শামীম ওসমান ও নূর হোসেনের সেই ফোনালাপ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৪ নভেম্বর: নারায়ণগঞ্জের সাত খুন ঘটনার পর অন্যতম সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ঢাকা থেকে ভারতে পালিয়ে যান। যাওয়ার আগে সরকারদলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন। সেখানে তিনি শামীম ওসমানের সাহায্য চান। তাদের দুজনের মধ্যকার টেলিফোন আলাপের অংশ বিশেষ এক দিন পরই ফাঁস হয়ে যায়। Nur Hossain
নূর হোসেন : ভাই, আমার কোনো দোষ নাই। আমি লেখাপড়া জানি না। আমার অনেক ভুল আছে ভাই। আপনি আমার বাপ লাগেন, ভাই। ভাই, আপনাকে আমি অনেক ভালোবাসি ভাই। আমার কোনো দোষ নাই।
শামীম ওসমান : খবরটা পাইছিলা …?
নূর হোসেন : হ, ভাই। জীবনটা আপনাকে দিয়া দিমু ভাই। আপনি আমার বাপ লাগেন ভাই।
শামীম ওসমান : সময় নাও। আরে তুমি এত চিন্তা করো না। সময় নাও।
নূর হোসেন : ভাই আমি লেখাপড়া জানি না। আমারে মাফ করে দিয়েন।
শামীম ওসমান : একটু সময় নাও। আর তুমি পারলে একটু গহুর দার কাছে যাও। এখন কোনো সমস্যা হবে না। আর তোমার ওখানে সিল নাই।
নূর হোসেন : না ভাই, আছে ভাই। কিন্তু যামু কেমনে? সব জায়গায় বলে অ্যালার্ট? প্রব্লেমে পড়লে, এখন রাত।
শামীম ওসমান : না কিছু নাই। মনে হয় না।
নূর হোসেন : ভাই তাইলে একটু খবর নেন না। আবার একটু ফোন দেই?
শামীম ওসমান : না আগাইতে থাকো।
নূর হোসেন : আমি লেখাপড়া জানি না। আমার অনেক ভুল আছে ভাই।
শামীম ওসমান : তুমি শুধু ওই জায়গাটাতে যাও। কিচ্ছু হবে না। চিন্তা করো না। তুমি অপরাধ কর নাই।
নূর হোসেন : ভাই জীবনে এমন ক্ষতি হইলো কেন ভাই। আমি কারও ক্ষতি করি নাই। আমার মনে অনেক জোর ভাই।
শামীম ওসমান : আমি জানি। ঘটনা অন্যভাবে … আমাদের দুজনকে, এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছে। ঠিক আছে, তোমাকে আমি অন্য একটা নম্বর দিব। ওখানে ফোন দিও।
এমপি শামীম ওসমানের বক্তব্য : এ প্রসঙ্গে শুক্রবার রাতে টেলিফোনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, ঘটনা ঘটার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরই আমি বলেছিলাম আইনশৃংখলা বাহিনীর দু-একজন এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। আর আমার বক্তব্যের সঙ্গে পরে তদন্ত মিলে গেছে। আমার বক্তব্য সঠিক বলেই প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, কিন্তু তদন্ত ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা বা কাউকে বাঁচানোর জন্য ওই সময় নূর হোসেনের সঙ্গে আমার টেলি কথোপকথন আংশিক অথবা এডিট করে প্রচার করা হয়।
তিনি জানান, আমি একজন জনপ্রতিনিধি, তাই সব ধরনের ফোন কলই রিসিভ করতে হয়। একজন জনপ্রতিনিধি ও দলের কর্মী হিসেবে আমি তার সঙ্গে কথা বলতেই পারি। কিন্তু কথার আংশিক প্রচার করে ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করা হয়। তিনি আরও জানান, নূর হোসেন আমাকে ফোন করে বললেন, ভাই, আমি ভুল করেছি। আপনার কথা শুনিনি। আপনি আমার বাপ লাগেন। আমাকে বাঁচান। আমি আপনার কথা না শুনে ভুল করেছি।
শামীম ওসমান আরও বলেন, নূর হোসেনের সঙ্গে যখন আমার কথা হয়েছে, তখন লাশ উদ্ধার হয়নি। কেউ ঘটনাটিও জানত না। আর ওই সময়েই সেই রেকর্ড প্রচার করা হয়। তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে শুধু একজন কাউন্সিলরের কথায় এত মানুষ খুন করা হতে পারে না। তখনও বিশ্বাস হয়নি, এখনও হয় না। এর পেছনে আরও কেউ ছিল। তবে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। সূত্র: ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

%d bloggers like this: