শাহিদ খাকান আব্বাসী পাকিস্তানের অন্তর্র্বতীকালীন প্রধানমন্ত্রী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ জুলাই ২০১৭, শনিবার: পাকিস্তানের অন্তর্র্বতীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল)-এনের নেতা ও দেশটির খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তার ছোট ভাই পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।
শনিবার দুইটি পৃথক সভা করে নওয়াজ শরীফ ও ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) নেতারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পাকিস্তানের ডেইলি ডন সূত্রে এ সংবাদ জানা যায়।
শাহিদ খাকান আব্বাসী গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার অধীনেই পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত নতুন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাগ্রহণের আগ পর্যন্ত দায়িত্বপালন করবেন তিনি। তবে এ বিষয়ে কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি।
নিয়ম অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন পিএমএল-এন দলের প্রধান হওয়ার সূত্রে নওয়াজ শরীফ তার উত্তরসূরী হিসেবে একজনকে মনোনীত করতে পারেন। তার জায়গায় তার ছোট ভাই শাহবাজ শরীফকে মনোনীত করা হয়েছে।
পিএমএল-এন পাকিস্তানের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় শাহবাজ শরীফের বিষয়ে এখন পার্লামেন্টে সরাসরি ভোটাভুটি হবে।
পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে অযোগ্য ঘোষণা এবং নওয়াজের পদত্যাগের পর দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন– এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা চলে আসছিলো। এর মধ্যে আজ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো।
একই সঙ্গে পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন এই পদে দায়িত্বপালন করে আসা শাহবাজ শরীফ তার উত্তরসূরী হিসেবে কাওকে মনোনীত করতে হবে। বিভিন্ন সূত্রে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রদেশটির কর ও শুল্ক মন্ত্রী মুজতাবা সুজাউর রেহমান শাহবাজ শরীফের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
সর্বোচ্চ আদালতে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর শুক্রবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেন নওয়াজ শরীফ। এদিন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট নওয়াজকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করেন।
২০১৫ সালে পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারিতে নওয়াজের পরিবারের দুর্নীতির বিষয়টি উঠে আসে। এরপরেই নওয়াজ এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। তবে কোনো ধরনের দুর্নীতির কথা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন নওয়াজ শরীফ।
পাকিস্তানে কোনও বেসামরিক প্রধানমন্ত্রী কখনও পাঁচ বছরের মেয়াদ পুরো শেষ করতে পারেননি। তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া নওয়াজের মেয়াদ শেষ হতে আর এক বছরেরও কম সময় বাকি ছিল। আর সেই সময় শেষ হওয়ার আগেই বিদায়ের ঘোষণা দেন তিনি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: