শুধু তিস্তা নয়, জলঢাকা, তোর্ষা, মহানন্দাসহ উত্তরবঙ্গের নদীগুলির পানির ভাগ বাংলাদেশকে দেওয়া উচিত: রাজ্যপাল তথাগত রায়

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৫ জুলাই ২০১৭, বুধবার: শুধু তিস্তা নয়, জলঢাকা, তোর্ষা, মহানন্দাসহ উত্তরবঙ্গের নদীগুলির পানির ভাগ বাংলাদেশকে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের ত্রিপুরার রাজ্যপাল তথাগত রায়। তিনি বলেছেন, ‘আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নদী আইনও জানি। নিয়মমতে নদীর ধারার নিম্নদিকে থাকা দেশকে পানির ভাগ দেওয়া বাধ্যতামূলক। ভারতের পানির সমস্যার কথা বলা হচ্ছে। আমার মতে, সমস্যা হলে সেটাও ভাগ করতে হবে। কিন্তু পানি দেওয়া বন্ধ করা উচিত নয়।’ মঙ্গলবার আসামের গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ ডায়ালগ-এ তিনি এ কথা বলেন। তিন দিনের বৈঠকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল, ত্রিপুরার রাজ্যপাল, বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও দুই দেশের আরও অনেক নেতা, আমলা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অংশ নেন। তথাগত রায় বলেন, ‘বাংলাদেশেরও টিপাইমুখ বাঁধে আপত্তি করা অনুচিত। বরাক নদীর জলপ্রবাহ বন্ধ করবে না ওই বাঁধ। তেমনটা হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, আসামের বরাক উপত্যকাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তেমনই চীন যদি সিয়াং নদীর উপরের অংশে বাঁধ দেয়, তবে শুধু আসামে ব্রহ্মপুত্র নয়, বাংলাদেশের যমুনাও প্রভাবিত হবে।’ সংলাপে আসামের স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ভারতে মাল আনা-নেওয়া করলে পরিবহণের সময় ও খরচ বাঁচবে। বাংলাদেশও ‘ট্রানজিট-ফি’ বাবদ বছরে অনেক টাকা পেতে পারে।’ তাঁর আরও প্রস্তাব, ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত চলা অবৈধ বাণিজ্যে দু’দেশেরই রাজস্ব নষ্ট হচ্ছে। তার চেয়ে সীমান্তে বৈধ বাণিজ্য শুরু করলে লাভ। তাই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিশেষ ‘সীমান্ত ইকনমিক জোন’ তৈরি করা হোক। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বিশ্বব্যাঙ্কের মতে ভারতের উত্তর-পূর্ব, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান মিলিয়ে এই এলাকাই বিশ্বেও অন্যতম দরিদ্র অর্থনৈতিক ক্ষেত্র। আমাদের প্রধান শত্রু হল দারিদ্র্য। সামনে আরও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপড়েন আসতে পারে। তাই নিজেদের মধ্যে বিভেদ মিটিয়ে দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই চালানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’ ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ পৃথক দেশ হলেও সভ্যতা-সংস্কৃতি-সমাজের ধারাবাহিকতা বহন করে। কিন্তু তার মধ্যে কাঁটার খোঁচার মতো বিঁধছে ধর্মান্ধতা। ভারত ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গো-রক্ষা অবশ্যই পবিত্র কাজ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কাজ মানবরক্ষা। গো-রক্ষার নামে মানুষরে মারধর করা, হত্যা করার মতো জঘন্য কাজ মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশেও বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ সমাজের স্বপ্নে কালি ছেটাচ্ছে ধর্মান্ধ, উগ্র জাতীয়তাবাদীর দল। ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যবহার করা উচিত নয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*