযোগিতায় জাল দলিল সৃজন করেন। জাল দলিলের ফটোকপির মাধ্যমে তারা এখন বাদী ছরওয়ার কামালকে হুমকীতে রেখেছে। জাল দলিল সৃজনকারীরা, সন্ত্রাসীরা চেয়ারম্যানের নিকট অভিযোগ দেয়ার পর চেয়ারম্যান, ছরওয়ার কামালকে বিভিন্নভাবে হয়রাণী করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চেয়ারম্যানের ক্ষমতা হচ্ছে ৭৫ হাজার টাকার বিচারের রায় দেয়ার কিন্তু তিনি আইন বহির্ভূতভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার ঘাপলা নিরসন করার নাম করে বিচার প্রার্থীদের হেনস্থা করছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী ছরওয়ার কামাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*