শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের লালসালু : তারেক

নিউজগর্ডেন ডেস্ক : বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের লালসালু। এই লালসালুকে ঘিরে থাকা ভণ্ডরাই নিজেদের স্বার্থে যাকে তাকে রাজাকার আখ্যা দেয়। অথচ মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবার ও আওয়ামী লীগের কোনো ভূমিকা নেই।’ বাংলাদেশের ৪৪তম বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপির আট দিনের অনুষ্ঠানমালার সপ্তম দিনে সোমবার ইস্ট লন্ডনের দ্যা অট্রিয়াম অডিটোরিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ সব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। সভা পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদ। সভায় আরও বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী মীর নাসির উদ্দিন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রহুল কবির রিজভী ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান প্রমুখ। দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান ১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেওয়ায় শেখ মুজিবের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘৭১ এ পাকিস্তানের দোসর যারা ইয়াহিয়া টিক্কা খানের রুপি খেয়ে ঢাকায় আয়েশে নয় মাস কাটিয়ে দিয়েছেন দেশ ও গণতন্ত্র এখন তাদের কাছে বন্দী।’ তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ দাবি করে তাদের দল নাকি মুক্তিযুদ্ধের দল অথচ চোরের দল চাটার দল আখ্যা দিয়ে শেখ মুজিব নিজেই আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এমন একটি কাজ করার জন্য তাহলে তো শেখ মুজিবই বড় রাজাকার। তিনি বলেন, বাস্তবতা হল, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকালীন দল বটে তবে মুক্তিযুদ্ধের দল নয়। এ দলের অধিকাংশ নেতাই মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশ নেননি। তারেক রহমান বলেন, ৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী হানাদারদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের উপঅধিনায়ক সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান একে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন তাকে রাজাকার আখ্যা দিয়ে কি বাংলাদেশের বিজয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়নি? তারেক রহমান বলেন, শেখ মুজিব ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতাকামী জনগণের ওপর হামলার আগ পর্যন্ত ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতাকামী জনগণ তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার খায়েশ নস্যাত করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শেখ মুজিবকে জোর করে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই ইতিহাস বিকৃতির শুরু। তারেক বলেন, বিজয় দিবসের শুভলগ্নে স্মরণ করছি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা একে এম ফজলুল হকসহ সেই সময়ের রাজনৈতিক নেতাদের যারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানীর জনগণের স্বার্থের পক্ষে সদা সোচ্চার ছিলেন। তারেক রহমান বলেন, বাকশালের জনক শেখ মুজিবুর রহমানকেও স্মরণ করছি যিনি পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসনের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, যদিও জনগণ স্বায়ত্বশাসন নয় চেয়েছিল স্বাধীনতা। তিনি বলেন, তবে ব্যতিক্রম ছিলেন মওলানা ভাসানী, যিনি স্বায়ত্বশাসন নয় চেয়েছিলেন স্বাধীনতা। তবে মওলানা ভাসানীই প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতার আওয়াজ তুলেছিলেন। তারেক রহমান বলেন, স্মরণ করছি তাজউদ্দীন আহমদ, জেনারেল ওসমানীসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য শহীদ এবং যারা ৫৬ হাজার বর্গমাইল এলাকার ভেতরে থেকে সাহসের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে লড়াই করেছেন শত্রুর সঙ্গে। শহীদ জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচিত হিসেবেও প্রথম রাষ্ট্রপতি দাবি করে তারেক রহমান বলেন, শুধু রাজনীতিবিদরাই নন, জিয়াউর রহমানও বালাদেশের স্বাধীনতার জন্য সেই তরুণ বয়স থেকেই নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রেখেছিলেন। তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবসে ‘একটি জাতির জন্ম’ শিরোনামে জিয়াউর রহমানের একটি লেখা থেকেও উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন, ‘ৃস্কুল জীবন থেকেই পাকিস্তানীদের দৃষ্টিভঙ্গির অস্বচ্ছতা আমার মনকে পীড়া দিতো। আমি জানতাম, অন্তর দিয়ে ওরা আমাদের ঘৃণা করে। বাঙালিদের বিরুদ্ধে একটা ঘৃণার বীজ উপ্ত করে দেওয়া হতো স্কুল ছাত্রদের শিশু মনেই। সেই স্কুল জীবন থেকে মনে মনে আমার একটা আকাঙ্খাই লালিত হতো, যদি কখনও দিন আসে, তাহলে এই পাকিস্তানবাদের অস্তিত্বেই আমি আঘাত হানবো। পাকিস্তানী পশুদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার, দুর্বারতম আকাঙ্খা দুর্বার হয়ে উঠতো মাঝে মাঝেই। উদগ্র কামনা জাগতো পাকিস্তানের ভিত্তি ভূমিটাকে তছনছ করে দিতে। কিন্তু উপযুক্ত সময় আর উপযুক্ত স্থানের অপেক্ষায় দমন করতাম সেই আকাঙ্খাকে।’ তিনি বলেন, এই কারণেই দেখা যায়, শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হলেও যথাসময়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে জিয়াউর রহমানের কোনো সমস্যা হয়নি। তারেক রহমান বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই, বাকস্বাধীনতা নেই। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই। প্রতিদিনই মানুষ গুম হচ্ছে খুন হচ্ছে। ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে এ সব গুম খুনের সঙ্গে খোদ শেখ হাসিনা জড়িয়ে পড়েছেন। দুর্নীতি লুটপাট এখন সর্বগ্রাসী। জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে। র‌্যাব নামের রক্ষীবাহিনীর বন্দুকের জোরে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে রেখেছেন রংহেডেড শেখ হাসিনা। এই দখলদার হাসিনার অবৈধ সরকারের অবৈধ মন্ত্রীদের অতিকথনে জনগণ অতিষ্ঠ। খোদ শেখ হাসিনার মুখে নোংরা ও অশ্লীল কথাবার্তা জাতি হিসেবে প্রায়ই জনগণকে লজ্জায় পড়তে হয়। তারেক রহমান বলেন, একটার পর একটা অপকর্ম করে রংহেডেড শেখ হাসিনা বিপদে পড়লেই জনগণকে ধোঁকা দিতে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করেন। তারেক বলেন, শেখ মুজিব কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে নয় আন্দোলন করেছিলেন পূর্বপাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসনের জন্য। শেখ মুজিব স্বাধীনতা চাননি বলেই সুযোগ পেয়েও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, পাকিস্তান আমলের পুরো সময়টাতে শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবনে কোথাও কোনো সমাবেশে প্রকাশ্যে কখনই তার মুখ থেকে কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা উচ্চারিত হতেও শোনেনি। শেখ মুজিব চেয়েছিলেন ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে। তিনি বলেন, শেখ মুজিব তো নয়ই তার পরিবারও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি ভাষাসৈনিক ও রাজনীতিবিদ মরহুম অলি আহাদের জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫-১৯৭৫ বই থেকে ডেপুটি অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি ক্রিস পারভেন এর মার্কিন সিনেট সাব কমিটির শুনানির একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দেন। শুনানিতে বলা হয়, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের ঢাকায় অবস্থানকারী পরিবারের ব্যয় বহনে বেগম ফজিলাতুন্নেসাকে প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা করিয়া মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করিয়াছিলেন।’ তারেক রহমান বলেন, আধাবেলা একবেলা খেয়ে না খেয়ে লাখো মানুষ যখন রণাঙ্গনে, শেখ মুজিবের পরিবার তখন খুনি ইয়াহিয়া খানের পয়সায় খানসেনাদের পাহারায় নিরাপদে দিন কাটাচ্ছেন ঢাকায়। তারেক রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, তাহলে শেখ মুজিবকে ‘পাকবন্ধু’ বলায় কি ভুল হয়েছে? তারেক রহমান বলেন, শেখ মুজিবকে ‘পাকবন্ধু’ বলায় আওয়ামী লীগের নাকি সম্মানহানি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘শেখ হাসিনার আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় এক দুর্বৃত্ত ব্যাংক থেকে জনগণের প্রায় চার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। অথচ বর্তমান অবৈধ সরকারের এক রাবিশ মন্ত্রী বলেন, এটা নাকি তেমন কিছুই না। অবৈধ হাসিনা সরকারের এক মন্ত্রীর জামাতা র‌্যাবের পোশাক পরে নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে নির্মমভাবে খুন করেছে। দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তা তুলে নিয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোটারের পরিবর্তে টেলিভিশনের পর্দায় কুকুর দেখা গেছে, বিশ্বজিৎ নামে এক যুবককে ছাত্রলীগ রাস্তায় কুপিয়ে হত্যা করেছে। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ জ্বালিয়ে দিয়েছে। শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িতদের শেখ হাসিনা অবৈধ মন্ত্রিসভায় তার পাশে বসিয়েছে, শেখ মুজিব বিনাবিচারে ১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে পাকিস্তান পাঠিয়ে দিয়েছে, আওয়ামী লীগকে চোরের দল চাটার দল বলে শেখ মুজিব নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে, এ সবের জন্য কি আওয়ামী লীগের কারো সম্মানহানি হয়নি? তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনের নামে শেখ হাসিনা অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রাখায় গণতন্ত্রের সম্মানহানি হচ্ছে। দেশের জনগণের সম্মানহানি হচ্ছে। বিনাভোটে ১৫৪ জনকে এমপি নির্বাচন করায় জাতীয় সংসদের প্রাণহানি হচ্ছে। আগে এ সব অপকর্মের বিচার হতে হবে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতা অন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শেখ মুজিব নিজেও প্রস্তুতি নেননি, আওয়ামী লীগকেও প্রস্তুত করেননি। আওয়ামী লীগও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল নয়।’ তিনি মহিউদ্দিন আহমদ লিখিত ‘জাসদের উত্থান পতন : অস্থির সময়ের রাজনীতি’ বই থেকে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সিরাজুল আলম খানের একটি মন্তব্য তুলে ধরে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ছিল অ্যান্টি লিবারেশন ফোর্স। আওয়ামী লীগ তো ছয় দফা থেকে এক ইঞ্চিও আগে বাড়তে চায়নি। এদের সত্যিকার চেহারা জানতে পারলে মানুষ এদের গায়ে থুতু দেবে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘৭ মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হতো না।’ এতো মানুষের প্রাণহানির দায় শেখ মুজিব এড়াতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধের উপঅধিনায়ক আওয়ামী লীগের সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কে খন্দকার, কলাম লেখক বদরুদ্দিন উমরের লেখার উদ্ধৃতি দেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার আগে কিংবা পরে কখনোই জনগণের ওপর ভরসা রাখেনি, জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পারেনি। জনগণের কাছে স্বীকৃতি না পেয়ে এরা এখন কথায় কথায় আদালতের মাধ্যমে শেখ মুজিবের স্বীকৃতি চায়।’ শেখ মুজিবের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘শেখ মুজিব ১৯৩৮ সালে মারামারির দায়ে প্রথম জেলে যান। ওই সময় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, শেখ মুজিব রামপদ নামে একজনকে হত্যার জন্য আঘাত করেছেন। ওই মামলায় সাত দিন জেল খাটেন শেখ মুজিব।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিলেও স্বাধীন বাংলাদেশে শেখ মুজিবের ভয়ঙ্কর চরিত্রের প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়। স্বাধীন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় রমনা কালীমন্দিরের জায়গাটি দখল করে নেওয়া হয় তার শাসনামলেই। সিরাজ শিকদারকে বিনাবিচারে হত্যা করে সেটি আবার গর্ব করে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দম্ভ করে বলে সংসদকে কলংকিত করার ইতিহাস শেখ মুজিবেরই রয়েছে। ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছিলো শেখ মুজিবের শাসনামলে। এই হলো শেখ মুজিবের চরিত্র।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে অনেকেই বলেন মোনাফেকের দল। তাদের কথায় কাজে মিল নেই। আওয়ামী লীগ কথায় কথায় যাকে তাকে যখন তখন রাজাকার আখ্যা দিলেও শেখ হাসিনার পরিবারেই রাজাকারের বংশবিস্তার হচ্ছে।’ তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘শেখ হাসিনার বেয়াই খন্দকার মোশাররাফ হোসেন ফরিদপুরে ৭১ সালের নামকরা রাজাকার। তার পিতা নুরা রাজাকারের নাম ফরিদপুরে রাজাকারদের তালিকায় ১৪ নাম্বারে। নুরা মিয়া শান্তি কমিটির স্থানীয় সভাপতি ছিলেন। শেখ হাসিনা রাজাকারদের সঙ্গে আত্মীয়তা করলেও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা কিন্তু সেটি মেনে নিতে পারেননি।’ তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ সেলিমের বেয়াই প্রসিদ্ধ রাজাকার মুসা বিন শমসের। এটিও শেখ হাসিনা নিজেই প্রকাশ করে দিয়েছেন।’ তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিব এবং তার পরিবারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, তাই রাজাকারের সঙ্গে আত্মীয়তা করতে তাদের হয়ত কোনো সমস্যা নেই, কিংবা বিষয়টি হতে পারে নিতান্তই তাদের পারিবারিক বিষয়, সেইক্ষেত্রে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কিন্তু নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে আওয়ামী লীগ যখন যাকে তাকে রাজাকার বলে অপবাদ দেয় তখন জনগণ স্বাভাবিকভাবেই এ সব প্রশ্নের জবাব খোঁজার অধিকার রাখে।’ তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবের কোন সমালোচনা করা যাবে না বলে যারা মনে করেন, তাদের কাছে প্রশ্ন, কেন সমালোচনা করা যাবে না। শেখ মুজিব শয়তানও না আবার ফেরেশতাও না। তিনি একজন মানুষ এবং একজন মুসলমান। এ কারণে আমি তার কবরও জিয়ারত করেছি। একইসঙ্গে তিনি একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তার সমালোচনাও হবে এটাই স্বাভাবিক।’ অতীতমুখিতা বাদ দিয়ে আগামী প্রজন্মকে ইতিহাস বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করতে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। আবারো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে চলমান অপশাসন থেকে জনগণকে মুক্ত করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
সূত্র : দি.রি.

Leave a Reply

%d bloggers like this: