সদগুরু ও কঙ্গনার কথোপকথন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৭ জুলাই ২০১৯, বুধবার: ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় আধ্যাত্মিক গুরুদের অন্যতম, জাগ্গি বাসুদেব বা ‘সদগুরু’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও অতি ঘনিষ্ঠ ও শ্রদ্ধাভাজন তিনি।

অন্যজন বলিউডের ডাকসাইটে ও ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত– বিতর্ক যাকে প্রায় সব সময় তাড়া করে বেড়ায়। প্রকাশ্য মঞ্চে দুজনের খোলামেলা আলাপচারিতা ইদানীং রীতিমতো জনপ্রিয় হয়েছে। নানা বিষয়ে তারা কথাবার্তা বলছেন। সভায় বহু লোক যেমন সরাসরি লাইভ দেখছেন তেমনি ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়াতেও দেশ-বিদেশের কোটি কোটি মানুষ সদগুরু ও কঙ্গনার কথোপকথন উপভোগ করছেন। ফেসবুকে রিলিজ করা তাদের সর্বশেষ সংলাপে দুজনে কথা বলেছেন একটি সংবেদনশীল বিষয়ে আর সেটা হলো, বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের নিয়ে ভারতের কী করা উচিত?

সংলাপটির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তা ঝড় তুলেছে। সেখানে সদগুরু পরিষ্কার বলেছেন, ‘পেছনের দরজা দিয়ে কেউ আপনার বাড়িতে ঢুকতে চাইলেই তো আপনি ঢুকতে দিতে পারেন না।’

‘আর যারা ইনক্লুসিভনেস নিয়ে বড় বড় কথা বলেন, তারা তো তাহলে বাংলাদেশকে ভারতের একটা ইউনিয়ন টেরিটরি হিসেবে যুক্ত করে নিলেই পারেন। তাহলে আর একই দেশের ভেতর এখানে-সেখানে যাতায়াতে কোনও অসুবিধা থাকে না’, কিছুটা ব্যঙ্গের সুরে এ কথাও যোগ করেছেন তিনি।

এমনকি কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের ইস্যু নিয়ে ভারতের যে রাজনীতিবিদরা নমনীয়তা দেখান তাদেরও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি।

কঙ্গনা: শরণার্থীরা আসছেন লাখে, লাখে। অথচ একদল বলছেন, ‘আমার দেশের লোক না খেতে পেয়ে মরুক, তবু ওদের ঢুকতে দিতে হবে।’ আমার নিজের সন্তান না খেয়ে মারা যাক, তবু নাকি প্রতিবেশীর ছেলেকে বাঁচাতেই হবে। এটা কেমন কথা?

সদগুরু: যদি সত্যিই এ ধরনের লোক কেউ থেকে থাকেন, যিনি নিজের সন্তানের আগে অন্যদের সন্তানকে বাঁচাতে চান, আমি তাদের নতমস্তকে প্রণাম করি। কিন্তু বিষয়টা আসলে তা তো নয়। আসলে আমরা আমাদের অযোগ্যতাকে সহানুভূতির নামে আড়াল করতে চাইছি, যেটা আমার একদম পছন্দ নয়।

নীতিগতভাবে আমি নেশনহুড ধারণাটারই পক্ষপাতী নই। বিভিন্ন দেশের সীমান্ত মুছে গিয়ে একটাই পৃথিবী হলে কী ভালোই না হতো! কিন্তু আমরা তো সেই সম্ভাবনার ধারেকাছেও যেতে পারিনি।

কঙ্গনা: শরণার্থীদের নিয়ে আজকাল এত কথা হচ্ছে। কিন্তু বাইরে থেকে কোটি কোটি লোক এ দেশে ঢুকলে আমাদের লোকজন কোথায় যাবে?

সদগুরু: দ্যাখো, এখন ভারত-বাংলাদেশের প্রসঙ্গে বলি, সাতচল্লিশের দেশভাগে আমাদের দেশ দু’টুকরো হয়েছিল। একাত্তরে সেটাই আবার তিন টুকরো হলো। অনেকে মনে করেন, আজ সেই দেশ পাঁচ বা ছয় টুকরো হলেও ক্ষতি নেই। না, এই ননসেন্স এখন বন্ধ করতেই হবে। যারা এসব বলেন তারা জানেন না দেশভাগের সময় মানুষকে কী অবর্ণনীয় কষ্ট ও যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। কত কোটি লোককে ভিটে ছেড়ে সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে। আজও দ্বিতীয় প্রজন্মের বহু মানুষ শরণার্থীর মতো জীবন কাটাচ্ছেন। দেশকে আবার টুকরো করে সেই যন্ত্রণার পুনরাবৃত্তি আমরা কিছুতেই হতে দিতে পারি না।

ভারতে বিরোধী কংগ্রেস ও বামপন্থী দলগুলোর মতো যারা অনুপ্রবেশের প্রশ্নে নরম অবস্থান নিয়েছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে সদগুরু তাদেরই একহাত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন বিজেপির অবস্থান হলো বাংলাদেশ থেকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানরা ভারতে এলে তারা স্বাগত কিন্তু মুসলিমরা এদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলেই চিহ্নিত হবেন। সদগুরুর বক্তব্যে এই ভাবনার প্রতি তার প্রচ্ছন্ন সমর্থনেরও ইঙ্গিত মিলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*