শীতকালের বায়ুমন্ডল বড্ড শুষ্ক

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার: শীতকালের বায়ুমন্ডল বড্ড শুষ্ক। বাতাসে জলীয় বাস্পের পরিমাণ সম্পৃক্ত অবস্থার চেয়ে অনেক কম। অর্থাৎ বাতাসের আর্দ্রতা অনেক কম থাকে। বাতাসের আর্দ্রতা নির্ভর করে বাতাসে কতটুকু জলীয় বাষ্প আছে তার ওপর। বাতাস কতটুকু ভেজা বা শুষ্ক তা বোঝা যায় আর্দ্রতার পরিমাপ দিয়ে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হলে আর্দ্রতাও বেশি হয়, কম হলে আর্দ্রতাও কম হয়। বাতাসে জলীয় বাষ্প ধারণ করার একটা নির্দিষ্ট সীমা। একে বাতাসের সম্পৃক্ত অবস্থা বলে। বাতাস সম্পৃক্ত অবস্থায় পৌঁছে গেলে আর জলীয় বাষ্প শোষণ করতে পারে না।
বাতাসের আর্দ্রতা সম্পৃক্ত অবস্থার খুব কাছাকাছি হলে অন্য বস্তু থেকে জলীয় বাষ্প শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। অর্থাৎ বাতাস বেশি ভেজা হলে তার জলীয় বাষ্প শোষণ করার ক্ষমতা কম হয়। অন্যদিকে বাতাসের আর্দ্রতা যত কম হয় তার জলীয় বাষ্প শোষণ করার ক্ষমতা তত বেশি হয়।
শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা গরমকালের তুলনায় অনেক কম। এ কারণে শীতের বাতাস বেশি শুষ্ক। তাই শীতের বাতাসের জলীয় বাষ্প শোষণ করার ক্ষমতাও অনেক বেশি। শীতের বাতাস তাই যেখান থেকে সুযোগ পায় জল বা জলীয় বাষ্প শুষে নেয়। শীতকালে বাতাস মানুষের শরীর থেকেও জলীয় বাষ্পাকারে জল শুষে নিতে পারে। শীতকালে মুলত পোষাক দিয়ে মোড়ানে থাকে মানুষের শরীর। কিন্তু হাত-পা, ঠোঁট ইত্যাদি খোলা থাকে। জলীয় বাষ্প শোষণ করার জন্য বান্ডুমন্ডল মানুষের শরীরের ওই অঙ্গগুলোই বেছে নেয়। ফলে শরীরে ওইসব স্থানের ত্বকে শুষ্ক হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত পরিমান পানির অভাবে ত্বক ফেটে যেতে শুরু করে। এজন্য শীতকালে জেলি বা লোশন ব্যবহার শরীরের উন্মুক্ত স্থানগুলোতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*