সাতকানিয়ার ধানী জমি গিলে খাচ্ছে ইটভাটা

সাতকানিয়া প্রতিনিধি, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, বুধবার: সাতকানিয়ার চাষাবাদযোগ্য জমির মাটি প্রতিদিন ব্যাপক হারে কাটা হচ্ছে। কতিপয় ইটভাটার মালিক বড় মিশন তৈরি করে স্কেভেটার দিয়ে দিন রাত সমান তালে ধানী জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় স্তুপ করা হচ্ছে। ইটভাটার মাটির স্তুপ দেখে মানুষের মনে হয় বিলের মধ্যে পাহাড় গজিয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা এসব স্তুপের অবস্থা জানলে ও বাইরের জনসাধারণ জানে না। শুষ্ক মৌসুমে ইটভাটার মালিকেরা মাটির পাহাড় তৈরি করে তাদের সুবিধামত স্তুপকৃত মাটি থেকে ইট তৈরি করে। জানা যায় সাতকানিয়ায় ৬০ টির মত ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার হাতে গোনা ৩/৪ টির লাইসেন্স নবায়ন থাকলেও অবশিষ্ট ইটভাটার কোন অনুমোদন নেই। এছাড়া লোকালয়ে ও পাহাড়ী এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করার কোন নিয়ম না থাকলে ও ইটভাটার মালিকেরা উক্ত নিয়ম অমান্য করে ইটভাটা গড়ে তোলেছে। কৃষিবিদদের মতে জমির টপ সয়েল কেটে নেয়া হলে উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। জমিতে আর ফসল উৎপাদিত হয় না। এসব ইটভাটায় ধানী জমি ও পাহাড়ের মাটি কেটে ইট বানানো হচ্ছে। তাদের ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ। এতে ধ্বংস হতে চলেছে ধানী জমি পাহাড় ও বনাঞ্চলের গাছের বাগান। একাধিক স্কেভেটার দিয়ে মাটি কেটে মিনি ট্রাকে প্রতিযোগিতামূলক বহন করা হয়। ফলে বিল হচ্ছে সাগরে পরিণত । পাহাড় হয়ে পড়ছে চড়া । বন হচ্ছে বৃক্ষশূন্য। তাদের অবৈধ ইটভাটার কারণে স্কুল কলেজ মাদরাসার ছাত্রছাত্রীরা সহ এলাকার লোকজন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। তাছাড়া ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ। এক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের কোন ভূমিকা নেই। রক্ষক ভক্ষক হওয়ায় কৃষকেরা চাষাবাদ হতে বিমুখ হতে চলেছে। কাজেই এলাকায় রবিশস্য ও ফলমূলের চরম অভাব দেখা দিয়েছে। বনের হাতি খাদ্যের অভাবে লোকালয়ে নেমে পড়েছে। বন্য হাতির পালের আক্রমণে মানুষ পিষ্ট হচ্ছে। সূত্রমতে ইটভাটার মালিকেরা প্রায় ১ কোটি টাকার তহবিল গঠন করে ঘাটে ঘাটে টাকা দিয়ে রক্ষকদের ম্যানেজ করে সাতকানিয়ার বিলঘাট সাগরে পরিণত করছে। সাতকানিয়ার বিলের অবস্থা দেখলে সবাই অবাক হয়ে যায়। রাস্তার পাড়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ নিশ^াস ফেলে। এ কি কান্ড! এখানে জমি রক্ষার কেউ নেই বলে আফসোস করে। যারা ইটভাটার মালিক তারা একসময় নিতান্ত গরিব ছিল। তাদের মধ্যে কেউ ট্যাক্্ির চালক কেউ দিনমজুর আর কেউ ইটভাটার কয়লা মিস্ত্রির ছেলে অন্য কেউ দপ্তরীর ছেলে ইত্যাদি বলে এলাকায় পরিচিতি রয়েছে। তাদের এককালে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো। তারা অবৈধ পন্থায় ইট ব্যবসা করে কোটিপতি বনে যায়। হাঁকায় পাজেরো গাড়ি। বনে যায় শিল্পপতি। কিন্তু এখন ও তারা করে চোরাকারবার। তারা টাকার বিনিময়ে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ব্যবহার করে পাহাড়ী কচিকাঁচা গাছ পাহাড় ও ধানী জমির মাটি কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। জানা যায় জমির মালিকদের না জানিয়ে কিংবা জিম্মি করে জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যায়। এদিকে গত বছর জনৈক জমির মালিক মাটি কাটার সময় বাধাঁ দিলে তার উপর হামলা চালানো হয়। বিগত দিনে সাতকানিয়ায় ইটভাটা ছিল ৪/৫টি। এখন ইটভাটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ টি। বাঁশখালী সাতকানিয়া রোডের কাঞ্চনা চূড়ামনি সাতকানিয়া কলেজ রোড শাহ মজিদিয়া রোড মৌলভীর দোকান থেকে ঠাকুরদীঘি পর্যন্ত ও নলুয়ায় এসব ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে বিধি বিধান থাকলে ও এসব নিয়ম প্রয়োগ হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় এসব মাটি কাটা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। যেসব বিল থেকে মাটি কাটা হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে এসব জায়গায় চাষাবাদ করা যাবে ন্ া। এলাকার মানুষ উৎপাদিত ধানের ভাত আলু মরিচ শীম কপি আখ বাদাম খেতে পারবে না। পরাধীন হতে হবে অন্য স্থানের চাষীদের উপর। সাতকানিয়ার বিপুল সংখ্যক কৃষক বেকার হয়ে পড়বে। দেখা দিবে অর্থমন্দাভাব। ইটভাটার কতিপয় মালিক আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেলে ও ধ্বংসের উপক্রম হয়েছে সাতকানিয়াবাসী। এ ব্যাপারে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ বন ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: