সমাধান খুঁজছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনৈতিক সংকটের একটি সমাধান খুঁজছে, তবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকেই সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁছতে হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। গত un১২ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ‘আজকাল’-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মুখপাত্র লিখিতভাবে একথা জানান। গত ১১ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সঙ্গে বৈঠকে বসেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিভাগের সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের কাছে সাপ্তাহিক ‘আজকাল’-এর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, তারানকো-নিশা বৈঠকে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না? হলে কী আলাপ হয়েছে? জবাবে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মুখপাত্র উপরোক্ত মন্তব্য করেন। এ সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে লিখিত জবাবে মুখপাত্র বলেন, সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এটা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবেই করা হয়ে থাকে। মুখপাত্র বলেন, এরই অংশ হিসেবে বিগত ১১ ফেব্রুয়ারি সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণ এশিয়াসহ ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী আলোচনায় স্থান পায়। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক এই মুখপাত্র তার লিখিত জবাবে আরও বলেন, ওই বৈঠকে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল তারানকো ও সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিসওয়াল বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর সঙ্গে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ সংকট সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ একযোগে কাজ করে যাবে। একটি সম্ভাব্য সমাধানের উপায় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেই শেষ পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে তারানকো-দেশাই বৈঠকে বাংলাদেশ বিষয়ে কি আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে জাতিসংঘের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের মুখপাত্র ম্যাথিয়াস গিলম্যাড এই প্রতিনিধিকে টেলিফোনে বলেন, এটি একটি রুটিন বৈঠক ছিল, তবে বাংলাদেশ বিষয়ে কি আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমার হাতে কিছু নেই। পরবর্তীতে বিকেলে এক লিখিত বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের অফিস থেকে বলা হয়, তারানকো-দেশাই আলোচনাটি জাতিসংঘের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের অংশ হিসাবে হলেও তাতে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি এক ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন। ডুজাররিক বলেন, বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জাতিসংঘ। সংকট উত্তরণে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন দায়িত্ব দিয়েছেন সহকারি মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকোকে। দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি। ১১ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিফ্রিংয়ে জাতিসংঘের সহকারি মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের বৈঠকের প্রসঙ্গও উঠে আসে। ওই বিফ্রিংয়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। তাতে উঠে আসে জনদুর্ভোগ। যানবাহনে আগুন দেয়া ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ। ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি জানেন যে, বাংলাদেশ অত্যন্ত সংকটময় সময়ের মুখোমুখি। জনদুর্ভোগ চরমে। রাজপথে যানবাহন পুড়ছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সীমা ছাড়িয়ে গেছে। গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের জন্য লড়ছে জনগণ। বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। সেটা ছিল একতরফা নির্বাচন। ওই নির্বাচনের আগে সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ-তারানকো বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। কিন্তু কোন ফয়সালা না হওয়ায় তিনি ফিরে যান। এরপর একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশে। তাতে ভোট ছাড়াই ১৫৪টি আসনে বিজয়ী হন সরকার দলীয় সদস্যরা। এ অবস্থায় আমি আসলে জানতে চাই, শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ার জন্য ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে জাতিসংঘ আসলে কি করছে? বাংলাদেশের এসব ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। আমি জানতে চাই, জাতিসংঘের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করাটাই কি যথেষ্ট বলে আপনি মনে করেন? নাকি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘের আরও কিছু করা উচিত? অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আরও বেশি কিছু করা উচিত কি-না জাতিসংঘের?’ জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, আপনি ঠিক বলেছেন, পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স-এর ইনচার্জ সহকারি মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ (লিয়াঁজো) রাখার দায়িত্ব দিয়েছেন মহাসচিব বান কি মুন। তিনি সেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক উন্নয়নে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মহাসচিব বান কি মুন। আপনি জানেন যে, অনেক ক্ষেত্রে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বাংলাদেশ। আমি মনে করি, আগেও যেমন বলেছি এখনও বলছি, বাংলাদেশে সহিংসতা ও প্রাণহানিতে আমরা অবশ্যই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ঢাকা ও নিউইয়র্কের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তারানকো ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি সংস্থাটির রাজনীতি বিষয়ক দপ্তরের সহকারী মহাসচিব থাকাকালে বাংলাদেশ পরিস্থিতি দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। পরে দপ্তর পরিবর্তন হলেও জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ নির্দেশনায় তিনি এখনো বাংলাদেশ বিষয়ে ঢাকা ও নিউইয়র্কের মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করছেন। নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতপার্থক্য দূর করতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের দূত হিসেবে তারানকো ২০১২ ও ২০১৩ সালে তিন দফায় ঢাকায় যান। ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি ছয় দিনের জন্য বাংলাদেশ সফর করেন। ওই সফরের সময় তিনি দুই দলকে আলোচনার টেবিলে বসালেও তাদের মতপার্থক্য দূর করতে পারেননি। তাই দুই দলকে দুই দফায় টেবিলে বসানোর ‘সাফল্য’ নিয়েই ঢাকা ছেড়ে আসতে হয় তারানকোকে। সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

%d bloggers like this: