শাবির ক্লাস-পরীক্ষা শুরু আন্দোলনের মুখে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২২ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার: ১৭ দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষাসহ আবাসিক হল বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে প্রায় ২০ ঘণ্টা উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূইয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় জরুরি সিন্ডিকেট সভায় আজ থেকে ক্লাস-পরীক্ষাসহ ২৫ ডিসেম্বর থেকে হল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. কবির হোসেন জানান। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এ সিন্ডিকেট সভার আহ্বান করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূইয়া।
সভা শেষে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. কবির হোসেন বলেন, সভায় আমরা দুটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এগুলো হচ্ছে- বৃহস্পতিবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা চালু করা এবং ২৫ ডিসেম্বর থেকে ছাত্রদের আবাসিক হল খুলে দেয়া।
তবে শুধুমাত্র হলে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ওই দিন থেকে হলে অবস্থান করতে পারবে বলে তিনি জানান। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর পুলিশ রাতে শাহপরাণ, বঙ্গবন্ধু ও সৈয়দ মুজতবা আলী হলে অভিযান চালিয়ে ধারালো অস্ত্র, হাতবোমা ও গুলি উদ্ধার করে।
পরে বুধবার সকালে হল বন্ধের ঘোষণা আসে। উপাচার্য পরিকল্পিতভাবে ভর্তি জালিয়াতির বিরুদ্ধে চলমান অন্দোলনকে দমিয়ে দেয়ার জন্য ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করে  বন্ধ করে দিয়েছেন এমন অভিযোগ তুলে বুধবার বেলা ১১টা থেকে আন্দোলন শুরু করেন ক্যাম্পাসের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা ২টা থেকে প্রশাসনিক ভবন-২ এর কার্যালয়ে উপাচার্যকে  অবরুদ্ধ করে রাখেন। এসময় ওই ভবনের বিদ্যুৎসংযোগও বিচ্ছিন্ন করে বন্ধ করে দেন আন্দোলনকারীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রায় ২০ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখার পর জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে প্রশাসন বুধবারের সিন্ডিকেট সভার বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসে। এদিকে সিন্ডিকেট সভায় দাবি মেনে নেয়ায় ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র সারওয়ার তুষার বলেন, প্রশাসন ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই আমরা আমাদের আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। তবে জালিয়াত চক্রের মূলহোতাদের বের করে নিয়ে আসার দাবিতে আমাদের চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
অধ্যাপক কবির হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি সিন্ডিকেট সভায় পাস হয়েছে। উপাচার্য রাতেই শিক্ষার্থীদের দাবির পজিটিবলি দেখবেন বলে জানিয়েছিলেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর নাসের ইবনে আফজাল বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ায় অবরোধ তুলে ফেলেছে আন্দোলনকারীরা। বর্তমানে ক্যাম্পাস শান্ত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*