শ্রীলঙ্কার চক্ষুশূল মুত্তিয়া মুরালিধরন!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৬ জুলাই: সিনেমার চিত্রনাট্যেও বোধ হয় এত নাটকীয়তা থাকে না। যে অস্ট্রেলিয়ার জন্য একসময় ক্রিকেট ক্যারিয়ার বিপন্ন হতে বসেছিল, সেই অস্ট্রেলিয়ার জন্য এবার দেশের চক্ষুশূল হয়ে যাচ্ছেন মুত্তিয়া মুরালিধরন!murali
অস্ট্রেলিয়ার জন্য শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট টিমের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছে মুরালিধরনের। আর সেটির জেরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড মুরালির বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডের কাছে নালিশ করেছে।
পাল্লেকেলেতে আজ প্রথম টেস্ট শুরুর আগে হয়েছে এটি। এই সিরিজেই অস্ট্রেলিয়ার বোলিং পরামর্শক হিসেবে কাজ শুরু করেছেন মুরালি। তিন দিন আগে স্মিথদের নিয়ে যান পাল্লেকেলের মাঠে। কিন্তু টেস্টের আগে অনুশীলনের ব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ থাকে। পাল্লেকেলের মাঠকর্মীরা সেটিই মনে করিয়ে দিয়েছিলেন মুরালিকে।
শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি সেটা মানতে রাজি হননি, একদফা অপমানও করেছেন তাঁদের। পরে শ্রীলঙ্কার ম্যানেজার চারিথ সেনানায়েকের সঙ্গেও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে মুরালিধরনের। শ্রীলঙ্কার বোর্ড সভাপতি থিলাঙ্গা সুমাথিপালার দাবি, ‘সে গ্রাউন্ডসম্যানদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেছে।
অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের জন্য বেঁধে দেওয়া অনুশীলনের সময়সীমাও লঙ্ঘন করেছে। আমাদের ম্যানেজারকেও সে অপমান করেছে।’
ঘটনা এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। সুমাথিপালা ব্যাপারটা অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্টকেও জানিয়েছেন, ‘মুরালিধরনের ব্যবহার একদমই অগ্রহণযোগ্য। আমরা এটি অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্টকে জানিয়েছি। এটা কোনোভাবেই হওয়া উচিত হয়নি। আমরা খুবই হতাশ।’
মুরালিও ছেড়ে কথা বলেননি। বার্তা সংস্থা এএফপিকে পাঠানো এক ভিডিও বিবৃতিতে মুরালিধরন ধুয়ে দিয়েছেন বোর্ড সভাপতিকে।
তাঁকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলতেও বারণ করেছেন মুরালি, ‘শ্রীলঙ্কা হারলে তারা বলবে মুরালির কারণেই এ রকম হয়েছে। তাঁদের কোনো অধিকার নেই আমাকে বিশ্বাসঘাতক বলার। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের জন্য আমি যা করেছি তারা কি সেটির ১ শতাংশও করেছে?
তবে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং পরামর্শক হওয়ার পরই মুরালিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। কেন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কাজ করছেন সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক, ‘শ্রীলঙ্কা আমাকে প্রস্তাব দেয়নি, সে জন্য আমি অস্ট্রেলিয়ানদের সঙ্গে কাজ করেছি। তারা শুধু বিদেশ থেকে সাদা চামড়ার কোচ নিয়ে আসে। এর প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতে পড়ে কারণ আমাদের দেওয়া ডলারগুলো বিদেশে চলে যায়। বিশ্বাসঘাতকতা হলো এটাই।’ এএফপি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: