শত শত শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক ভারতীয় গ্রেপ্তার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৬ জানুয়ারী ২০১৭, সোমবার: শত শত শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। তার নাম সুনীল রাস্তোগি। ৩৮ বছর বয়সী ঐ ব্যক্তি ১২ বছরে ৫০০ শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। আরও আড়াই হাজারের বেশি শিশুর ওপর নির্যাতন চালানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
গতকাল রবিবার দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিন কারাহেফাজতে রেখে পুলিশদের জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেন।
২০০৬ সালে এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরে ৬ মাস জেল খাটতে হয়েছিল তাকে। পেশায় দর্জি এই সুনীল রাস্তোগি।
পুলিশকে সুনীল জানান, স্কুল বা টিউশন ফেরত বাচ্চাদের ‘শিকার’ বানাতেন তিনি। তাদের চকোলেট বা নতুন জামা দেয়ার লোভ দেখিয়ে তুলে নিয়ে যেত কোনো পরিত্যক্ত স্থানে। সেখানেই শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাত বিকৃত মস্তিষ্কের এই ব্যক্তি।
দিল্লির তিনটি, রুদ্রপুরের দুটি ও বিলাসপুরের একটি মামলার সঙ্গে সুনীলের যোগ রয়েছে। ১৯৯০ সালে কাজের খোঁজে বাবা-মাকে নিয়ে দিল্লিতে গিয়েছিল সুনীল। সেখানে একটি দর্জির দোকানে কাজ শুরু করেন। ২০০৪ সাল থেকে শুরু হয় তার এসব কাজ। ২০০৬ সালে কৃষিজমিতে এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অপরাধে ৬ মাস কারাভোগ করতে হয় তাকে। প্রতিবেশীরা সুনীল ও তার পরিবারকে মহল্লা থেকে বের করে দেয়। বিলাসপুরে গিয়ে তারা বাড়ি ভাড়া করে থাকতে শুরু করে।
গত বছর ১৩ ডিসেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সুনীলের যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ১০ বছরের এক শিশুকন্যা। বাড়ি ফিরে সে কিছু না বললেও, তার আচরণগত পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয় বাবা-মায়ের। তারা মেয়ের কাউন্সেলিং করে জানতে পারেন সব ঘটনা। এরপর শিশুটির বর্ণনা অনুযায়ী অপরাধীকে খোঁজার কাজ শুরু করে দিল্লি পুলিশ। গত ১০ জানুয়ারি আরও দুটি পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তাদের ৯ ও ১০ বছর বয়সী শিশুকন্যাদের অপহরণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের যৌন নির্যাতনেরও চেষ্টা করা হয়। পুলিশ ওই শিশুদের উদ্ধার করার পর জানতে পারে, তাদের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল এক ব্যক্তি। তদন্তে নেমে পুলিশকর্মীরা পৌঁছে যান সেই জায়গায়। সেখানেই একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে ওই নাবালিকাদের ওপর যৌন নির্যাতনের চেষ্টা হয় বলে পুলিশকে জানায় তারা। কিন্তু বাচ্চাদের চিৎকারে পালিয়ে যায় সে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। তাতে ধরা পড়ে সুনীলের ছবি। এরপরই সুনীলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, জেরায় সুনীল স্বীকার করেছে একটা-দুটো নয়, গত ১২ বছর ধরে অসংখ্য শিশুর ওপর নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছেন তিনি। তিন মেয়ে ও দুই ছেলের বাবা সুনীলের মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। তারা সুনীলের নির্যাতনের শিকার হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*