সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে জিম্মি চট্টগ্রামের এক অসহায় পরিবার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে অসহায় একটি পরিবার। মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার করার কারণে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ওই সন্ত্রাসী চক্রের একের পর এক হামলা ও হয়রানিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার গুজরা গ্রামের হাজী আব্দুল কাদের সওঃ ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ চক্রটির কাছে বিভিন্ন সময়ে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আব্দুল কাদের তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করেছেন। একই সাথে আইন শৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সেক্টরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া তিনি আনোয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ, ভূমি প্রতিমন্ত্রীকে লিখিতভাবে অবহিত করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগে রয়েছে, আব্দুল কাদের সওদাগরের ৫ ছেলে তিন মেয়ে নিয়ে গুজরা গ্রামে বসবাস করে আসছে। এলাকার একটি সন্ত্রাসী চক্র বার বার তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হামলা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। এরা হল এলাকার মৃত সোলেয়ামানের পুত্র ইসমাইল, রাজ্জাক, হাসান, নুরুল আলমের পুত্র মানিক, ফোরকান, শাহ আলমের পুত্র সাইফুল ইসলাম, মৃত রহমান মিয়ার পুত্র নুরুল আলম, শাহ আলম, মৃত হাফেজ আহম্মদের পুত্র রাজা মিয়া, নেজাম লোকমানসহ আরো অনেকেই। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করার কারণে যুদ্ধের পর তার ঘর ডাকাতি করে এ চক্রের সদস্যরা। ১৯৯৬ সালে নির্যাতন ও মানহানির উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার ঘর তল্লাশি চালানো হয়। তার ছেলে তৈয়বুরের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করলে পরে তা মিত্যা প্রমাণিত হয়। অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০০৪ সালে ৭ আগষ্ট তৈয়বুর শহরে যাওয়ার পথে সকাল সাড়ে ১০ টায় পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে আরেকটি মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়। তাদের  ৮০ ফুট লম্বা সেমিপাকা ঘরের সাথে ৭ ফুট গভীর মাটি খনন করে তিনি একটি ছোট কুয়া কাটলে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাগানের ৪২টি গাছ কেটে নিয়ে যায়। ২০০৬ সালের ২৫ জুলাই তার ছেলে আইয়ুবের ঘরে সন্ত্রাসী আছে মর্মে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশ এনে হেয় প্রতিপন্ন করে ওই চক্রটি। এদিকে গত বছরের ২১ নভেম্বর তাদের ৯/১০ জন লোক তার পরিবারের সদস্যদের উপর আতর্কিত হামলা চালায়। এ হামলায় নারী-পুরুষ, শিশু সহ পরিবারের সাতজন সদস্য আহত হয়। এ সময় স্বর্ণ লংকার লুট করে নিয়ে যায় বলে উল্লেখ করা হয়। এদিন তার ছেলে আইয়ুবকে কুপিয়ে আহত করা হলে তাকে চমেক হাসপাতালে নিতে সিএনজি ট্রেক্সিতে ওাঠানো হয়। সেখানেও এ চক্রের সদস্যরা হামলা চালিয়ে সিএনজি ভাংচুর করে। পরে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে আনোয়ারা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলার আসামীরা জামিনে এসে প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে এ চক্রের সদস্যরা তার দূর্বলতার সুযোগকে পুঁজি করে তার কিছু ভূমি দখল করে রেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: