শব্দ দূষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

মাহমুুদুল হক আনসারী, ০৯ জানুয়ারী ২০১৭, সোমবার: নগরজীবনে নানা ভোগান্তির সাথে শব্দ দূষণ একটি নিয়মিত ভোগান্তি। সকাল বিকেল, রাত গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর হাট বাজার মাঠ,রাস্তা সর্বত্রই শব্দ দূূষণ অনিয়ন্ত্রিত, মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এ শব্দ দূষণের মাত্রা অতিমাত্রায় বৃৃদ্ধি পেয়েছে। মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় ইবাদত, প্রার্থনারত, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রী,মেডিকেল, ক্লিনিকের অসুস্থ রোগীদের শব্দ যন্ত্রণায় অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর যান চলাচলে অযৌক্তিকভাবে হরণের আওয়াজ হৃদরোগী, হার্টরোগী,নারী-শিশুদের মারাত্মকভাবে শব্দ দূষণের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নাগরিকদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে রাস্তা মার্কেট, বাজারে বের হতে হয়, ছাত্ররা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার উদ্দেশ্যে বের হতে হয়, পথে তাদের পড়তে হচ্ছে শব্দ দূষণের কবলে। গাড়ীর হরণের বিকট আওয়াজ রাস্তায় গাড়ীতে যাত্রী চলাচলের অনিরাপদ হয়ে পড়ছে, প্রশাসন, সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনসমূূহ মাঝে মধ্যে দু একটা কথা বললেও প্রশাসনের তেমন গরজ দেখা যায় না। শব্দ দূষণের ফলে হৃদরোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অতিমাত্রায় গাড়ীর হরণ বাজানো, প্রয়োজন অপ্রোয়জনে গাড়ীর হরণ, মাইকিং নিয়ন্ত্রেণে আনা দরকার। আইন থাকলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ মাঠে দেখা যাচ্ছে না। ফলে শব্দ দূষণের হাত থেকে নাগরিক জীবন অতিষ্ঠ হয়ে আছে। এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া চাই। অনুষ্ঠান আয়োজনকারীদেরকে ্আইনের মাধ্যমে যেখানে অনুষ্ঠান সেখানেই মাইকের ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাইকের ব্যবহার,হরণ বন্ধ করতে হবে। মাইক সাপ্লাইকারী প্রতিষ্ঠানকে আইনগতভাবে রাস্তায় একাধিক মাইক ব্যবহারে কঠোর হতে হবে নগরের প্রশাসনকে। মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে সিটি কর্পোরেশন পুলিশ কমিশনারের মাইকের সংখ্যা উল্লেখপূর্বক অনুমতি থাকতে হব্।ে জন চলাচলের বাইরে বিল বা স্কুল মাঠে অনুমতি সাপেক্ষে মাইক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে মাইক ব্যবহার করা যায়, এর পাশে রাস্তার পাশে মিটিংয়ের নামে দীর্ঘ এলাকা জুড়ে মাইকের ব্যবহার নাগরিকগণ ভালভাবে দেখছে না। এতে করে আয়োজনকারীদের প্রতি বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজনের দেখাদেখি অন্যজনেরাও লোকের চেয়ে মাইকের ব্যবহার বেশী করতে দেখা যাচ্ছে। ভাল কাজে প্রতিযোগিতার কথা ইসলামে আছে। কিন্তু সংগঠন ও নামকে প্রচারের জন্য প্রচলিত আইন ও ইসলামী শরিয়ত বিরুধী শব্দ দূষণ করে লাখ লাখ মানুষকে কষ্ট দেওয়া ধর্মীয়ভাবে গর্হিত কাজ। ধর্ম, তাহযিব তমুদ্দুন কোনটাই যত্রতত্র ম্ইাকের ব্যবহার সমর্থন করে না। বিনা প্রয়োজনে কাউকে কষ্ট দেওয়া কখনো মহত্তের কাজ হতে পারে না। এ ধরনের মন মানসিকতা থেকে সকল সচেতন মানুষকে বিরত থাকা দরকার। মাইকের ব্যবহার যত্রতত্র এটা কাম্য নয়, মাইক মানবজীবনে দরকার, যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু করতে হবে। আজকাল সে হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে না। মানুষ উপস্থিত ১০ জন সাউন্ড ব্যবহার হচ্ছে এক কিলোমিটারের জন্য। শহর গ্রাম সব ক্ষেত্রে এখন মাইকের সাইন্ড দিয়ে আওয়াজটাকে বহুদূরে পৌছানো হচ্ছে না। এত ক্ষতি নিয়মিত রোগীদের যারা বিভিন্œ ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে বিশ্রামে আছে তারা অতি মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে মানসিক রোগাক্রান্ত শিশু, মহিলা, বয়োবৃৃদ্ধ লোকজন। শব্দ দূষণের ফলে নিয়মিত রোগীরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, শব্দ দূষণ হচ্ছে ঘরে বাইরে বাজার দোকান সর্বত্র, কথা বলছে দুুইজনে সেখানে এমনভাবে আওয়াজ হচ্ছে যেখানে শত লোক থাকলেও তার শব্দ মালা কথা শুনবে , কিন্তু তার কথায় পাশে থাকা অন্য মানুষের যে ক্ষতি করছে সে দিকে যে গল্প বা কথা বলছে তার কোন দৃৃষ্টি নেই। কথা বলেই যাচ্ছে গল্পকারীরা, আশপাশের লোকজন ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে বিরক্ত করছে তা ঐ গল্পবাজ আড্ডাবাজদের নজর নাই। এটাও শব্দদূূষণ ও বিরক্তকর গল্পের মধ্যে পড়ে। সচেতন আলাপ গল্পকারীদের সর্বদা আশপাশ দেখে সতর্কতার সাথে নিজের শাবিদক গল্প আচরণ করা দরকার। দেখতে পাওয়া যায় শব্দ দূষণ স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, বাজার,গাড়ী,পরিবহণ, ফুটপাত,চা দোকানে শব্দ দুষণের ফলে অল্পবয়স্ক নারী শিশু বয়স্ক নারী পুরুষ খুব বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মানবজাতি তার নিজস্ব কর্মকান্ড পরিচালনা করতে গিয়ে শব্দ দূষণের কবলে পড়ছে প্রতিনিয়ত, মসজিদে মসজিদে ম্ইাকের আওয়াজ,মাহফিলে মাহফিলে শব্দের যুুদ্ধ, বাসায় বাড়িতে পাঠশালায়, অফিস, ব্যবসায়, খাবার টেবিলে সর্বত্রই শব্দ দূষণ ও উচ্ছ আওয়াজের কারণে মানবতার মস্তিস্ক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রতিটি মুহুর্র্তে, গাড়ীর হরণ আওয়াজ যত্রতত্র ব্যবহার আরেক বিরক্তিকর পরিস্থিতির দৃৃষ্টি করছে। যারা শব্দ দুষক সম্পর্কে জ্ঞাত, আর যারা জ্ঞাত না সকল্ইে ্এ অপরাধের সাথে কমবেশী সম্পৃক্ত। সরকারী বেসরকারী ভাবে শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে প্রচার প্রচারণা থাকলেও মূলত তার কার্যকারিতা নেই। মাইকের অনুমতি ব্যবহার কতটুকু কয় কিলোমিটার দেয়া যেতে পারে কত সাইন্ড বক্স প্র্রয়োজন ইত্যাদি নির্ণয়ও প্রয়োজন মাফিক দেয়া দরকার। তা না করে অনুমতি প্রদান করে মাইক ব্যবহার থাকলে আয়োজকগণ যা ইচ্ছা হরণ ব্যবহার করে শব্দ দূষণ সন্ত্রাস চালিয়ে মানব সমাজে মস্তিস্কের ক্ষতি করছে। মানুষের মেধা, শক্তি, চিন্তার বিকাশ বাধাগ্রস্থ করছে, শব্দ দূষণের ফলে অসুস্থ মানুষদের বড় ধরনের মানসিক চাপ পড়ছে বলেও মন্তব্য করছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। শব্দ দূষণ প্রতিরোধে সরকারী বেসরকারী কর্তাদের এগিয়ে আসতে হব্।ে ্আইনের যথাযত প্রয়োগ থাকতে হবে। শিষ্ঠের পালন দুষ্টের দমন, অন্যায়কারী আর অন্যায় সহ্যকারী সমান হয়না। অন্যায় আচরণকারীর বিরুদ্ধে যথাযত আইনের প্রয়োগ থাকতে হবে।্ না থাকার কারণে আজকে শব্দ দূূষণ নিয়মিত ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।্ শব্দ দূষণ মানবদেহে মারত্মক ক্ষতি ডেকে আনছে এটা থেকে রোগী অসুস্থ, সুস্থ মানুষদের সাথে সুস্থ মানুষদের সাথে ছাত্র ছাত্রীদের পড়ালেখার স্বার্থে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সময়ের দাবী। শব্দ মানুষকে উচ্চারণ করতেই হবে, তবে তা নিয়ন্ত্রণও করতে হবে। দেখা যায় রাস্তা, গাড়ী, দোকান, পরিবহনে বসার ভিতরে ও বাইরে শব্দ দূষণ দেখা যায়, কেউ কাউকে কিছু বলতে না পারলেও শব্দ দূষণের ফলে আশপাশের মানুষ নানাভাবে বিরক্তবোধ ও মানসিক চাপ বোধ করতে দেখা যায়। শব্দ দূষণ আইনত দন্ডনীয় অপরাধ, কিন্তু এটাকে কেউ অপরাধ হিসেবে মানতে চায় না। অনেক প্রকারের অপরাধকে আমরা অপরাধ হিসেবে মানতে চাই না। উচ্চস্বরে কথা বলা, আওয়াজ করা, মোবাইলে বিকট আওয়াজে বাক্য বিনিময় করা, হাটা চলায় অন্যের ক্ষতি করে হাত পা নেড়ে ফুটপাত দখল করে হাটা গাড়ীর হরণ মাত্রাতারিক্তভাবে বাজানো, যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং, ফুটপাত দখল করে যান চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করা সবকিছুই আইনগত অপরাধ। অপরাধ হিসেবে সংবিধান ও স্থানীয় প্রশাসনের বিধান খাতায় এসব লেখা আছে অপরাধ হিসেবে, কিন্ত আমরা এ অপরাধকে মান্য করছিনা, আইন বইতে আইন লেখা আছে আমরা কেউই তার বিধান মানছিনা। না মানার অভ্যাস আমাদের জন্মগত, মানার অভ্যাস আমাদের রপ্ত করতে হবে, না মানতে না মানতে আমরা অপরাধী হয়ে অপরাধ করছি, এটা আইন নয়, এটা অপরাধ, অপরাধ যেনেও অপরাধে লিপ্ত থাকব তা হয় না। অবশ্যই সুধরাতে হবে,চেষ্টা করতে হবে, ্আমার চাল চলন ব্যবহারে আমরা যে অপরাধ করছি সেটাকে বুঝতে এবং জানতে হবে। সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে, অন্যকে সাধ্যমত বুঝাবার দায়িত্ব সকলের, আপন আপন স্থান থেকে প্রত্যেককেই শব্দ দূষণে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে। শব্দ দূষণ, শব্দ সন্ত্রাস শব্দ দিয়ে মানুষকে কষ্ট দেয়া অপরাধ, এ অপরাধ থেকে বিরত থাকতে হবে।হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ। তারপরও হাইড্রোলিক হর্ণ বাজানো হচ্ছে সারাদেশের বিভিন্ন অংশে এ হর্ণের বিকট আওয়াজে পথচারীরা অতিষ্ঠ অনেকেই এ বড় ধরনের হর্ণের আওয়াজ বুঝে ওঠতে পারে না। মোটর সাইকেল, অটোরিক্সা, মিনিবাস, প্রাইভেট কারেও হাইড্রোলিক হর্ণ বাজাতে দেখা যায়। বেপরোয়া হাইড্রোলিক হর্ণ বাজানো নিষিদ্ধ থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে ফলে শব্দ দূষণ বাড়ছে। যানবাহনের হর্ণ শব্দ দূূষণের অন্যতম কারণ যে কোন যানবাহনেই উচ্চ মাত্রাই হাইড্রোলিক হর্ণ বাজানো হচ্ছে। ফলে মানবদেহের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে শব্দ দূূষণের ফলে শ্রবণ শক্তি ও মনোবল কমে যায়, রক্তচাপ বেড়ে যায়। হাইড্রোলিক হর্ণ নিষিদ্ধ থাকা সত্তেও এক শ্রেণীর চালক তা মানছে না। ১৯৮৬ সালের মোটরযান বিধিমালা এবং ২০০৬ সালের শব্দ দূষণ বিধিমালায় হাইড্রোলিক হর্ণের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উদ্বেগকারী যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ আছে। দুঃখজনক হলেও তার ব্যবহার বিদ্যমান। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকদের চোখের সামনেই আইন ভঙ্গের এ কাজটি চলছে। তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। মসজিদ,মন্দির,গীর্জা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে সব ধরনের হর্ণ বাদ্যবাজনা বাজানো নিষিদ্ধ। হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য সরকারের দ্বিমুখী নীতিকে দায়ী করছে বিশেষজ্ঞরা একদিকে হর্ণের আমদানি নিষিদ্ধ থাকলেও হর্র্ণের ব্যবহার নিষিদ্ধ হচ্ছে না। হর্ণের আমদানি ভিত্তি অবাদে চলছে ফলে আইন কার্যকর হচ্ছে না। শব্দ দূষণ থেকে বাঁচতে হলে হাইড্রোলিক হর্ণ আমদানি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় এ হর্ণ ব্যবহার বৃদ্ধি পেতে থাকবে শব্দ দূষণ বাড়বে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে। ্আশা করছি সরকার আর দেরি না করে হাইড্রোলিক হর্ণের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়ে শব্দ দূষণ থেকে জাতিকে রক্ষা করবেন। জাতি সেটাই প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা করে। লেখক: মাহমুদুল হক আনসারী, সংগঠক, গবেষক, কলামিষ্ট। ইমেইল: mh.hoqueansari@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*