ষাঁড়ের লড়াইয়ে ভারতে প্রাণ গেল ৩ জনের

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৩ জানুয়ারী ২০১৭, সোমবার: গত তিন বছর বন্ধ থাকার পর প্রতিবাদ-আন্দোলনের মুখে অবশেষে ছাড়পত্র পায় ভারতের ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই, যা স্থানীয়ভাবে ‘জাল্লিকাট্টু’ নামে পরিচিত। প্রথমদিনই ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে জাল্লিকাট্টুতে মেতে প্রাণ গেছে তিনজনের। ষাঁড়ের গুঁতোয় মৃত্যু হয় দুইজনের ও বিক্ষোভের সময় অসুস্থ হয়ে মারা যান আরেকজন। আহতও হয়েছেন ১২৯ জন।
তামিলনাড়ুর অনেক অংশে শুরু হলেও, বিক্ষোভের মুখে ষাঁড়কে বাগে আনার এই দৌড় সর্বত্র শুরু করা যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে মাত্র ছয়মাসের জন্য জাল্লিকাট্টুর ছাড়পত্র পাওয়া যথেষ্ট নয়। প্রতি বছর যাতে এই দৌড় হতে পারে, তার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে এবং এই দাবিতে আজও চেন্নাইয়ের মেরিনা সৈকত ছেড়ে যাননি আন্দোলনকারীরা। সৈকতে এই বিক্ষোভ চলছে ছয়দিন ধরে।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী পনীরসেলভম সাংবাদিকদের জানান, জাল্লিকাট্টুর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে। আলাঙ্গানাল্লুরেও এই খেলা হবে। তবে কবে হবে, তা ঠিক করে দেবেন স্থানীয়রাই।
তবে পুদুকোট্টাই, ত্রিচি ও ইরোড জেলা-সহ রাজ্যের অন্যান্য অংশে আজ মহা উৎসাহেই জাল্লিকাট্টুতে মাতেন তামিলরা। প্রাথমিক হিসেব বলছে, অন্তত দশ হাজার মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন প্রথম দিনে। কোয়ম্বত্তূরে হয় গরুর গাড়ির দৌড়। পুদুকোট্টাইয়ে ষাঁড়ের গুঁতোয় গুরুতর আহত দুইজনের পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয়। এই অঘটনে ফের প্রশ্নের মুখে ষাঁড়কে বাগে আনার এই প্রাচীন খেলা।
মূলত বিপজ্জনক বলে ও পশু নির্যাতনের অভিযোগেই বন্ধ হয়েছিল জাল্লিকাট্টু। ভবিষ্যতে সেই অভিযোগ যাতে না ওঠে, তার জন্য রাজ্য সরকার আজ বেশ কিছু কড়া বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে এই খেলা নিয়ে। সিসিটিভি, পশু চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের নজরদারি এগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়াও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ষাঁড়ের পাশে থাকতে হবে তার মালিককে। যাতে সে ভয় না পায়। কুঁজ ধরে ঝুলে ১৫ মিটারের বেশি যাওয়া যাবে না। ষাঁড় ছোটাতে টানা যাবে না লেজও।

Leave a Reply

%d bloggers like this: