সরকারের প্রতি সংলাপের উদ্যোগ নিতে পেশাজীবীদের আহ্বান

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে দেশে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের অবসান রাজনৈতিকভাবেই সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিতpasa-00 পেশাজীবী পরিষদ। আর একটি অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমেই এ সংকট সমাধান সম্ভব বলে জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সংলাপ না হওয়া পর্যন্ত পেশাজীবী পরিষদ আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং এ দাবিতে আগামী ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার সারাদেশে মানববন্ধন করা হবে বলেও জানানো হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে শুক্রবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী। তিনি বলেন, ‘দেশে চলমান এ রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে ৫ জানুয়ারি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এ নির্বাচনের ফলে দেশের মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছে। যখন জনগণের সমর্থিত শাসন ব্যবস্থা থাকে না তখন স্বাভাবিকভাবেই দেশে সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্ট হয়।’ তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে ক্ষমতাসীনরা ওই নির্বাচনকে সংবিধান রক্ষার নির্বাচন বললেও এখন বলছে ১৯ সালের আগে নির্বাচন নয়। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনের ঘোষণা দেয়। এ দাবিতে একদিকে যেমন চলছে sanglapবিরোধী দলের টানা অবরোধ, অন্যদিকে সরকার দমন-পীড়নের মাধ্যমে এ আন্দোলন স্তব্ধ করার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ উপায়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেশের সুশীল সমাজ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা পেশাজীবীরাও মনে করি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে দমন-পীড়ন চালিয়ে কোন সমাধান হবে না। রাজনৈতিকভাবে গঠনমূলক একটি সংলাপই এ সংকট সমাধানের একমাত্র পথ। ’বিরোধী দল সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে এখন একটি অর্থবহ সংলাপের জন্য সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে বলেও জানান তিনি। এ সময় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, চলমান রাজনীতির সংকটের জন্য ভোটার বিহীন ৫ জানুয়ারির তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকারই দায়ী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক দুর্নীতিকে হালাল করতেই সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো উদ্যোগ নিয়েছে। চলমান সংকটের উত্তরণে সরকারেকেই উদ্যোগ নিতে হবে বলে তিনি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের মহাসচিব এম.এ. আজিজ, ড্যাব-এর সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. রফিক আল কবির লাবু, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন, ড্যাব-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, এ্যাব সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর-রশিদ, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ইউট্যাব সভাপতি অধ্যাপক ড. আ.ফ.ম ইউসুফ হায়দার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডীন অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, ঢাবি সাবেক শিক্ষক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদ, জাবি অধ্যাপক শামছুল আলম, জাবি অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম, বিএসএমএমইউর সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. আব্দুল মান্নান মিয়া, ঢাবির শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুর রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি খান চৌধুরী, এডভোকেট মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার, ড্যাব-এর নেতা ডা. রেহান উদ্দিন খান ও জাকির হোসেন, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ডা. মো. সাইফউদ্দিন নিসার আহম্মেদ তুষান, ড্যাব-এর ঢাকা মহানগর সদস্য সচিব ডা. মো. শামীউল আলাম সুহান, ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম, ড্যাব মিটফোর্ট শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. হারুন-উর-রশীদ খান রাকিব। এছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*