‘শ্রম অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সেবা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের সমন্বয় জরুরি’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৫ মে ২০১৭, বৃহস্পতিবার: অভিবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইপসা-ফেয়ারার লেবার ইন মাইগ্রেশন প্রকল্পের উদ্যোগে, চট্টগ্রামের প্রেস ক্লাবে আজ ২৫ মে ২০১৭ এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত আলোচনা সভায় শ্রম অভিবাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সেন্টারের প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ইপসার টিম লিডার নাসিমা বানুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ হাবিবুর রহমান। সভায় যাঁরা বক্তব্য প্রদান করেন মোঃ মুখলেছুর রহমান, উপপরিচালক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম। মোঃ শফিকুর রহমান, সহকারি পরিচালক, জেলা জনশক্তি ও কর্ম-সংস্থান অফিস, চট্টগ্রাম। ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নজরুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল, বাংলাদেশ কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, চট্টগ্রাম। মোঃ শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, চেয়্যারম্যান, সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদ, রাঙ্গুনিয়া।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স¦াগত বক্তব্য ও ফেয়ারার লেবার ইন মাইগ্রেশন প্রকল্পের পরিচিতি ও অগ্রগতি তুলে ধরেন, প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ আবদুস সবুর। প্রজেক্ট ম্যানেজার বলেন ইপসা, সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে সঠিক অভিবাসন সর্ম্পকে জনগণ সচেতন করছে ও অভিবাসন বিষয়ক বিরোধ নিস্পত্তিতে সামাজিক সালিশ প্রতি জনগণকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া যুগিয়েছে।
আলোচনা পর্বে অভিবাসন ইচ্ছুক যুবক আসাদুজ্জামান বলেন ইউনিয়ন পর্যায়ে না হলেও অন্তত উপজেলা পর্যায়ে লোক-জনবল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা উচিত, যাতে করে অভিবাসন ইচ্ছুক যুবক দক্ষ হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশ গমন করতে পারে। তাছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে জনশক্তি ও কর্ম-সংস্থান অফিস এর একটি ইউনিট অফিস থাকার ব্যাপারে গুরুত্ব দেন। যাতে করে শ্রম অভিবাসনের সঠিক ধাপ-সমূহ সবাই জানতে পারে ও প্রতারিত হবার সম্ভাবনা কমে আসবে।
সভায় বক্তারা বলেন- শ্রম অভিবাসনকে সহজ ও সাশ্রয়ী করার উদ্দ্যেশে জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিস ব্যাপক উদ্যোগ ও কর্মসূচী গ্রহণ করেছে যেমন ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে বর্হিগমন ছাড়পত্র, ফিঙ্গার প্রিন্ট কার্যক্রম, অভিযোগ দাখিলের হটলাইন, বিশেষ ওয়েভসাইট চালু করেছেন যা শ্রম মাইগ্রেশনকে সহজ করছে। তারা আরো বলেন- বেসরকারি সংস্থাসমূহের উদ্যোগের কথা এবং সমন্বয়ের ব্যাপারে সবাইকে আহবান জানান।
প্রধান অতিথির বক্ত্যবে মোঃ হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বলেন বর্তমানে বাংলাদেশের এক কোটির উপর মানুষ এখন পৃথিবীর নানা দেশে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। অধিকাংশ শ্রমিক সঠিক তথ্য না জেনে বিদেশ যাচ্ছেন। অনেকক্ষেত্রে শ্রমিকরা তার চুক্তির কাগজ হাতে পান না। এতে করে সে কি কাজ করবে বা কত টাকা আসলে বেতন পাচ্ছে এ ব্যাপারে তার কোন ধারণা থাকে না। এইক্ষেত্রে জেলা জনশক্তি ও কর্ম-সংস্থান অফিস আরো প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করতে পারে। শ্রম অভিবাসনকে সাশ্রয়ী করতে দালাল নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে এবং এই পর্যায়ে রিক্রুটিং এজেন্সিকে আরো আন্তরিক ও স্বচ্ছ হতে হবে ও শ্রম অভিবাসন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বয় করে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এর ব্যাপারে মত প্রদান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*