সাগরে মাছ আহরণে ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করায় মৎস্যজীবীরা বেকার হয়ে পড়েছেন: বাবুল সরকার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার: ৬৫ দিন সব ধরনের মৎস্য আহরণের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা মানতে চান না জেলেরা। এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন তারা। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর নতুনব্রীজ এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়। আজ ১১ জুন মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় চট্টগ্রাম নগরীর নতুন ব্রীজ এলাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ ও সোনালী যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির ব্যানারে মানববন্ধন ও সমাবেশে শত-শত জেলে, ট্রলার মালিক, ট্রলার শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ও সোনালী যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল হক (বাবুল সরকার)। বাবুল সরকার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্বান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কাঠের ফিশিং বোট দিয়ে বঙ্গোপসাগরে জেলেদের ইলিশ আহরণ করতে দিতে হবে। মৎস্যজীবীদের বিকল্প ব্যবস্থা না করে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করা হবে। ছোট ছোট নৌকাও ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনায় লাখ লাখ জেলে পরিবার, মাছ ব্যবসায়ী ও বোট মালিকের জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। আমাদের দাবি হচ্ছে যেহেতু এসব ছোট ছোট বোট গভীর সাগরে যেতে পারে না, উপকূলে অল্প মাছ ধরে তাই তাদের নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে ঘোষণা দেওয়া হোক। আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আমরা ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। আশাকরি এর মধ্যে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।জীবিকার তাগিদে তারা জীবন বাজি রেখে মাছ স্বীকার করতে সাগরে ছুটে যান। আর এই জেলেরাই দেশের জিডিপিতে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকেন। প্রতি বছর ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা, জাটকা ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও সরকার ট্রলিং জাহাজের সঙ্গে ২২ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যার কারণে পথে বসে যাবে হাজার হাজার জেলে ও ট্রলার মালিক এবং আড়তদার। এর ফলে এলাকার জেলেরা চুরি, ডাকাতি এবং বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়বে। তাই ৬৫ দিন অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে । তা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ার দেন সংশ্লিষ্টরা।
তিনি আরো বলেন, সাগরে মাছ আহরণে ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করায় মৎস্যজীবীরা বেকার হয়ে পড়েছেন। ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণ বন্ধ থাকলে তাদের না খেয়ে থাকতে হবে। ওই সময় তাদের ভিক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। জেলেরা এ নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে ৩০ দিন করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মে থেকে জুলাই মাসের পরিবর্তে এ নিষেধাজ্ঞা চৈত্র থেকে বৈশাখ করার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, স্টিলবডি ও কাঠবডির ফিশিং ট্রলারের ক্ষেত্রে প্রতিবছর প্রজনন মৌসুমে ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। কারণ এসব ট্রলার নির্বিচারে বড় মাছের পাশাপাশি জাটকা, পোনা মাছ আহরণ করে। কিন্তু উপকূলীয় জেলেরা ছোট ছোট নৌযানে নির্দিষ্ট কিছু মাছই শুধু আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এবার এসব জেলেরাও মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।   বাবুল সরকার আরো বলেন, ‘আগে ইলিশ না ধরতে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ ছিল। এবার সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন ধ্বংস হবে। সরকার দ্রুত এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে আমরা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেব।’ তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে আমরা হাইকোর্টে রিট করব। দেশে মাছ ধরার ৬৫ হাজার বোট রয়েছে। প্রতি বোটে ২০ জন করে কাজ করে। মাছ ধরতে না পারলে তাদের খরচ আসবে কোথা থেকে?’
নগরীর পতেঙ্গা, ফিরিঙ্গিবাজার, পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জেলেরা ‘মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, মানি না মানব না’ স্লোগান দিতে থাকেন।সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকারী বোট মালিক সমিতির সভাপতি মো. নুর হোসেন, মৎস্যজীবিলীগের সাধারণ সম্পাদক এম মোতালেব তালুকদার, সহ-সভাপতি এম এ গফফার কুতুবী, উত্তর জেলা মৎস্যজীবী লীগের সহ-সভাপতি মো. ইমরান হোসেন, সহ-সভাপতি রিমন মুহুরী, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকারী বোট মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, শামসুল আলম জগলু, মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেমায়েত হোসেন মিন্টু, অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব আবদুল মুবিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রচার সচিব বিমল কান্তি দাশ, দপ্তর সম্পাদক মো. করিম উল্লাহ, জনসংযোগ সচিব মো. রফিক আহমদ, সমাজ সেবা সম্পাদক মো. সেলিম উল্লাহ, ক্রীড়া সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলহাজ্ব আহমদ কোং, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মো. জামাল, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মো. সিরাজ কোম্পানী, সদস্য আলহাজ্ব আবু বক্কর, আলহাজ্ব শাহাদাত হোসেন, মোহাম্মদ হোসেন, হাফেজ মোহাম্মদ ইসমাইল, আলহাজ্ব আবদুল শক্কুর, মৌলভী সিরাজুল ইসলাম, মো. মুছা, সেলিম আহমেদ, আমিন, শামসুল আলম, আবুল বাশার, নাছিমা আক্তার নুপুরসহ কয়েক’শ মৎস্যজীবী অংশ নেন।

 

Leave a Reply

%d bloggers like this: