সকলকে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান : রাষ্ট্রপতি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদকে দেশের সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে সরকারি ও বিরোধী দল নির্বিশেষে সকলকে জনগণের আকাক্ষা পূরণে এ প্রতিষ্ঠানে গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার দশম জাতীয় সংসদের ৫ম অধিবেশন ও বছরের প্রথম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, সমস্যা নিরসনে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাক্ষাকে বাস্তব রূপ দিতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, অতীতের অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতা কাটিয়ে উঠে ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত দেশ গড়তে মহাজোট সরকার গত মেয়াদে নিরন্তর প্রয়াস চালিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে সরকার আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা সমুন্নত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুজ্জ্বল রাখতে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করতে এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে, বাঙালি জাতিকে আবারও ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে এবং দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মাধ্যমেই আমরা লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে পারব। presidentএই সুমহান প্রয়াসে আমাদেরকে অবশ্যই পরিপূর্ণ সাফল্য অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, রূপকল্প-২০২১ এবং দিনবদলের সনদের ভিত্তিতে প্রণীত প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং এ কার্যক্রমে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম-আয়ের দেশে পরিণত হবে, এটাই জাতির প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমেই দেশবাসী স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে। একইভাবে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারী পলাতক খুনিদের আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার সুপ্রিমকোর্টের আপীল বিভাগে চলমান রয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় নাশকতামূলক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আবদুল হামিদ বলেন, সমাজ-জীবনের সর্বক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে দেশ রূপান্তরিত হবে এক আধুনিক, জ্ঞান-নির্ভর ও ডিজিটাল বাংলাদেশে। এ সকল সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য অর্জনে সরকার ২০১০-২১ মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং ২০১১-১৫ মেয়াদী ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, ২০০৮-০৯ থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত গড়ে ছয় শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে উদ্ভূত অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও সাময়িক হিসাব অনুযায়ী মাথাপিছু জাতীয় আয় বেড়ে ১ হাজার ১৯০ মার্কিন ডলার হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ১৩৬ মার্কিন ডলার বেশি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মুল্যস্ফীতির হার দাঁড়ায় ছয় দশমিক এক শতাংশে, যা নিয়ন্ত্রিত এবং সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রপ্তানি ১১ দশমিক সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ দশমিক দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৩৩ দশমিক দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আমদানি পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ১৯ দশমিক দুই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ দশমিক চার শতাংশ, যাতে বোঝা যায়, দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতির অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। তিনি বলেন, জাতীয় টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত দলিলে পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার খাত এবং তিনটি ক্রস কাটিং এরিয়াকে অগ্রাধিকার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কৌশলগত অগ্রাধিকার খাতসমূহ হচ্ছে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন অগ্রাধিকার খাত, সামাজিক নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ, পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থা এবং নগর পরিবেশ। যে তিনটি ক্রস কাটিং এরিয়া চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলো হলো-দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু, সুশাসন ও জেন্ডার ইস্যু। আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৯১ লাখ কর্মী কর্মসংস্থানের জন্য বিশ্বের ১৬০টি দেশে গেছেন। জি টু জি পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় জনপ্রতি ২৭ হাজার টাকা ব্যয়ে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাত হাজার কর্মী পাঠানো হয়েছে। ২০১৪ সালে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৭ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে এবং তাদের পাঠানো রেমিটেন্স ১৪ দশমিক ৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা জাতীয় অর্থনীতিতে জিডিপি’র ১১ শতাংশের বেশি। রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে আলু ২২ দশমিক শূন্য চার লাখ মেট্রিক টন, সবজি ৩২ দশমিক ৯৭ লাখ মেট্রিক টন, তেল ১ দশমিক ২৫ লাখ মেট্রিক টন, ডাল ২ দশমিক ৪ লাখ মেট্রিক টন, মসলা ১১ দশমিক ৩৬ লাখ মেট্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে এবং ইতোমধ্যে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। রপ্তানি ক্ষেত্রে সরকারের ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদানের ফলে রাশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ১ লাখ ৩০ হাজার ১০৬ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশসমূহে বাংলাদেশ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৯২ হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন তাজা শাক-সবজি ও ফলমূল রপ্তানি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ৪১ লাখ ৪৮ হাজার ৫শ’ উপকারভোগীর মধ্যে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুস্থ মহিলাদের ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য মোট ২ হাজার ৫৮ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছে। চা-শ্রমিক, বেদে, দলিল, হরিজন এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন এবং ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার সিরোসিস রোগীর চিকিৎসায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রায় ৪৫ লাখ ব্যক্তির জন্য ২ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬শ’ জন থেকে ৪ লাখে এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৪৮২ জন থেকে ৫০ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। ‘দরিদ্র মা’র জন্য ‘মাতৃত্বকাল ভাতা’ কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। আবদুল হামিদ বলেন, খাদ্য মজুদ ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ়করণে নানামুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে সরকারি গুদামের ধারণক্ষমতা ১৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। দেশের নাগরিকগণের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্দেশ্যে প্রণীত ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’ বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আপামর জনসাধারণের নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জনবল তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষার সকল স্তরে তথ্যপ্রযুক্তি সম্পৃক্ত করে ‘আইসিটি ইন এডুকেশন মাস্টার প্লান’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এর বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলছে। আইসিটি শিক্ষার প্রচলন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে মাধ্যমিক স্তরের ২৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে কক্ষকে ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষে রূপান্তরের লক্ষ্যে সেগুলিতে একটি করে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া, স্পিকার ও মডেম সরবরাহ করা হচ্ছে। নারী শিক্ষার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী ঝরেপড়া রোধকল্পে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে স্নাতক পর্যায়ে ৩৫ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রায় ৮৮০ কোটি ২৭ লাখ টাকার উপবৃত্তি এবং অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। উপবৃত্তি গ্রহীতার প্রায় ৭৫ শতাংশ ছাত্রী। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি দেশৈর টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এবং ট্রাস্টের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল গঠন করা হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে বর্তমান অর্থবছর পর্যন্ত এই তহবিলে ২ হাজার ৯শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত তহবিলে ১৮৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পাওয়া গেছে। আবদুল হামিদ বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সকল সরকারি-বেসরকারি ও বাণিজ্যিক তথ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসাবে ৪ হাজার ৫৯৮টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২১টি পৌরসভা এবং বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের ৪০৭টি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ২৫ হাজার ৪৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটকে একসূত্রে সংযুক্ত করার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। মহাকাশে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সরকার তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১১ হাজার ২৬৫ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। বিদ্যুতের সুবিধাভোগী জনগণের সংখ্যা শতকরা ৬৮ ভাগে উন্নীত হয়েছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ হাজার ৩২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৮ সালের মধ্যে আরও ৯ হাজার ৬৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম চলছে। ২০২১ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে। আবদুল হামিদ বলেন, সরকার দেশের সকল অঞ্চলের মধ্যে সুষ্ঠু এবং সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর বাস্তবায়ন কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে জনগণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সূচিত ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরিতা নয়’ নীতি সমুন্নত রেখেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ ও জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ সরকারের সময়ে ঢাকায় বিমসটেক-এর স্থায়ী সচিবালয় স্থাপিত হয়েছে, যা দেশে স্থাপিত কোন আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রথম স্থায়ী সচিবালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সঙ্গে জাপান ও চীনের দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে নবদিগন্তের সূচনা করেছেন। এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রনায়কোচিত ও দূরদর্শী নেতৃত্ব, শান্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি সুদৃঢ় অঙ্গীকার এবং নারী ও কন্যাশিশুদের শিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনেস্কোর ‘শান্তি বৃক্ষ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জাতিসংঘ সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন দপ্তর ও অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘গ্লোবাল সাউথ-সাউথ লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৪’ প্রদান করে। সরকারের বলিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতির ফলে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী এসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন, ইন্টার-পার্লামেন্টারী ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন’এর কাউন্সিল সদস্যসহ ১৩টি সংস্থার নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। এই সকল বিজয় বাংলাদেশের জন্য সম্মান ও গৌরবের পরিচায়ক এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থান সুদৃঢ়করণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের সুফল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*