সরকারি কবি নজরুল কলেজেও চলছে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২১ জুন ২০১৭, বুধবার: অন্যান্য কলেজের মতো পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সরকারি কবি নজরুল কলেজেও চলছে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি। ভর্তির সময় ছাত্রদের কাছ থেকে এবারো চাঁদা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। গত বছর চাঁদার পরিমাণ ছিল এক হাজার থেকে বারশ টাকা। আর এবার চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬০০ টাকা।
কোনো কাগজপত্র ছাড়া বাড়তি ১৬০০ টাকা আদায় করতে হচ্ছে ভর্তিচ্ছুদের। অনেকের পক্ষে তা আদায় করা কষ্টকর। তবুও এ ব্যাপারে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। এই চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনেরও নেই কোনো পদক্ষেপ।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে ভর্তি হতে আসা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নির্ধারিত ভর্তির ফি ছাড়া এক হাজার ৬০০ টাকা করে বেশি নেয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ভর্তি ফির রশিদ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্তি টাকার কোনো রশিদ দেয়া হচ্ছে না।
এই অতিরিক্ত টাকা কেন নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে রুবেল নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এটা ভর্তির সিরিয়াল দেয়ার টাকা।’ দেখা গেল কলেজ ক্যাম্পাসে জনতা ব্যাংকের ভেতরেই একপাশে ছাত্রলীগ কর্মীরা চেয়ারে বসে ভর্তি ফরমে সিসিয়াল দিচ্ছেন আর টাকা নিচ্ছেন।
হাসান জামিল নামের এক শিক্ষার্থী এসেছেন ভর্তি হতে। তার বাবা পুরান ঢাকায় ছোটখাট একটি ব্যবসা করেন। বাড়তি ১৬০০ টাকা দেয়া তার পক্ষে অনেক কষ্টকর। হাসান জামিল ঢাকাটাইমসকে অসহায়ের সুরে বলেন, ‘কী করব ভাই! টাকা না দিলেও তো সিরিয়ালই পাওয়া যাবো না। কষ্ট হলেও দিতেই হচ্ছে।’
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘কলেজ নির্ধারিত টাকার বেশি যে টাকা নেয়া হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও আসেনি। অভিযোগ এলে আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতাম।’
এ ব্যাপারে কথা হয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহনের সঙ্গে। তিনি অকপটে স্বীকার করলেন চাঁদা নেয়ার কথা। মোহন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আসলে সংগঠন চালাতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। আর আমরা বাহির থেকে কোনো টাকা আয় করতে পারি না। তাই বিভিন্ন ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা কিছু অতিরিক্ত টাকা আদায় করি।’
ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, ‘আগে ছাত্রলীগ কোটায় অনেক ছাত্র ভর্তি করা হতো। যার কারণে সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হতো না। কিন্তু বর্তমানে সরকার শিক্ষার্থীর কোটা নির্ধারিত করে দেয়ায় আমরা সে সুযোগ পাচ্ছি না। অন্যদিকে আমাদের কাছে যেসব শিক্ষার্থী আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সুপারিশ নিয়ে আসে বা যেসব শিক্ষার্থী দরিদ্র তাদের কাছ থেকে আমরা অতিরিক্ত টাকা আদায় করি না।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: