সব রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা উচিত: সাবেক নির্বাচন কমিশনার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩০ অক্টোবর, রবিবার: সাবেক নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা বলেছেন, সব রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে অবিলম্বে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।1
তিনি বলেন, অতীতে কখনোই সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করা হয় নি। বিশেষ করে বিরোধী দলের সাথে কোন পরামর্শ করা হয় না। ফলে যে কমিশন গঠন করা হয়, শুরুতেই তা বৈরিতার মুখে পড়ে। নির্বাচনে যে দলই পরাজয়ের সম্মুখীন হয়, তারাই ‘কমিশন ঠিকমত কাজ করে নি, এটা বৈধ কমিশন নয়’ বলে অভিযোগ করে। এবং বিভিন্ন নেতিবাচক কথাবার্তা ছড়ায়।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র চার মাস বাকি। নির্বাচন কমিশন গঠন ও প্রক্রিয়া সম্বন্ধে বিবিসি বাংলার সাঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক নির্বাচন কমিশন বলেন, সব রাজনৈতিক দলের সম্মতি নিয়ে – এই প্যানেল তৈরি করা। পরে প্যানেল থেকে রাষ্ট্রপতি কমিশনারদের বাছাই করে নিতে পারেন। সব রাজনৈতিক দলেরই যেহেতু এতে অংশগ্রহণ থাকবে – তাই এটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পদ্ধতি অনুযায়ী সব নির্বাচন কমিশনারই একসাথে নিয়োগ পান এবং এক সাথে অবসরে যান। তাদের মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হবে। যদি সুষ্ঠুভাবে একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হয় বা আমরা কমিশনটি যেভাবে হওয়া উচিত বলে মনে করছি- সেটি সময়সাপেক্ষ। আমাদের নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে যে কমিশন গঠন করা হয়েছিলো তা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে হয়েছে।
তিনি বলেন, সার্চ কমিটি যাদের নাম তুলে আনবেন তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক যেন সঠিক ভাবে হয় – এটা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান কাজ হবে। তারা কী ধরনের লোক, তাদের কোন রাজনৈতিক এ্যাফিলিয়েশন (সংশ্লিষ্টতা) ছিল কিনা , তাদের পূর্বতন চাকরিতে তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ ছিল কিনা – এগুলো দেখে লোক নির্বাচন করা উচিত। এবং এটা করতে গেলে অবশ্যই সময় দিতে হবে।
তিনি বলেন, যদি সততা এবং নিরপেক্ষতা সম্পন্ন লোক আনতে হয় – তাহলে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডটা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমেও জানা যেতে পারে। তবে সে জন্যও সময় দরকার। এ কারণে বলছি যে, এ প্রক্রিয়া এখন থেকেই শুরু হওয়া উচিত, যাতে তারা যথেষ্ট সময় পান। গতবার এ সময়টা পাওয়া যায় নি। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: