শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার দাবি জার্মানিতে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩১ মার্চ ২০১৯ ইংরেজী, রবিবার: শিশু ঘরে কিংবা বাইরে যেখানেই থাকুক তার দৃষ্টি থাকে স্মার্টফোনের দিকে ৷ এ দৃশ্য আজকাল সর্বত্র দেখা যায়, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিশুদের শরীর ও মনে ৷ তাই শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার দাবি উঠেছে জার্মানিতে ৷
জার্মানিতে ১৩ বছর বয়সি শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ শিশুই স্মার্টফোন ব্যবহার করে৷ আর তার ভীষণ ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে শিশুদের শরীর ও মনে৷ জার্মানিতে ১৪ বছরের কমবয়সি শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেছেন ইন্টারনেট বিষয়ক সরকারি উপদেষ্টা ইউলিয়া ফন ভাইলার৷ খবর ডয়চে ভেলের।
ইউলিয়া ফন ভাইলার জানান, মাত্র ৯ বছর বয়সেই শিশুরা ইন্টারনেটে সহিংসতার ছবি দেখে৷ তাই তিনি স্মার্টফোন দেখার ক্ষেত্রে শিশুদের যেন বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয় অর্থাৎ বয়স ১৪ পূর্ণ হলে যেন তারা স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি পায়, সেই প্রস্তাব করেছেন৷
৯ থেকে ১১ বছর বয়সিদের মধ্যে সহিংসতা ও পর্ন ছবি দেখার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে৷ এমনকি সব বয়সিদের মধ্যে ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে ছাড়া হচ্ছে৷ জার্মান পুলিশ বলছে, এ ধরনের ভিডিওর মাধ্যমে হয়রানির শিকার হওয়া শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে৷
স্মার্টফোন ব্যবহার শিশুদের মনোযোগে ব্যঘাত ঘটায়, এতে স্কুলের ফলাফলও খারাপ হয়৷ খেলাধুলা না করা বা কম করার কারণে আজকের শিশুরা নানা অসুখ ও অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছে বলে জানিয়েছেন জার্মানির শিশু বিশেষজ্ঞরা৷
বন্ধুদের মধ্যে মোবাইলে মেসেজ না পাঠিয়ে নিজেদের মধ্যে দেখা করা উচিত৷ সরাসরি ভাবের আদান-প্রদান, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকাই শিশুদের সুস্থ রাখে বলে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন৷
জার্মানির পরিবার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া পরামর্শদাতা কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন৷ এগুলো হচ্ছে, পাঁচ বছর পর্যন্ত দিনে আধ ঘণ্টা আর ছয় থেকে ৯ বছর বয়সিরা দিনে একবার একঘণ্টা করে স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি পাবে৷ আর দশ বছরের বেশি যাদের বয়স, তারা সপ্তাহে নয় ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারে৷ তবে যে শিশু তিনদিনে নয় ঘণ্টা স্মার্টফোন ব্যবহার করবে, তার ফোন সপ্তাহের বাকি দিনগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে৷

Leave a Reply

%d bloggers like this: