সন্দ্বীপ’র সাহিত্য সংষ্কৃতির আদিকথা

একে এম সামশুজ্জামান ভূঁইয়া সোহেল, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৭: পূর্বে লিখেছিলাম সাংবাদিকদের কথা ওখানে প্রয়াত আবু সৈয়দ আজাদের কথা লিখেছিলাম জাতীয় পর্যায়ে অনেকে ভাবছে তা কি করে !! স্বাভাবিক তিনি সন্দ্বীপে আজাদীর প্রতিনিধি ছিলেন তেমনি সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকাই উজ্জ্বল ।।। হয়ত সন্দ্বীপের প্রতি ভালবাসায় তিনি সন্দ্বীপেই থাকতেন তবে যদি তিনি গন্ডির বাইরে আসতেন তবে জাতীয় পর্যায়ে যাওয়ার মেধা ও যোগ্যতা ছিলই ।।। সন্দ্বীপে ৮০’র দশকে যারা লেখালেখি করতেন তাদের মধ্যে কাজী শামসুল আহসান খোকন , সরোয়ার কামাল, হাসিমুল ইসলাম, ফরহাদ চৌধুরী, আবুল কাসেম শিল্পী , কানাই চক্রবর্তী , শাহনেওয়াজ , জামাল উদ্দীন অন্যতম ।।। সেই সময় নাটক ও সাংষ্কৃতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় ছিলেন হেদায়েতুল ইসলাম মিন্টু , ইকবাল বাহার , গোলাম মওলা , কিবরিয়া , কামাল উদ্দীন , মনিরুল হুদা , আবু ইউসুফ , মানিক ভূইয়া , চন্দন দও , সাগর শাহনেওয়াজ সহ অনেকেই( মেয়েরাও রক্ষণশীলতার বন্ধন ছিন্ন করে মুক্ত মননে সাংষ্কৃতিক ক্ষেএে সক্রিয় ছিলেন ) সে সময় সাংষ্কৃতিক কর্মের জোয়ারে রাজনৈতিক অবক্ষয়ের সম্ভাবনা ছিল বহুদুর ।।। পরবর্তীতে অনেকই সন্দ্বীপ ছেড়ে আসায় সাংষ্কৃতিক সক্রিয়তা কমে যায় আর সে সুযোগে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠে ।।। মূলধারার সংষ্কৃতির সক্রিয় গতিময়তার অভাববোধ আজও সন্দ্বীপে বিদ্যমান যার ফলশ্রুতিতে মনন চর্চার অবক্ষয়ের দরুন আজ সন্দ্বীপে পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধের যেমন অভাব তেমনি এরপর কুফল হিসেবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কমছে বাড়ছে রাহাজানি ।।। এতকিছুর মাঝেও এখনও আবুল কাসেম শিল্পী, কামাল উদ্দীন , কাজী সামসুল আহসান খোকন , বাদল রায় স্বাধীন , রহিম উল্লাহ , সুফিয়ান মানিক , ইসমাইল মনি,কবিয়াল মাষ্টার আজিজ উল্লাহ সহ অনেক নবীন ও প্রবীন সাহিত্য ও সংষ্কৃতির চর্চা করে যাচ্ছে বাধাবিপওি উপেক্ষা করে ।।। সে সময় সন্দ্বীপে যারা সংষ্কৃতি চর্চা করতেন আজ তাদের অনেকেই বিওশালী হলেও সন্দ্বীপে থেকে যারা বাধা বিপওী স্বত্বেও যারা এখনও সন্দ্বীপে সাহিত্য সংষ্কৃতির চর্চা করছে যেমন আবুল কাসেম শিল্পী , বাদল রায় স্বাধীন , সুফিয়ান মানিক, কাজী সামসুল আহসান খোকন, কবিয়াল মাষ্টার আজিজ উল্লাহ ও রহিম উল্লাহদের মনোবৈকল্যের কারনে সহায়তা করছেননা ।।। অথচ এই বিওশালীগণ যারা সন্দ্বীপের সংষ্কৃতির চর্চার একজন দাবী করেন তারা চাইলেই সন্দ্বীপে থেকে বর্তমানে যারা সংষ্কৃতির চর্চা করেন তাদের সহায়তা করতে পারেন ।।।এখন শুধুতাদের কাছে তাদের মনের উদারতাবোধটুকু দিয়ে অনুধাবন করার জন্য অনুরোধ করা ছাড়া আমার উপায় ।।। তবে যতদিন সন্দ্বীপ থাকবে থাকবে এর ইতিহাস ঐতিহ্য ততদিন প্রয়াত শিক্ষক মির্জা আনোয়ার হোসেন প্রকাশ মাষ্টার মির্জা আনোয়ার ও মাষ্টার শিব শংকর স্যার শ্রদ্ধায় স্মরিত হবেন ।।। সন্দ্বীপে যদি কেউ বর্তমানে নটরাজ দাবী করেন তবে সর্বশই মিথ্যা ।।। সন্দ্বীপে যদি নটরাজ কেউ হন বা নটরাজ এর সম্মাণ কেউ প্রাপ্ত হন তিনি মাষ্টার মির্জা আনোয়ার স্যার ছাড়া আর কেউ নন ।।। তবে সন্দ্বীপে প্রথম ও একমাএ মূলধারার নাট্য উৎসবের আয়োজক হিসেবে কানাই চক্রবর্তীর নামও ইতিহাস হয়ে থাকবে ।।। একজন ক্ষুদ্রজন হিসেবে ও সন্দ্বীপ সন্তান দাবীদার হিসেবে নটরাজ শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মির্জা আনোয়ার স্যার ও শি শংকর চক্রবর্তী স্যারকে আমার ও প্রেজুডিস এবং চট্টগ্রাম মিডিয়া ক্লাবের পক্ষে অতল শ্রদ্ধা ।।।। ওনারা আছেন থাকবেন সন্দ্বীপ সন্তানদের প্রেরণা হয়ে অনাদিকাল ধরে ।।। ( অনেকের নাম বা তথ্য হয়ত আমার অজ্ঞানতার দরুন নাও আসতে পারে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থী আমি শুধু মূলধারার সংশ্লিষ্টদের তথ্য সন্নিবেশ করার চেষ্টা করেছি মাএ )

০২- সন্দ্বীপের সাহিত্য সংষ্কৃতির আদিকথা —- (পূর্বাংশের পর শেষাংষ…. উল্লেখ্য এটি একটি সংক্ষেপিত) এ কে। এম সামশুজ্জামান।। ভূঁইয়াসোহেল।। পূর্বের অংশে শেষ করছিলাম ১৯৮৯সালে অনুষ্ঠিত সন্দ্বীপে একমাএ মূলধারার নাট্য উৎসব দিয়ে ।।। এছাড়া উল্লেখ্য করেছিলাম অনেকেই তখন শখে বা নাম কুড়ানোর জন্য তৎকালীন সময়ে সাংষ্কৃতিক কর্মে যুক্ত হয়েছিলেন ।।। কারন যে একবার মনেপ্রাণে শুদ্ধ সংষ্কৃতির সাথে যুক্ত হয় ব সে বা তাঁরা অন্তত জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত শুদ্ধ সংষ্কৃতির সাথে অঙ্গঅঙ্গীভাবে থাকে হয়তবা পেশাগত কারনে থাকতে না পারলেও অন্তত যে অঞ্চলে তিনি সাংষ্কৃতিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন সে অঞ্চলের শুদ্ধ সংষ্কৃতি বিকাশে বা উওরণে সহায়তা করে থাকেন ।।। সন্দ্বীপে সে সময় স্বাধীনতার পর যারা যুক্ত ছিলেন পরবর্তীতে তাদের অনেকেই দেশের প্রসিদ্ধতম ব্যবসায়ী হন ।।।কিন্তু তাঁরা কেউ আর সন্দ্বীপের সাংষ্কৃতিক মননের বিকাশে কিছুই করেননি এটাই সত্য ।।। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটান মাষ্টার শিব শংকর চক্রবর্তীর পুএ কানাই চক্রবর্তী ।।। তিনি ” বিচিএা ফোরাম ” ক্লাব ঘটন করেন এবং এতই সাংগঠনিক বিচক্ষনতায় এর বিকাশ ঘটান সেসময় প্রতিক্রীয়শীলদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এর ব্যাপ্তী ঘটান ।।। পথে প্রান্তরে অফিসে পাড়া মহল্লায় বিচিএা ফোরাম ক্লাবের সদস্যদের সাংষ্কৃতিক মুভমেন্ট ছিল চোখে পড়ার মত ।।। বিচিএা ফোরাম ক্লাবের জোরালো ভুমিকার কারনে তখন সন্দ্বীপে প্রগতিশীল রাজনীতিরও উওোরওর বিকাশ ঘটছিল এটাই সত্য ।।।। পরবর্তীতে বিচিএা ফোরাম ক্লাবের নাটকের উইং হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন ” সন্দ্বীপ থিয়েটার ” তাও প্রতিষ্ঠাতা সেই কানাই চক্রবর্তী ।।। সন্দ্বীপ থিয়েটারই সন্দ্বীপে মেইনষ্ট্রীম মঞ্চ নাট্যধারার শাখা প্রবর্তন ঘটায় ।।। কানাই চক্রবর্তীর সৃষ্টি সন্দ্বীপ থিয়েটারই এখন পর্যন্ত মূলধারার নাট্যউৎসব আয়োজনের আয়োজক ।।। যাক তৎকালীন সময় সন্দ্বীপ থেকে প্রকাশিত পএিকার নাম আসলে আসবে ডাক্তার নিত্যলাল দাসের সম্পাদিত পএিকা ” দ্বীপের কথা ” পএিকাটির নাম ।।। এ এল বি দুজা , কে এম হোসেন , এস এম আব্দুল আহাদ , ফজলুর রহমান প্রমুখ স্বনামখ্যাত ব্যক্তিদ্বয় দ্বীপের কথা পএিকায় লিখতেন ।।। সন্দ্বীপ সন্তান কমরেড মজফফর আহমদ কলকাতার তৎকালীন যুগবানী -গণবানী সহ অনেক পএিকার সম্পাদনা করতেন ।।। এছাড়া তিনি বঙ্গীয় মুসলম সাহিত্য সমিতির সহকারী সম্পাদকও ছিলেন ।।। শ্রদ্ধার কমরেড মজফফর আহমদ তখন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে- স্মৃতিকথা এবং সমকালের কথা সহ অনেক স্মৃতিকথা ও প্রবন্ধের লেখক তিঁনি ।।। আরেক সন্দ্বীপ সন্তান -আমাদের মুক্তিসংগ্রাম, সেকালের কাহিনী , ফাসির মঞ্চে এবং সংবাদ ও সাংবাদিক সহ ইত্যাদি ঐতিহাসিক ও সমালোচনামূলক প্রবন্ধ তারই সাহিত্যকর্ম ।।। এছাড়া তিনি যুগবিচিএা নামক সাহিত্য পএিকা সম্পাদনা করতেন যা সেসময় দাউদ সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন ।।। অধ্যক্ষ রাজকুমার চক্রবর্তী ও অনঙ্গ মোহন দাস মোক্তার সন্দ্বীপের ইতিহাস রচনা করেন ।।। মোক্তার অনঙ্গ মোহন দাস সন্দ্বীপের গুহ বংশ ও প্রাণ হরিদাস বাবুর জীবনী সংক্ষেপ আকারে রচনা করেন ।।। ঢাকার কাপড় কাঁচার সাবান প্রস্তুত প্রণালী পুস্তিকাটিও তাঁরই রচনা ।।। ইংরেজীতে আরবী ব্যাকরণ রচনা করেন মৌলভী বশির উল্লাহ ।। ধর্মীয় গ্রন্থ মোহাম্মদী দর্পন রচনা করেন মৌলভী হাবিবউল্ল্যাহ এছাড়া তিনি ফতোয়ায়ে আলমগীরি অনুবাদ করেন এবং অনুবাদ গ্রন্থ শান্তিরপথ রচনা করেন শামসুল হুদা সন্দ্বীপি ।।। এছাড়া মৌলানা মমতাজুল হক খান , মৌলানা মুসা , মৌলানা ওয়াজিউল্লাহ , মৌলভী আব্দুল আজিজ , মোলভী তমিজ উদ্দীন , মুজিবুল হক ও মৌলভী আব্দুল ফাওাহ সহ প্রমূখ সন্দ্বীপ সন্তান বহু ধর্মীয় গ্রন্থ রচনা করেন ।।। এছাড়া ধর্ম ও ইতিহাস বিষয়ক গবেষনামূলক লেখক হিসেবে মৌলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সিদ্দীকি ও এবিএম সিদ্দীক চৌধুরী রাজীব হুমায়ুন কবি বেলাল মোহাম্মদ ও আবুল কাসেম সন্দ্বীপের নাম অগ্রগন্য ।।।ইতিহাস বিষয়ক গবেষনামূলক লেখক এবিএম সিদ্দীক চৌধুরী আজ অব্দি জীবিত আছেন ।।। ঔপন্যাসিক হিসেবে সুলতান মাহমুদ নুর আলম এবং আনসারুল হকের নাম প্রনিধান গন্য ।।। এছাড়া সাংবাদিকতা ও সাহিত্য রচনায় মাওলা চৌধুরী , আফলাতুন , বেলাল মোহাম্মদ , আবুল কাসেম সন্দ্বীপের নাম আসবেই ।।। তৎকালীন ঢাকার দৈনিক ইনসাফের মুদ্রক ও প্রকাশক এবং বার্তা সম্পাদক ছিলেন মাওলা চৌধুরী ।।। আফলাতুন সাহেব ছিলেন ছোট গল্পকার ।।। তৎকালীন ঢাকার দৈনিক পাকিস্তানের ছোটদের পাতা সাত ভাই চম্পার পরিচালক ছিলেন তিনি ।।। পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্বপাকিস্তানের তখনকার নামকরা পএিকায় তিনি লিখতেন ।।। কবি বেলাল মোহাম্মদ চট্টগ্রামের মহিলা মাসিক পএিকা ” বান্ধবী’র” প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন ।।। ছিলেন পকিস্তান বেতারের নিমন্ধিত গীতিকার এবং রচনা করেছেন অনেক কাব্যগ্রন্থ , বড় গল্প ।।। আবুল কাসেম সন্দ্বীপ ছিলেন তৎকালীন দৈনিক আজাদীর আগামিদের আসর’র পরিচালক ।।। এছাড়া কবি বেলাল মোহাম্মদ ও আবুল কাসেম সন্দ্বীপ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন ।।। এরপর নুরুন নাহার , আমিনুল হক মনজুরুল হক হেলাল , ই.এম.বেলাল বেগ, মাহমুদুদুল হক আবুল কালাম ইলিয়াস,হাসিনা আলম , মারুফ আজাদ , দেবন্দ চক্রবর্তী , আনোয়ার হোসেন , পৃথী লাল রায় , এম আনসারুল হক , কাজী আলমগীর বিল্লাহ ৬০’র দশকে ও এরপর পরবর্তী কালীন সময়ে সাহিত্যিক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন ।।। হাল জমানায় সাংবাদিকতায় সুনাম কুড়িয়েছেন আবু সৈয়দ আজাদ , কানাই চক্রবর্তী , ইকবাল করিম নিশান , রাবেয়া সুলতানা জাতীয় ভাবে বিচরন করছে ।।। চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ কেন্দ্রীক সাংবাদিকতায় তো অনেক সন্দ্বীপ সন্তানের ই বিচরণ ।।।

০১- প্রসঙ্গ -সন্দ্বীপের সংষ্কৃতির আদিকথা ⚫

এ। কে। এম ।। সামশুজ্জামান ।।ভূঁইয়া।। সোহেল ।।
বলছি সন্দ্বীপের মূলধারার শুদ্ধ সংষ্কৃতির কিছু ইতিকথা নিয়ে ।।।
আমার মত ক্ষুদ্রজনের যা অত্যন্ত দুরুহ বৈকি!!
সন্দ্বীপের মাটিতে লালিত জানা অজানা কবি সাহিত্যিক শিল্পী কর্মীরা যুগে যুগে বাঙলা ভাষা, সাহিত্য ও সংষ্কৃতির ক্ষেএে তাঁদের অমর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন ।।।
বাঙলার আদিকবি মীননাথ , মহাকবি আবদুল হাকিম তো সন্দ্বীপেরই কৃতিজন ।।।।
সন্দ্বীপে যে সকল কবিয়ালদের কিছু কিছু বিক্ষিপ্ত রচনা পাওয়া গেছে তাংদের মধ্যে অন্যতম রামদাস কৈর্বত , নন্দকুমার দাস , গৌর মুন্সি মজুমদার , প্রাণকৃষ্ণ বৈর্ত , হরদুর্গা কবিরঞ্জন সহ অনেকেই ।।
সন্দ্বীপে ৫০’র দশকের সমকালীন কবিয়ালদের মধ্যে বাদশা মিয়া , মুসা মিয়া , কাজী মমতাজ , আলহাজ্ব সায়েদুল হক গায়েন , হোমিওপ্যাথ ডাক্তার ওয়াজিউল্ল্যাহ , আজমত আলি সরকার , গুরুচরণ কর্মকার , মোহাম্মদ শফীউল্ল্যাহ সহ প্রমুখ ।।।
চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি সন্দ্বীপে
একটি প্রসিদ্ধ যাএা দল ছিল – এই দলটির প্রধান ছিলেন নন্দকুমার দাস
তিনি তৎকালীন সময়ে একজন সুকন্ঠি গায়ক ছিলেন বৈকি ।।।
সমসাময়িক কালে পালাগান করতেন সায়েদুল হক মারফতি গান করতেন গুরুচরন ঠাকুর এবং গণগীতি করতেন মোহাম্মদ শফীউল্ল্যাহ মারফতি গজল গান লিখতেন ও গাইতেন ইব্রাহীম পন্ডিত তিনি কসিদা নামক একধরনের গান ও রচনা করতেন ।।। তৎকালিন সভা সমিতিতে যা পরিবেশন হত ।।।
উল্লেখ্য কবিয়াল ওয়াজিহ উল্ল্যাহ পাকিস্তান বেতারের একজন কবিয়াল ছিলেন ।।।
পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি সন্দ্বীপে অনুরুপ একটি যাএাদল ছিল যার প্রধান ছিলেন অম্বিকা সরদার তিনি নিজেও একজন সুকন্ঠী গায়ক ছিলেন ।।।
তৎকালিন সন্দ্বীপে শুষ্ক মৌসুমে রাতে কোথাও পুথিঁ পাঠ , যাএাপালা , গানবাদ্যের আসর বসত ।।।
রাতে কোথাও কোথাও মশাল , ফানুস ও বাতি হাতে মানুষ সারারাএি জোনাক পোকার ন্যায় চলাচল করত ।।।
আধুনিক বাদ্য যন্ত্রে দক্ষ সঙ্গীত ও নাটকে কৃতিময় সন্দ্বীপ নন্দনদের কথা বলতে গেলে গায়ক ও অভিনেতা হেলাল উদ্দীনের নাম আসবে ।।। গায়ক মাষ্টার এজহারুল হক ও সেসময় যশমান ছিলেন ।।।
ভান্ডারী গান গাইতেন রুহুল আমিন চৌধুরী ।।। সে সময় গানের জন্য খ্যাতিমান সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন আবুল কাসম পোদ্দার , দিদারুল আলম রফিক ও মেছবাহুল জনার্দার ।।।
যন্ত্র সঙ্গীতে সেসময়ও সন্দ্বীপ এগিয়ে ছিল – শ্রীমান যোগেশ পাঠক ও রাজকুমার পাঠক ছিলেন খ্যাতমান ।।।
বাঁশিবাদক ছিলেন আবুল মনসুর ও মানিক চন্দ্র ।।।
তৎকালীন সময়ে তরুন বয়সে যন্ত্র শিল্পীদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ , বুলবুল আহসান , আফলাতুন হোসেন ও মাহমুদুল হক অন্যতম ।।।
সে সময় সাংষ্কৃতিক কর্মকান্ড যারা উৎসাহ সহযোগীতা করতেন হরিলাল ব্যানার্জী , পুলিনচন্দ্র গুহ , জালাল ভূইয়া , গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী , হরিশচন্দ্র কর্মকার , হারাধন বিশ্বাস , সৈয়দ মোস্তাক আহমদ , নন্দদুলাল কর্মকার সহ প্রমূখ ।।।
এরপর ষাট দশকের পর কবিয়াল মোহাম্মদ শাহ বাঙ্গালী স্বনামখ্যাত হন ।।। তিনি বেতার শিল্পীও ছিলেন
মাষ্টার মির্জা আনোয়ার ষাট দশকের একজন প্রতিথযশা নাট্যকার , নাট্যপরিচালক ও অভিনেতা ।।।
মাষ্টার শিব শংকর চক্রবর্তী ছিলেন
প্রমিত বাংলার জন্য প্রসিদ্ধজন এবং নাট্যপরিলক ।।।
মাষ্টার মির্জা আনোয়ারের হাত ধরে তখন অনেকেই নাট্য চর্চায় যুক্ত হন ।।।
পরবর্তীতে বিচিএা ফোরাম নামে সাংষ্কৃতিক সংগঠনে
কেউবা সময় বা অবসর কাটানোর জন্য কেউবা সে সময় নাম কুড়াবার জন্য ।।। তাদের অনেকেই হয়ত আজ প্রসিদ্ধ বিওবান ।।।কিন্তু বিওের সাথে সাথে মনের সংকীর্নতায় বর্তমানে তাঁরা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত কিন্তু সন্দ্বীপের সম্বৃদ্ধ সংষ্কৃতির সেই সোনালীক্ষণের প্রাণ সঞ্চার উওরণের জন্য তাঁরা কিছুই করেননি ।। শুদ্ধ সংষ্কৃতির অন্যতম ধারক মাষ্টার শিব শংকর চক্রবর্তীর পুএ কানাই চক্রবর্তী যিনি বিচিএা ফোরামে তাঁর সময় প্রাণের সঞ্চার করেছিলেন ।।। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সন্দ্বীপ থিয়েটার ।।।১৯৮৯ সালে চট্টগ্রামের স্বনামখ্যাত কয়েকটি নাট্যদলের স্বমন্বয়ে সন্দ্বীপে তখন নাট্য উৎসবের আয়োজন করেছিলেন ।।।
যা সন্দ্বীপে শুদ্ধ সংষ্কৃতির মূলধারার একমাএ নাট্যউৎসব ।।। ……..
লেখক: প্রযোজক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি চট্টগ্রাম মিডিয়া ক্লাব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*