সরকার আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছে

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে নানা মহল থেকে কথাবার্তা বলা শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান সংসদের মেয়াদ ২০১৯ সাল পর্যন্ত বহাল থাকলেও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা এতো আগে থেকে শুরু হয়ে যাওয়ার কারণ হলো, সরকার আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছে। তাদের এমন অভিমতের কারণ সম্পর্কে তারা বলছেন যে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বর্তমানে সরকারের অনুকূলে যে হাওয়া বইছে তা বজায় থাকতে থাকতে সরকার নতুন করে ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতার আরেক মেয়াদ নিশ্চিত করতে চায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘জিতে’ আসতে এবং অন্যান্য সব আসনে ‘গৃহপালিত বিরোধীদল’সহ নির্বাচনে ‘জয়লাভ’ করতে সক্ষম হলেও, সরকারকে তার পেছনে জনসমর্থনের ম্যান্ডেট থাকা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধতার নৈতিক গ্লানি বহন করতে হচ্ছে। সেই প্রশ্নবিদ্ধতা ও নৈতিক দুর্বলতা দূর করার সুযোগ তার প্রয়োজন। নতুন করে ম্যান্ডেট নেয়াটা তার ক্ষমতায় অব্যাহতভাবে অধিষ্ঠিত থাকার ক্ষেত্রে তাকে নিরাপত্তা দিবে। এজন্যই সুবিধাজনক সময়ে, কিছুটা আগে-ভাগেই নির্বাচন দিয়ে, নতুন ম্যান্ডেট নিয়ে নেয়াটাই শ্রেয় বলে সরকার বিবেচনা করছে বলে এসব বিশ্লেষকের ধারণা।1
অন্যান্য অনেক বিশ্লেষকের ধারণা অবশ্য অন্যরকম। তাদের মতে, নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা এখন সামনে এসেছে সরকার আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছে বলে নয়। তা এ কারণে সামনে এসেছে যে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের সময় ঘনিয়ে আসায় নির্বাচনের ইস্যুটি স্বাভাবিকভাবেই আলোচিত হতে শুরু করেছে। ‘সার্চ কমিটির’ মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত করতে পারলে একতরফা নির্বাচনের কালিমার আশঙ্কা দূর করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা হয়তো সম্ভব হবে। সরকারের চেষ্টা হলো সেটিই। সে কারণেই নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা এখন সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।
সে যাই হোক না কেন, নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা যেহেতু সামনে এসেছে সেহেতু দেশবাসীর সামনে নির্বাচন ব্যবস্থার হালচাল নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। সে আলোচনা খুব প্রয়োজনও বটে। নির্বাচন সম্পর্কে অনেক বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়াটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে সেটি হলো নির্বাচন ‘অবাধ নিরপেক্ষ’ হওয়া নিশ্চিত করা। আগেও নির্বাচনে কিছু অনিয়ম ও কারচুপি যদিও ঘটে থাকতো, কিন্তু এদেশে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করার সূচনা হয়েছিল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত সামরিক শাসনের আমলে। এরশাদের সামরিক স্বৈরাচারী শাসনকালে প্রহসনমূলক নির্বাচনকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে এবং অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে দেশবাসীকে তীব্র সংগ্রাম গড়ে তুলতে হয়েছিল। সে সংগ্রামে অগণিত শহীদকে আত্মাহুতি দিতে হয়েছিল। ‘আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশি তাকে দিব’—এই শ্লোগান নিয়ে সিপিবি দেশের চার প্রান্ত থেকে লাগাতার ২১ দিন ধরে পায়ে হেঁটে পদযাত্রা করেছিল। এরশাদী স্বৈরশাসনের অবসান ঘটানোর সংগ্রামে এটি ছিল অন্যতম প্রধান শ্লোগান। এরশাদের পতনের পর ‘নির্বাচনী প্রহসন’ থেকে মুক্ত হয়ে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করাটি দেশের গণতান্ত্রিক শক্তির জন্য হয়ে উঠেছিল একটি প্রধান কর্তব্য। স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রামে ১৫-দল, ৭-দল ও ৫-দল মিলে যে আন্দোলন পরিচালনাকারী ‘তিন জোট’ ছিল, তারা বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল। এরশাদশাহীর পতনের পরে পরেই তিন জোটের পক্ষ থেকে “রাজনৈতিক দলসমূহের পারস্পরিক আচরণবিধি” ঘোষণা করে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছিল তার কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু ছিল অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের রূপরেখা। ঘোষিত এই আচরণবিধিটি পাঠ করলে বেশ স্পষ্টভাবে জানা যায় যে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সেদিন ‘তিন জোটে’ অন্তর্ভুক্ত দলগুলো দেশবাসীর সামনে কোন্ কোন্ বিষয়ে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল। এই দলিলটি পাঠ করলে একথা একইসাথে স্পষ্ট হয় যে দেশের তথাকথিত ‘মূলধারার’ দু’টি বুর্জোয়া দল জনগণকে দেয়া তাদের সেদিনের প্রতিশ্র“তি ভঙ্গ করে কিভাবে নির্বাচনকে আবার প্রহসনে পরিণত করেছে।
১৯৯১ সালের জানুয়ারি মাসে ঘোষিত “পারস্পরিক আচরণবিধিতে” আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ‘তিন জোটে’ অন্তর্ভুক্ত দলগুলো যে অঙ্গীকার করেছিল তার পূর্ণ বিবরণ এখানে উদ্ধৃত করছি। আচরণবিধির ভূমিকায় বলা হয়েছিল—
“গত ১১ নভেম্বর, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তিনটি রাজনৈতিক জোট এরশাদের স্বৈরাচারী সরকারের অপসারণ এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ সার্বভৌম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য অভিন্ন রূপরেখা পেশ করেছিলাম। সফল গণঅভ্যুত্থানের ফলে এরশাদের স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে এবং আমাদের অভিন্ন রূপরেখা অনুযায়ী সংবিধানসম্মতভাবে আমাদের মনোনীত অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির অন্তর্র্বতীকালীন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী ২৭ ফেব্র“য়ারি, ১৯৯১ দেশে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকল পর্যায়ে গণতন্ত্রের স্বীকৃতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ও তার চর্চার মধ্যদিয়েই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অগ্রসর হতে পারে। তদুপরি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে জনগণের বিজয়কে নস্যাৎ করার জন্য স্বৈরতন্ত্রের দোসরদের চক্রান্তও অব্যাহত রয়েছে। এজন্য আমরা তিনটি জোটের পক্ষ থেকে এরশাদের স্বৈরাচারী সরকারের সহযোগীদের গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছি এবং স্বৈরাচারের চিহ্নিত সহযোগীদের আমাদের কোনো দলে স্থান না দেওয়ার অঙ্গীকার ঘোষণা করেছি। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান দেশবাসীর সম্মুখে জাতীয় কর্তব্য হিসাবে উপস্থিত হয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস শত শহীদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বর্তমান পর্যায়ে বিজয়ী দেশবাসী অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জাতীয় কর্তব্যও দায়িত্বশীলতার সাথে সমাপন করবে এবং একে নস্যাৎ করার সকল ষড়যন্ত্র বানচাল করবে।”
কোথায় হারিয়ে গেল এসব প্রতিশ্র“তি ও অঙ্গীকার? আজ দেশের জন্য নিষ্ঠুর ট্র্যাজেডি হলো এই যে ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান দেশবাসীর সম্মুখে জাতীয় কর্তব্য হিসেবে উপস্থিত হয়েছে’ বলে যে কথা সেদিন বলা হয়েছিল, দেশের বড় দু’টি বুর্জোয়া দল সে পথে দেশবাসীকে এগিয়ে যেতে দেয়নি। নির্বাচনকে এরশাদ-জিয়ার আমলের মতোই প্রহসনে পরিণত করেছে। শুধু তাই নয়, আরও বড় ট্র্যাজেডি হলো— প্রতিশ্র“তি ভঙ্গ করে এখন স্বৈরাচার ও রাজাকার নিয়ে ক্ষমতার খেলায় তারা লিপ্ত হয়ে পড়েছে। ফলে এখন ‘এক জোটে রাজাকার, আরেক জোটে স্বৈরাচার’। বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলের দেউলিয়াপনা সম্পর্কে এর চেয়ে বড় প্রমাণের আর কোনো প্রয়োজন আছে কি?
উল্লিখিত ‘পারস্পরিক আচরণবিধিতে’ এসব কথার পরে-পরেই তিন জোটে অন্তর্ভুক্ত দলসমূহের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারগুলো লিপিবদ্ধ করে বলা হয়েছিল—
“আমরা তিনটি জোটের নেতৃবৃন্দ সুষ্ঠুভাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের নিম্নবর্ণিত অভিন্ন অঙ্গীকার পালনের জন্য আমাদের সকল কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
১। আমাদের তিনটি জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলসমূহ নির্বাচনী বক্তব্য ও কার্যক্রমে পারস্পরিক মতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও পরমতসহিষ্ণুতার সাধারণ গণতান্ত্রিক নীতিমালা অনুসরণ করবে। দলীয় কর্মীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনাবোধ জাগ্রত করার জন্য জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলসমূহ সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।
২। আমাদের তিনটি জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলসমূহ প্রত্যেকের নিজেদের মত ও বৈশিষ্ট্য যাতে স্বাধীন ও আইনানুগ পদ্ধতিতে প্রচার করতে সমর্থ্য হয় সেজন্য সকলেই সচেষ্ট থাকবে। এইজন্য রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, জনসভা, সমাবেশ, মিছিল যাতে আক্রান্ত না হয় সে বিষয়ে সমবেতভাবে প্রচেষ্টা গ্রহণ করবে।
৩। আমাদের তিনটি জোটভুক্ত দলসমূহ ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা এবং অপর দলের দেশপ্রেম ও ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে কটাক্ষপাত করা থেকে বিরত থাকবে। আমাদের জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলসমূহ সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় প্রদান করবে না এবং সাম্প্রদায়িক প্রচারণা সমবেতভাবে প্রতিরোধ করবে।
৪। নির্বাচনী কার্যক্রমে সর্বতোভাবে সংঘাত পরিহার করার জন্য তিনটি রাজনৈতিক জোটভুক্ত দলসমূহ অঙ্গীকার করছে। সেইজন্য এরশাদের স্বৈরাচারী সরকারের চিহ্নিত সহযোগী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের আমাদের জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলসমূহে স্থান না দেওয়ার জন্য আমাদের ইতিপূর্বে প্রদত্ত ঘোষণা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। ভোটারগণ যাতে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং ভোটকেন্দ্রে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে সে বিষয়ে আমাদের তিনটি জোটভুক্ত দলসমূহ সতর্ক দৃষ্টি রাখবে।
৫। আমাদের তিনটি জোটভুক্ত দলসমূহ নিজস্ব নির্বাচনী স্বার্থে প্রশাসন কিংবা আইন শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থাকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করবে না এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা রক্ষার্থে সচেষ্ট থাকবে।
৬। আমাদের তিনটি জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলসমূহ গণপ্রচার মাধ্যমসমূহের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা রক্ষার্থে সচেষ্ট থাকবে। কোনো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হলে সমবেতভাবে প্রতিবাদ জানাবে।
৭। উপরোক্ত বিষয়াদি তথা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে অন্তরায় ঘটাতে পারে এরূপ কোনো উস্কানিমূলক ঘটনা সংঘটিত হলে তৎক্ষণাৎ আলোচনার মাধ্যমে তা নিরসন করার প্রয়াস গ্রহণ করা হবে। সর্বপর্যায়ে এই নীতিমালা পালিত হওয়ার স্বার্থে জাতীয় ও এলাকাভিত্তিক ‘লিঁয়াজোর’ স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৮। নির্বাচনের তারিখে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে আমরা নিম্নেবর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সমবেতভাবে প্রস্তাব রাখছি।
ক) নির্বাচনী এলাকায় সকল ব্যালট পেপার ঠিকমত বিলি-বণ্টনের তদারকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
খ) ভোট গণনা শেষে ভোটকেন্দ্রেই চূড়ান্ত ফলাফল লিপিবদ্ধ করা, প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের নিকট কেন্দ্রের ফলাফলের সত্যায়িত কপি প্রদানের ব্যবস্থা করা।
গ) ভোটের ফলাফল একত্রিত করা, তা প্রকাশ ও প্রচার করার ক্ষেত্রে কোনোপ্রকার অসাধুতা ও মিডিয়া ক্যুর যেকোনো আশঙ্কা রোধ করা।
ঘ) প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
ঙ) ভোট কারচুপি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করে কঠোর নিবৃত্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
চ) প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের নির্ধারিত সীমা সংক্রান্ত বিধান কার্যকরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করা।
৯। আমাদের জোটভুক্ত দলসমূহ নির্বাচনের প্রদত্ত গণরায় মেনে নিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অগ্রসর করে নিয়ে যাবে।”
এসব প্রতিশ্র“তি ও অঙ্গীকার ঘোষণার পর প্রায় ২৫ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। নির্বাচনকে আবার টাকার খেলা, পেশীশক্তির দাপট, হোণ্ডা-গুণ্ডা মাঠে নামানোর প্রতিযোগিতা, প্রশাসনিক কারসাজির ব্যবস্থা করার প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সাম্প্রদায়িক ধূম্রজাল ব্যবহার করে জনমত বিভ্রান্ত করা ইত্যাদির নোংরা তামাশায় পরিণত করা হয়েছে। ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ’ হওয়ার বদলে নির্বাচনকে আবার ‘প্রহসনে’ রূপান্তরিত করা হয়েছে। সম্প্রতি পাইকারিহারে ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ একতরফাভাবে ‘নির্বাচিত হওয়ার ব্যবস্থা’ নির্বাচনের ন্যূনতম বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। কবে নির্বাচন হবে এবং কাদের নিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বটে। কিন্তু যেসব প্রশ্নের চেয়ে আজ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, নির্বাচন ন্যূনতমভাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়া নিশ্চিত হবে কিনা। নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হলে বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু করাসহ নির্বাচনকে অর্থ, পেশীশক্তি, প্রশাসনিক কারসাজি, সাম্প্রদায়িক প্রচারণা ইত্যাদি থেকে মুক্ত করতে হবে। এসব দাবিতে গণসংগ্রাম সংগঠিত করাটি এখন দেশবাসীর সামনে একটি জরুরি ও প্রধান কর্তব্য।
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)

E-mail : selimcpb@yahoo.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*