সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৮ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার: পুলিশ সাংবাদিকদের নির্যাতন করে না, মাঝে মাঝে ধাক্কাধাক্কি লেগে যায়’- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের এমন বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়। সুন্দরবনের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে ডাকা ২৬ জানুয়ারির হরতালের দিন শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে এটিএন বাংলার দুই সাংবাদিককে নির্যাতনের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশটি করেন সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের কোনো বিচার হয়নি।
বুলবুল বলেন, পুলিশের সাংবাদিক নির‌্যাতন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে তিনিও তার পূর্বসূরি লুৎফুজ্জামান বাবর, সাহারা খাতুন, মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মতো অবিবেচক মন্ত্রী হিসেবে সাংবাদিকদের কাছে চিহ্নিত হবেন।
হরতালের দিন সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি নির্যাতন একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র- একজন মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের উল্লেখ করে সরকারের উদ্দেশে বুলবুল বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন এটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, তাহলে আন্তর্জাতিক মানের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করুন। সে কমিটিকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে দিন। তাহলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’
রামপালের ঘটনা নিয়ে পুলিশ সেদিন অন্যভাবে কাভারেজ নিতে চেয়েছিল দাবি করে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন নিউজের বার্তাপ্রধান মুন্নী সাহা বলেন, ‘সেটা নিতে না পেরে তারা সাংবাদিকদের ওপর এমন নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার বিচারের দাবি জানাই।’
নিরস্ত্র সাংবাদিকদের পুলিশ যেভাবে পিটিয়েছে, তা তা মানবতাবিরোধী বলে মন্তব্য করেন মুন্নী সাহা। তিনি বলেন, অতীতে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা বেড়ে চলছে। এসব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্তের নামে জামাই আদর করা হয়।’
ঘটনায় জাড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, তা হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের আর কোনো ঘটনা ঘটবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*