শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ফান্ডের জন্য ১০% কর্তন প্রত্যাহার করার দাবিতে মানববন্ধন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১২ জুলাই ২০১৭, বুধবার: দীর্ঘ ৮ বছরেরও অধিক সময় ধরে প্রতি অর্থ বছরে সরকারের প্রতিশ্রুত অর্থ না দেয়ার কারণে দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর অর্জিত অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টকে সরকার অচল করার পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যেখানে ৭ম পে-স্কেলে বেতন থেকে ৬% কর্তণ করার বিধান রাখা হয়। কিন্তু ৮ম পে-স্কেল কার্যকর করার সাথে সাথে ৬% এর সাথে অতিরিক্ত ৪% কর্তণ করে মোট ১০% কর্তণ করা দুই বেতন স্কেলের মধ্যে সাংঘর্ষিক ও সম্পূর্ণ আইন বর্হিভূত বলে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ মনে করেন এবং এটি সরকারি আমলাদের এক ধরনের হটকারী সিদ্ধান্ত। যা বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করবে। এরই প্রতিবাদে অদ্য ১২ জুলাই বুধবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে কেন্দ্রিয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) চট্টগ্রাম জেলা কর্তৃক আয়োজিত বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সভাপতি সৈয়দ লকিয়তুল্লাহ‘র সভাপতিত্বে মানবববন্ধন ও শিক্ষক সমাবেশ অনুিষ্ঠত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে ৬০/৭০ হাজার অবসরে যাওয়ার শিক্ষক-কর্মচারীদের দরখাস্ত স্তুপ হয়ে পড়ে আছে। এর জট খুলতে হলে বছরে ১২০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু ৫ লক্ষ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর নিকট ৬% হারে কর্তনকৃত অর্থ দাঁড়ায় ৬শ কোটি টাকা। বাকি প্রতিশ্রুত ৬শ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে ভুর্তুকি প্রদান করলে উক্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব। উল্লেখ্য যে, সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের অবসর ভাতার জন্য সরকার বছরে ১৬শ কোটি টাকা ভুর্তুকি প্রদান করেন। এই বৈষম্য শিক্ষক সমাজকে ভীষণ ব্যথিত করে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর নিকট শিক্ষক নেতৃবৃন্দের অনুরোধ শিক্ষক কর্মচারীর প্রারম্ভিক বেতন থেকে বাড়তি ৪% কর্তন করার গেজেট অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি এবং ৮ম পে-স্কেলে ঘোষিত চিকিৎসা ভাতা, বাড়ি ভাড়া, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বৈশাখি ভাতা প্রদান করে সমস্যার দ্রুত সমাধান করা। অন্যথায় ৫ লক্ষ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী শ্রেণিকক্ষ থেকে রাজপথে নেমে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশব্যাপি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। সভায় বক্তব্য রাখেন বাকবিশিস বিভাগীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক উত্তম চৌধুরী, শিক্ষক নেতা অঞ্চল চৌধুরী, নুরুল হক ছিদ্দিকী, প্রদীপ কানুনগো, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রফিক উদ্দিন, অধ্যাপক কানাই দাশ, অধ্যক্ষ আবুল মনসুর মো: হাবিব, খোরশিদ রোকেয়া, মো: মহসিন, অধ্যাপক অজিত দাশ, আ ক ম শহিদুল্লাহ, অধ্যাপক শ্যামল দাশ, আলতাজ মিয়া, অধ্যাপক পুলক রায়, অধ্যাপক ভবরঞ্জন বণিক, উপাধ্যক্ষ দেবপ্রিয় বড়–য়া অয়ন, বিচিত্রা চৌধুরী, উপাধ্যক্ষ বশির উদ্দিন কনক, অধ্যাপক হামিদা বেগম, আমির হোসেন, অধ্যাপক আশরাফ উল্লাহ, অধ্যক্ষ সুধীর চক্রবর্ত্তী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*