শিক্ষা সচিব এখন ক্ষমতা শূন্য

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৫ নভেম্বর: ‘এতদিন’ খানিকটা হলেও ‘ক্ষমতা’ ছিল শিক্ষা সচিবের। কিন্তু এখন পরিপত্র, নীতিমালা, আইন জারি এবং জনমতের জন্যও কোনো কিছু ওয়েবসাইটে প্রদর্শনে অবশ্যই তাকে অনুমোদন নিতে হবে শিক্ষামন্ত্রীর। মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রথম শ্রেণির কোনোedu-min- কর্মকর্তাকে পদায়নে তার যে ক্ষমতা ছিল তাও ছেঁটে ফেলা হয়েছে। ফলে তার রইল শুধু চেয়ার। মন্ত্রীর অগোচরে শিক্ষা আইনের খসড়া প্রকাশের পর শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খানসহ মন্ত্রণালয়ের দপ্তর প্রধানদের নিয়ে এমনই একটি নির্দেশনা জারি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এর ফলে সচিব পর্যায়ে যেসব ফাইল অনুমোদন হত এখন বাধ্যতামূলকভাবে তা মন্ত্রীর কাছে পাঠাতে হবে। আর তাতে মন্ত্রীর সায় মিললেই তা পাবে অনুমোদন। গত ২৬ অক্টোবর গোপনীয়ভাবে নিজের একান্ত সচিব নাজমুল হক খানের স্বাক্ষরে এই লিখিত নির্দেশনা জারি করেন শিক্ষামন্ত্রী; যা মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তর প্রধানদের পাশাপাশি সচিবকে অবহিত করতে তার একান্ত সচিবকে অনুলিপি দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, কিছুদিন আগে শিক্ষা আইনের খসড়া প্রকাশ নিয়ে নতুন করে মন্ত্রী-সচিবের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রীকে না জানিয়ে মতামত নিতে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছিল। খসড়াটি যুগোপযোগী নয় বলে সমালোচনা ওঠে। পরে মন্ত্রীর নির্দেশে খসড়াটি প্রত্যাহার করা হয়। গত ২৬ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব নাজমুল হক খানের স্বাক্ষরে লিখিত নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে কোনো পরিপত্র, নীতিমালা, আইন ইত্যাদি জারি, জনমতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রদর্শন এবং মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অধিদফতর/মদফতর ও শিক্ষা বোর্ডসমূহে প্রথম শ্রেণীর যে কোনো পদে পদায়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রী পর্যায়ে অনুমোদন গ্রহণের জন্য মন্ত্রী সদয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সে মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সবিনয় অনুরোধ করা হলো।’ এ নির্দেশনার কারণে সচিব পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য বিষয়েও মন্ত্রীর অনুমোদন প্রয়োজন হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সচিবকে নিবৃত্ত করতেই মূলত এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বিদেশে অবস্থান করায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষা সচিবের ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। মতামত ও পরামর্শ নিতে গত ১৯ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে শিক্ষা আইনের খসড়া প্রকাশ করা হয়। ২৭ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খসড়াটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পরিমার্জনের জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। খসড়া আইনের প্রশ্ন ফাঁসের শাস্তিসহ কিছু বিষয় যুগোপযোগী হয়নি বলে খসড়াটির সমালোচনা করেন কেউ কেউ। কোন ব্যক্তি কোন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস বা এর সঙ্গে জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভদণ্ডের কথা বলা হয়েছিল প্রকাশিত খসড়া শিক্ষা আইনে। সর্বশেষ মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত পাশ কাটিয়ে সচিব সকল কলেজে অনলাইনে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন। অনভিজ্ঞতা ও যান্ত্রিক জটিলতায় লেজেগোবরে অবস্থা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এতে চরম ক্ষুব্ধ হন শিক্ষামন্ত্রী। ওই সময়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে বলা হয়, মন্ত্রীর মতামত ছাড়া কোন কর্মকর্তাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে বদলি হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসেন সচিব নজরুল ইসলাম খান। সচিবের বিরুদ্ধে মন্ত্রীকে অবহিত না করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বার বার। এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নির্দেশনা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্তটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হলে এর পরের দিন ১ জানুয়ারি নির্দেশনাটি স্থগিত করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ওই সময় জানা গেছে, ওই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন শিক্ষা সচিব। পরে শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি জেনে স্থগিত করেন। অবশ্য কেউ কেউ মনে করেন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও অর্থের অপচয় কমতো। এরপর ৩ মার্চ পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে একটি পরিপত্র জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হলেও ক্লাসে ৭০ শতাংশ উপস্থিত শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। নির্বাচনী পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্যতার অজুহাতে স্কুল-কলেজগুলো পরীক্ষার্থী ছাঁটাই করে। কোন কোন ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু কেউ কেউ এ পরিপত্রের সমালোচনা করেন। শিক্ষা সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এ পরিপত্রের বিষয়েও শিক্ষামন্ত্রী কিছু জানতেন না বলে জানা যায়। এতেও ক্ষুব্ধ হন মন্ত্রী। পরে এ পরিপত্রটি বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সম্পর্কের অবনতির কথা চিন্তা করে তা আর হয়নি বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান। সূত্র: শীর্ষ নিউজ

Leave a Reply

%d bloggers like this: